আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত দিবস

0

 

এমএ হান্নান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে লালমনিরহাট জেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়। ত্রিমূখী আক্রমন চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা লালমনিরহাটকে শত্র“মুক্ত করেছিল। নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে লালমনিরহাটে দিবসটি পালিত হবে। ৭১ সালের এই দিনে সুর্যোদয়ের সাথে সাথে বাংলার বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধারা জয়বাংলা শে¬াগান দিয়ে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছিলেন। রেলওয়ে বিভাগীয় শহর খ্যাত লালমনিরহাট ছিল অবাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকা। বিহারীদের সহযোগিতায় ৪ ডিসেম্বর লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের রিক্্রা স্ট্যান্ডে সারিবদ্ধ করে রেলওয়ে সরকারী- কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ নিরীহ বাঙ্গালিদের পাকহানাদার বাহিনীরা নির্বিচারে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ৪এপ্রিল পাক বাহিনী বাঙ্গালীদের ধরে নিয়ে আসে রেলওয়ে রিক্সা ষ্ট্রান্ডে। ওই দিন সবচেয়ে বড় হত্যাকান্ড সংগঠিত হয় এখানে। মুক্তি যোদ্ধা, ছাত্র, চাকুরীজীবি সহ শতাধিক বাঙ্গালীকে এখানে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে এদের লাশ জড়ো করে রেলওয়ে গন কবরে পুতে রাখা হয়। ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা তিন দিক থেকে আক্রমন চালিয়ে লালমনিরহাট শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমূখি আক্রমনে টিকতে না পেরে খান সেনারা পিছু হটতে থাকে। পরে তারা লালমনিরহাট রেলওয়ে ষ্টেশনে জড়ো হতে থাকে। সেখান থেকে ট্রেন যোগে লালমনিরহাট শহর ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকসেনারা। যাওয়ার পথে রেলওয়ে তিস্তা ব্রীজের দুটি গার্ডার বোমা মেরে ধ্বংস করে পাক বাহিনী। মুক্তি যোদ্ধারা বিজয় শ্লোগান দিয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় এসে সমবেত হয়। এখানে তারা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দিয়ে লালমনিরহাটকে শত্র“মুক্ত ঘোষনা করে। আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তোরণ নির্মান সহ নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে লালমনিরহাট মুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে। মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদর উপজেলা কমান্ডার আবু বকর সিদ্দিক অবিলম্বে স্বাধীনতা বিরোধী ও মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরসহ সারাদেশে অভিযুক্ত ও চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা তৈরী করে তাদেরও বিচারের করার দাবী জানান।

Leave A Reply