আন্দোলনে উত্তাল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সোমবার মহাসমাবেশ  -সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা  

0

বেরোবি প্রতিনিধি,রংপুর:

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী,শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের চলমান বহুমুখী আন্দোলন থেকে আগামী সোমবার মহাসমাবেশ ও আজ হতে সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। গতকাল উপাচার্যকে ৩০ নভেম্বর বেধে দেওয়া দাবি মেনে নেওয়ার ৭২ ঘন্টার(৩ দিন) আল্টিমেটাম শেষে আন্দোলনরত সকলের পক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. সাইদুল হক এই ঘোষনা দেন। ঘোষনাকালে তিনি সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আগামী আন্দোলন কর্মসূচি সফল করার জন্য সার্বিকভাবে সহযোগীতা কামনা করেন। তবে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলানো ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেবচনা করে সকল একাডেমিক কার্যক্রম চালু থাকবে। জানা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি আদায়ের বহুমুখী আন্দোলনে উপাচার্যকে বেধে দেওয়া ৩ দিনের(৭২ ঘন্টা) আল্টিমেটামের শেষ দিনে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সকাল ১১ থেকে দাবি নিয়ে স্ব স্ব ব্যানারে প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিন গেটে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, রসায়ন, পদার্থ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলে দলে প্রতিবাদ অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন। প্রতিবাদ অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. সাইদুল হক, সাধারন সম্পাদক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মন, নির্বাহী সদস্য রাফিউল আজম খান ও আন্দোলনকারী বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন দাবি বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন। বক্তৃতা কালে  সকলের পক্ষে শিক্ষক সমিতির নির্বাহী সদস্য মো. রাফিউল আজম খান উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান দাবি আদায়ের আন্দোলন একমাত্র উপাচার্যরই সৃষ্টি, তাই এর সমাধান ও দায়ভার উপাচার্যকেই নিতে হবে। দাবি আদায়ের দীর্ঘ একমাসের এই আন্দোলন আজ চুড়ান্ত পর্যায়ে। আজ সকল শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীগণ মাঠে নেমে এসেছে, আর উপাচার্য এসি রুমে বসে সমাধানের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে নিজের স্বার্থ আদায়ে বেখেয়াল  হয়ে বসে আছেন, যাদেরকে নিয়ে আপনি উপাচার্য তারাই যদি আজ আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, তবে আপনাকে বুঝতে হবে আপনি আপনার চেয়ারে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। উক্ত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সকল শিক্ষার্থীদের  পক্ষে তাদের যাবতীয় দাবি নিয়মিত ক্লাসরুম, ল্যাব, পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষক নিয়োগ, লাইব্রেরীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বই সরবরাহ ইত্যাদি দাবিগুলো দ্রু ত বাস্তবায়ন না হলে আরো কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে বলে শিক্ষার্থীরা জানান। প্রতিবাদ অবস্থান ও কর্মসূচি ঘোষনা শেষে আন্দোলনে অবস্থানরত সকলে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রসাশনিক ভবনের দক্ষিণ গেইটে শেষ হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বহুমুখী আন্দোলন ও বিভিন্ন আল্টিমেটামের বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. একেএম নূর-উন-নবী সাংবাদিকদের বলেন, “পৃথিবীর কোন সমস্যাই একদিনে  সমাধান হয়নি, আমি চলে গেলেই যে আলাদিনের চেরাগের মত এই সমস্যার সমাধান হবে তা কিন্তু নয়। আমাদেরকেই সম্মিলিত ভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। আসুন আলোচনা করুন, সকলে একটু ধৈর্য্য ধরুন। আমি এই বিশ্ব বিদ্যালয়ের কোন ক্ষতি চাই না,এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বর্তমান সমস্যার সমাধান করতে আমি চেষ্টা করতেছি। এজন্য ১২ অথবা ১৩ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে কথা হবে।”  শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা ল্যাবের বিষয়ে তিনি বলেন,“ ইউজিসি’র কাছে প্রজেক্ট ফাইল পাঠানো হচ্ছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”

 

Leave A Reply

Pinterest
Print