আমনের ক্ষতি বোরোয় পোষাতে ব্যস্ত নড়াইলের কৃষকেরা

0

নড়াইলউজ্জ্বল রায়, নড়াইল: নড়াইলে এবছর আমন ধানের ভাল ফলন হলেও আশানুরুপ দাম না পেয়ে জেলার কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আর সেই আমনের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। বছরের পর বছর ধানের কাংখিত দাম না পেয়ে ধান চাষের উৎসাহে কিছুটা ভাটা পড়লেও থেমে নেই নির”পায় কৃষক । নতুন করে আশায় বুকবেঁধে আবারো মেতে উঠেছেন বোরো আবাদে। লাভ-লোকসান যাই হোক পূর্ব পুর”ষের পেশাকে আঁকড়ে ধরেই তারা একটু ভালভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নড়াইল জেলার তিনটি উপ জেলায় ৪২হাজার ১৩৪ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতো মধ্যে ৮৫ ভাগ ধান জমিতে রোপন করা হয়েছে। বাকি ১৫ ভাগ রোপন করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে।

অনুকুল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যার কারনে নড়াইলের তিনটি উপজেলায়ই আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। ফলনে কৃষকেরা খুশি হলেও ধানের দাম কম থাকায় হতাশা বিরাজ করছে তাদের মাঝে। প্রতি মন আমন ধানে কৃষকের ১২০-১৫০ টাকা ঘাটতি হয়েছে। আর সেই ক্ষতি পোষাতে বোরো আবাদে কৃষাণ কৃষাণীর ব্যস্ততার ছবি এখন নড়াইলের মাঠে মাঠে। বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ, জমির আগাছা পরিস্কার, জমি তৈরি, চারা রোপনসহ বোরো আবাদে তাদের ব্যস্ততার প্রানবন্ত নানা দৃশ্যপট যে দিকে দুচোখ যায়। ভাল ফলন পেতে সার ছিটানো, সেচদেওয়াসহ ক্ষেতের নানা পরিচর্যায় সকাল সন্ধা খেটে চললেও মনে শান্তি নেই তাদের। নির”পায় কৃষক পূর্বপুর”ষের পেশাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। এছাড়া কোন বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা বোরো আবাদ করছেন। কৃষি উপকরনের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে চাষাবাদ দরুহ হয়ে পড়লেও অনেক আশায় বোরো চাষকে ঘিরে নিরন্তর চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ। তাদের একটিই চাওয়া ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের শুভদৃষ্টি পড়বে ।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নড়াইলের তিনটি উপজেলার মধ্যে লোহাগড়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে জেলার কাড়ার বিল, নলদিরচর বিল, মরিচপাশার বিল, চাচই বিল, আকদিয়ার বিল, র”ইয়ের বিল, কৈয়ের বিল, ভাটিয়ার বিল, খলিয়ার বিল, হবশাৎরার বিল, মুলিয়ার বিল, আইড়োর বিল, বিল ইছামতির বিল, নুন জলার বিল, নলাবিল, মাইজ পাড়ার বিলসহ জেলার বিভিন্ন বিলে বোরোর আবাদ বেশি হয়েছে।
নড়াইল সদরের মুলিয়া গ্রামের কৃষক মনি শেখ জানান, আমি এবছরে ২ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলাম। ফলনও ভাল হয়েছিল কিন্তু বাজারে আমনের দাম কম থাকায় প্রতি মণ ধানে ১শ থেকে ১শ২০ টাকা ঘাটতি গেছে। চলতি মৌসুমে জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি আশা করছি সরকার আমাদের দিকে লক্ষ (খেয়াল) করবে এ বছর ধানের দাম বৃদ্ধি করবে ।

নড়াইল উজিরপুর গ্রামের কৃষক রাজা মিয়া জানান, এক মন ধান উৎপাদন করতে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হয় বর্তমান আমাদের বাজারে ধানের দাম অনেক কম। হাটে মণপ্রতি ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিমন ধানে কৃষকের ১০০ টাকারও বেশি ঘাটতি থাকে এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি প্রয়োজন। আশা কররি সরকার এ বছর ধানের দাম বৃদ্ধি করবে। আমনে যে ঘাটতি হয়েছির সেই ঘাটতি বোরোয় পুশিয়ে নিতে পারবো।

নড়াইল কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক শেখ আমিনুল হক জানান, চাষীরা ধানের কাংখিত দাম পাচ্ছেনা তাই তাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। এরকম চলতে থাকলে চাষিরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আশাকরি এ বছর আবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।

Leave A Reply

Pinterest
Print