এইচএসসিতে পাস ৭৮.৩৩%, পূর্ণ জিপিএ ৭০ হাজার

0

126-e1407922393987স্টাফ রিপোর্টার:
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।
দেশের আট হাজার ১০৪টি প্রতিষ্ঠানের ১১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭৪ জন শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত ৩ এপ্রিল থেকে ১৬ জুন দেশের দুই হাজার ৩৫২টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা হয়। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বার বার পরীক্ষা পেছানোয় এবং নতুন তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে হওয়ায় গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় হয়। পাস করে ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী; জিপিএ-৫ পায় ৫৮ হাজার ১৯৭ জন। এই হিসাবে চলতি বছর পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ পয়েন্ট। এছাড়া পূর্ণ জিপিএ
পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজার ৪০৫ জন।
আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এবার এইচএসসিতে ৭৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৯৪ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৮৫ দশমিক ০২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বোর্ডে, ৮৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম পাসের হার যশোর বোর্ডে, ৬০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এছাড়া সিলেট বোর্ডে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৭৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৭৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৭১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৭০ দশমিক ১৪ শতাংশ ও চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭০ দশমিক ০৬ শতাংশ পাস করেছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ২১৪ জন ছাত্র এবং ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৬ জন ছাত্রী। পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে আছে। ছাত্রীদের মধ্যে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, আর ছাত্রদের মধ্যে ৭৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ছাত্রদের মধ্যে পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে ৩৮ হাজার ৭৮৭ জন। আর এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে ৩১ হাজার ৮১৫ জন ছাত্রী। দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এবারের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
দেশ সেরা দশের ৬টিই ঢাকার: পরীক্ষার্থী, পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ভিত্তিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের মানদণ্ডে এবার দেশের সেরা ফল দেখিয়েছে ঢাকা বোর্ডের রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ওই মানদণ্ডে এ প্রতিষ্ঠানের অর্জন ৯৮ দশমিক ০৪ পয়েন্ট। রাজউক উত্তরা মডেলের ১ হাজার ২৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন বাদে সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০১ জন। এ নিয়ে টানা চার বার এইচএসসিতে দেশ সেরা ফল করল ঢাকার এই প্রতিষ্ঠানটি। এই মানদণ্ডে ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় এবং সারা দেশে তৃতীয় স্থানে থাকা নরসিংদীর আবুল কাদের মোল্লা সিটি কলেজের পয়েন্ট ৯৫ দশমিক ৮৮। এ প্রতিষ্ঠানের ৩৮৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৯৪ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা বোর্ডে তৃতীয় স্থানে থাকা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবস্থান সারা দেশে পঞ্চম। এ প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ৩৫৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ১৮৩ জন। সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর শতকরা হার, পাসের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠানের গড় জিপিএ- এই পাঁচটি সূচক মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। ৯৪ দশমিক ৪২ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ খিলগাঁও ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ সারা দেশের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম অবস্থানে থাকা ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের রমনা শাথার পয়েন্ট ৯৩ দশমিক ০৯। সারা দেশে এই কলেজের অবস্থান সপ্তম। ৯৩ দশমিক ০৪ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা বোর্ডে যৌথভাবে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা নটরডেম কলেজ ও ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সারা দেশে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান অষ্টম। উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের পয়েন্ট ৯২ দশমিক ৬২। ঢাকা বোর্ডে সপ্তম অবস্থানে থাকা এই কলেজ সারা দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকার এবার ১০ নম্বরে। এছাড়া ৯২ দশমিক ১২ পয়েন্ট নিয়ে ডেমরার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ ঢাকা বোর্ডে অষ্টম, ৯১ দশমিক ২৯ পয়েন্ট নিয়ে গুলশানের কিংস কলেজ নবম এবং ৯১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট নিয়ে গুলশানের ক্যামব্রিয়ান কলেজ বোর্ডে দশম অবস্থানে রয়েছে।

আট বোর্ডে সেরা প্রতিষ্ঠান: নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর শতকরা হার, শতকরা পাসের হার, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের গড় জিপিএ- এই পাঁচটি মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করা হয়েছে। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন। এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৯৮ দশমিক ০৪ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ২৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন বাদে সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০১ জন। ওই মানদণ্ডে ৯৫ দশমিক ১৭ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহী বোর্ডে সেরা হয়েছে রাজশাহী কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানের ৫৮৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে দুই জন ফেল করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১০ জন। কুমিল্লা বোর্ডে ৯১ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ। এই কলেজের ৫৩ জনের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৯০ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট পেয়ে যশোর বোর্ডে শীর্ষস্থান দখল করেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ। এই কলেজের ৫৩ শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন। চট্রগ্রাম বোর্ডে ৮৮ দশমিক ৬০ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। এই কলেজের ৪৫ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩ জন। ৯০ পয়েন্ট পেয়ে বরিশাল বোর্ডে শীর্ষস্থান দখল করেছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ। এই কলেজের ৪৯ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। সিলেট বোর্ডে ৯২ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে ঝিনাইদহ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই কলেজের ৪৮৮ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৪ জন। এছাড়া ৯৬ দশমিক ২৩ পয়েন্ট নিয়ে দিনাজপুর বোর্ডে শীর্ষ রয়েছে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। উত্তরাঞ্চলের এই কলেজের ৮৪১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮৩৯ জন পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৫৩ জন।
এবার দুই হাজার ৩৫২টি কেন্দ্রে আট হাজার ১০৪টি প্রতিষ্ঠানের ১১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ বছর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সরকারকে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ৯ এপ্রিল ঢাকা বোর্ডের এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা স্থগিতও করা হয়। স্থগিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৮ জুন। এছাড়া আরো কয়েকটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। বাংলা প্রথম পত্র, রসায়ন, পৌরনীতি, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ, জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থাপনা, সমাজ বিজ্ঞান এবং ক¤িপউটার শিক্ষা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রেরসহ মোট ২৫টি বিষয়ে এবার সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়েছে।

 ফল পুনঃনিরীক্ষা: রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ১৪ থেকে ২০ অগাস্ট পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে বলে বলে আন্তঃবোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে জঝঈ লিখে ¯েপস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে ¯েপস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ¯েপস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর-চওঘ) দেয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে ¯েপস দিয়ে ণঊঝ লিখে ¯েপস দিয়ে পিন নম্বর লিখে ¯েপস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ’ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।

Leave A Reply