কালকিনির আলোচিত জাহিদ হত্যা মামলায় অবশেষে চার্জশিট দাখিল

0

downloadআশরাফুর রহমান কালকিনি(মাদারীপুর) প্রতিনিধি
এক বছর পরে অবশেষে কালকিনির আলোচিত জাহিদ হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ ফয়সাল হাওলাদার। আর এতে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা সঞ্চার হয়েছে বাদীর পরিবারে। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে বিচারের রায় না হওয়া পর্যন্তু পুরোপুরি মানসিক স্বস্তি হবেনা বলে নিহত জাহিদের পরিবারের আক্ষেপ। অপরদিকে আসামীরা জামিনে বেড়িয়ে মামলা তুলে নিতে বাদীর পরিবারের ওপর বিভিন্ন ভাবে চাঁপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের পরিবার, গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, গত বছরের ৩অক্টোবর যাত্রীবেসে ভাড়ায় মোটরসাইকেলে চড়ে মাদারীপুরের শিবচরের চরকেশবপুর গজারিয়া কান্দি গ্রামে বসে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ছিনতাইকারীরা পেছন থেকে কালকিনি পৌর এলাকার পশ্চিম মিনাজদি গ্রামের মালেক মোল্লার ছেলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক জাহিদ মোল্লাকে ছুরিকাঘাত করে । আর গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে গেলে আহত জাহিদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় সে মারা যায়। এঘটনায় নিহতের ভাই নূরে আলম মোল্লা বাদী হয়ে ঘটনার হোতা কালকিনি পৌর এলাকার দক্ষিন মিনাজদি গ্রামের জালাল ঘরামির ছেলে রানা ঘরামি ও রাসেল ঘরামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গেলে মামলা গ্রহন নিয়ে শিবচর থানা ও কালকিনি থানা রশি টানা টানি শুরু করে। এনিয়ে নিহত জাহিদের গ্রামবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। এতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে অবশেষে শিবচর থানায় মামলা গ্রহন করা হয়। কিন্তু মামলা নিলেও আসামীদের গ্রেফতার করতে গড়িমসি করে পুলিশ। অবশেষে ঘটনার ৮মাস পরে আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আর আসামী রানা ও রাসেল স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়ে এর সাথে উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামের হাবিবুল সিকদারের ছেলে হাফিজুল সিকদার(২৫)ও জড়িত বলে তথ্য দেয়। পুলিশ তথ্যের ভিত্তিতে হাফিজুলকেও গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তবে মামলার চার্জশিট দাখিল নিয়ে ফের গড়িমসি শুরু করে পুলিশ। আর অবশেষে চলতি বছরের গত ১৮ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এতে উল্লেখ করা হয় মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের জন্য হত্যা করা হয় জাহিদকে।
এব্যাপারে মামলার বাদী নিহতের ভাই নূরে আলম মোল্লা অভিযোগ করে বলেন ‘ চার্জশিট দাখিল হওয়ায় আমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে ঠিকই। তবে আসামীরা জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে চাঁপ প্রয়োগ করছে। এতে আমরা ভিত হয়ে পড়ছি।’

Leave A Reply

Pinterest
Print