খাসিয়ামাড়া নদীতে সেতু না থাকায় দূর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

0

IMG_20150927_220130

আশিস রহমান, দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি:  সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামাড়া নদীতে সেতু না থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সুরমা ও লক্ষীপুর ইউনিয়নের সতেরোটি গ্রামের আনুমানিক প্রায় তিরিশ হাজার সাধারণ মানুষজন ও শিক্ষার্থীদের। নদীতে সেতু না থাকায় এভাবেই রশি টেনে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাওর পাড়ের জনসাধারণকে ওই পাহাড়ি নদী পারি দিতে হয়। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও দোয়ারার হাওর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার কাংক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। প্রত্যন্ত অঞ্চল খ্যাত সুরমা ইউনিয়নের হাওরপারের মানুষ এখনো সর্বদিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। দেশ ডিজিটালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ অবহেলিত হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডিজিটালের ছোয়া মাত্র লাগেনি বললেই চলে। সুরমা ইউনিয়নের হাওরপারের কৃষি নির্ভর ও মৎস্যচাষে বিখ্যাত দশ-পনেরটি গ্রামে দীর্ঘ চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে মৎস্য খামার, সবজি চাষ ও বোরো ধান আবাদ করে আসছেন। খাসিয়ামাড়া নদীর টেংরা-আলীপুর বাজারের নিকটবর্তী সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও আজ অবধি এখানে কোনো সেতু নির্মিত হয়নি। যে কারনে সুরমা ও লক্ষীপুর ইউনিয়নের টেংরাটিলা, আলীপুর, আজবপুর, গিরিসনগর, নূরপুর, সুলতান পুর, বড়কাটা, বৈঠাখাই, হাছনবাহার, এড়োয়াখাই, রসরাই, সোনাপুর সহ অন্তত সতেরোটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থীদেরকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয় প্রশাসনসহ মাননীয় সংসদ সদস্যকে অত্র এলাকার দূর্ভোগ বিবেচনা করে নদীতে সেতু নির্মাণের কথা বার বার বলা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।প্রতিবারই সবাই শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।সেতুর অভাবে দূর্ভোগের অন্ত নেই এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাসিয়ামাড়া নদীতে সেতু নির্মাণের দাবিতে এলাকা বাসী মানববন্ধন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। সেতুর অভাবে দুর্ভোগের অন্ত নেই এখানকার বাসিন্দাদের। খাসিয়ামারা নদীটি পাহাড়ি হওয়ায় এমনিতেই আতঙ্কে থাকেন দুই তীরের মানুষজন। একটু বৃষ্টিপাত হলেই পাহাড়িঢলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। সারাদেশের কোথাও বন্যা না থাকলেও পাহাঢ়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যায় দুই ইউনিয়নের শত শত বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি। বর্ষায় নদীতে থাকে প্রচন্ড স্রোত। এরই মধ্যে ছোট্ট হাত নৌকায় রশি টেনে দুই তীরের মানুষদের পারাপার হতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। উপজেলা সদর ও জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের আর কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় রশি টেনে নৌকা পারি যে কত ভোগান্তির তা ওই অঞ্চলের মানুষজনই ভাল জানেন।

সরেজমিনে কথা হয় আলীপুর গ্রামের মৎস্য খামারি আব্দুর রহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সেতু না থাকায় আমরা যে কত দুর্ভোগে আছি কেউ দেখে নাকি। আপনারা আসছেন একদিন। আর আমরা বার মাসই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে নদী পারাপার হতে হয়’। একই গ্রামের মশিউর রহমান মাস্টার জানালেন, কৃষি নির্ভর ৮-১০টি গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ সবজি উৎপাদন করেন। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিভাগীয় শহর সিলেটসহ সারাদেশে যায় ওই এলাকার বিষমুক্ত উন্নত জাতের সবজি ও মাছ। কিন্তু খাসিয়ামারার আলীপুর বাজারের নিকটে সেতু না থাকায় যাতায়াত অসুবিধার কারণে এক সময়ে পানির দরে বিক্রি করতে হয় এখানকার উৎপাদিত সবজি ও মাছ। তখন কৃষকদের চেয়ে মধ্যস্বত্তভোগীরাই বেশি লাভবান হয়। সেতু নির্মিত হলে জেলা শহর ও বিভাগীয় শহর থেকে সরাসরি এ অঞ্চলে যানবাহন অনায়াসে আসতে পারবে। তখন সঠিক মূল্য পাবেন চাষীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন জানান, সেতু না থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল পরিবহন করতে অধিক ব্যয়বার বহন করতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী বদরুজ্জামান জানান, বর্ষা কালে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। যে কারনে ঐ সময় বেশিরভাগ অভিভাবকরাই তাদের সন্তানদেরকে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে দেন না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, টেংরাটিলা সারাদেশের মানুষজনই চেনে। কিন্তু ওই এলাকায় নদীতে ব্রিজ না থাকায় সত্যিই জনসাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমি নিজেও সম্প্রতি ঝুঁকির মধ্যে হাত নৌকায় নদী পার হয়েছি। এখানে সেতু নির্মাণের বিষয়ে সংসদ সদস্য মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান তিনি।

Leave A Reply

Pinterest
Print