চট্টগ্রামে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ভল্টে বিভিন্ন ব্যাংকের টাকা

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আইনগতভাবে নিষেধাজ্ঞা সত্যেও অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ভল্টে বিভিন্ন ব্যাংকের টাকা গচ্ছিত রাখার সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ আইন অনুযায়ী তৃতীয় কোন পক্ষের কাছে নগদ টাকা গচ্ছিত রাখতে পারে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তাই একটি ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংকগুলোর প্রতি এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর ভোরে নগরীর খুলশী এলাকায় বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা গ্র“প ফোরের অফিস থেকে ৩ কোটি টাকা চুরি হয়। প্রথমদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও পরদিন মামলার এজাহার দেখে নড়ে-চড়ে ওঠে প্রশাসন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান না হওয়া সত্যেও প্রতিষ্ঠানটির কথিত ভল্টে ৫৪ কোটি টাকা ছিলো বলে উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী তৃতীয় কোন পক্ষের কাছে নগদ টাকা গচ্ছিত রাখতে পারে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জোদ্দার বলেন, “এ অঞ্চলের ব্যাংকিং সংগঠনগুলোর প্রধানদেরকে ডেকে বৈঠক করেছি, যেন তারা আইনের মধ্যে থেকেই তাদের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা করেন।” নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর নিজস্ব কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা রক্ষী দিয়েই নগদ টাকা পরিবহন করতে হবে। কিন্তু জনবল সংকট ও দ্রুত কাজ করার তাগিদে তা মানতে পারছেনা ব্যাংকগুলো বলে জানান কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড চট্টগ্রাম এর মহাব্যবস্থাপক আবু নাসের চৌধুরী বলেন, “যেই পরিমাণ গার্ড ও আর্মস থাকা উচিত, তা আমাদের নেই। তাই আমরা প্রাইভেট সিকিউরিটি ব্যবস্থা দিয়েই কার্যক্রম চালাই।” তবে কোন ব্যাংক ভিন্ন কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে নগদ টাকা বা ভল্ট ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর করতে চাইলে তার জন্য সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জোদ্দার বলেন, “যদি ব্যাংকের প্রয়োজন হয় ভিন্ন কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে ক্যাশ বা ভল্ট হস্তান্তরের, তাহলে তাকে অবশ্যই সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করতে হবে।” এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সতর্কতা নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে দাবি করেন বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তারা। সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম অঞ্চল মহাব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমরা নিজস্ব সিকিউরিটির মাধ্যমে পারলে করি, নাহলে পুলিশ বা প্রাইভেট কোম্পানির সাহায্য নেই।” বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম শাখার অধীনে সরকারি-বেসরকারি ৫৭টি ব্যাংকের প্রায় ৫ শতাধিক শাখা রয়েছে। আর এসব শাখায় প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়।

Leave A Reply

Pinterest
Print