জিয়ানগরে আর্সেনিক ঝুকিতে ১৯ হাজার পরিবার বিশুদ্ধ পানির সংকট, নিম্নমানের পিএসএফ নির্মান

0

SAM_2032

কেফায়েত উল্লাহ, জিয়ানগর, পিরোজপুর:  উপকুলীয় এলাকা পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার প্রায় ১৯ হাজার পরিবার আর্সেনিক ঝুকিতে রয়েছে। আর্সেনিকযুক্ত চিহ্নিত নলকুপগুলোর পানি পান নিষিদ্ধ করা হলেও বিকল্প পানি ব্যবস্থা করা হয় নাই। ফলে উপজেলার ৩৫টি গ্রামের ১৯হাজার পরিবারে এখন আর্সেনিক ঝুকিতে রযেছে। পানি পান নিষিদ্ধ করা ওই নলকূপগুলোয় সর্তকসংকেত হিসেবে লাল রং দেওয়া প্রলেপ গত এক যূগে ধূয়ে-মুছে গেলেও নতুন করে প্রলেপ দেওযা হযনি। সময়ের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা ভূলে ওইসব নলকুপের পানি ব্যবহার করায় আর্সেনিকের ঝূকি আরও বেড়ে গেছে। জানা যায়,উ পজেলার আর্সেনিকের মাত্রা জেলার অন্য উপজেলার থেকে এই উপজেলায় বেশী। আর্সেনিক মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের আওতায় একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা বালিপাড়া, পাড়েরহাট ও পত্তাশী ইউনিয়েনে এক যূগ আগে টিউবওয়েলে আর্সেনিকের ওপর পরীক্ষা- নিরীক্ষা চালায়। সে সময় ওই ইউনিয়নগুলোর ৩৫ টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধীক মানুষের কয়েক হাজার নলকূপের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যায়। ওই সব নলকুপের পানি যাতে কেউ পান না করে, সেজন্য সেগূলোর গায়ে লাল রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল। এর পর ওই এলাকার আর্সেনিক ঝূকিপূর্ন লাল চিহিৎত নলকুপের পানি পানে স্থানীয়রা কিছু দিন বিরত থাকেন। কিন্তু বিকল্প পানির ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে সবাই ঝূকি জেনেও ওই সব নলকুপের পানি পান করতে থাকেন।

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক জানান, কয়েক মাস আগে পিডিভি-৩ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নলকুপে আর্সেনিকের মাত্রা পরীক্ষা করে ১৪ টি প্রতিষ্ঠানের নলকুপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যায়। সাথে সাথে আমরা ওই নলকুপের পানি পানের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট থাকায় পিএসএফ এর মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তবে পিএসএফ এর প্রসঙ্গে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে পিএসএফ গুলো সরকারী ভাবে প্রদান করা হচ্ছে তা অত্যন্ত নিæমানের। এছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিæমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করায় সল্প সময়ে অকেজ হয়ে পড়ছে এই পিএসএফ গুলো। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট থেকেই যাচ্ছে।

অপর দিকে উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ইউনিয়ন গুলোতে কোন গভীর নলকুপ নেই। দীর্ঘ কয়েক বছর পূর্বে বালিপাড়া ইউনিয়নে গভীর নলকুপ স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় পত্তাশী ও বালিপাড়ায় আর কোন গভীর নলকুপ স্থাপনের চেষ্টা করা হয় নাই বলে জানা যায়। বিশুদ্ধ পানির সংকটে বাধ্য হয়ে উপজেলার অধিকাংশ বাসীন্দা খাল, নদীসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ের পানি পান করে প্রায়ই পানি বাহিত রোগের শিকার হচ্ছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ভান্ডার বিভাগ খালিশপুর, খুলনার এর উদ্দোগে জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২টন ট্রাক মাউন্টেড মোবাইল ডিস্যালিনেশন ওয়াটার সাপ্লাই ইউনিট বিশুদ্ধ পানী সরবরাহের জন্য ভ্রম্যমান হিসেবে কাজ করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইয়িলয়া শেখ জানায় আমরা দক্ষিনাঞ্চলের খুলনা ও বরিশাল এলাকায় ৩০টি ভ্রম্যমান মোবাইল ট্রিটমেন্ট প্লান্ট টিম কাজ করছি। দুর্গম এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের চেষ্ঠা চালাচ্ছি।

Leave A Reply

Pinterest
Print