জিয়ানগরে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

0

kজিয়ানগর প্রতিনিধি, পিরোজপুর : 
মেঘলা আকাশ ওদের ভয়, সূর্য রশ্নি আতঙ্ক, তবুও ওরা শিক্ষতে চায়, পড়তে চায়। প্রত্যান্ত অঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বৃষ্টিতে বন্ধ, রোদে ছুটি হয়। অথচ এটা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি জিয়ানগর উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে অবস্থিত। রাচন্দ্রপুর ১৫নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪২ সালে স্থাপিত হয়।বিদ্যালয়টি প্রায় ১৫ বছর যাবৎ ধরে শতভাগ পাশে সাফল্য। প্রতি বছরে পাচ্ছে বৃত্তি চলছে প্রায় ২ শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী খোলা আকাশের নিচে পাঠদান। উপজেলার প্রকৌশলীর বিভাগের ১৯৯৮ সালে নতুন ভবনটি নির্মানের পর থেকেই ছাদ ছুয়ে পানি পড়ে ফলে মাত্র ৬ বছর এ ভবনটি ব্যবস্থা অনুপযোগী হয়ে পড়ে যায়। তাৎক্ষনিক ভাবে প্রধান শিক্ষক অভিযোগ দিলে অমলে নেয়নি উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর। উপজেলা বিভিন্ন অধিদপ্তরে অভিযোগ করলে ও কোন সমাধান হয়নি। উপজেরার সমন্বয় সভা, আইনশৃঙ্খলা মিটিংওবিভিন্ন সভ ও সেমিনারে আলোচনা করলে সমাধানে পৌছেনে। ২৯/৯/১৩ ইং তারিখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত পত্রে বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ও ক্লাশ পাঠদানের নিরাপত্তা নয় উল্লেখ্য করে পত্র দেন উপজেলা প্রকৌশলী কে। বিভিন্ন বিভাগ তদন্ত শেষে ভবনটির ঝুকিপূর্ণ বিধায় কোন অবস্থায়ই ক্লাশ না করার জন্য নির্দেশ করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী, বিগত উপজেলা নির্বাহী ফিসার সিদ্ধার্থ সংকর কুন্ডু সহ উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেন। এছাড়া প্রতি বছরই জনপ্রতিনিধিরা পরিদর্শন করে ভবনটি নির্মানের প্রতিশ্র“তি দেয়। অদ্যবধি কোন কাজে আসছে না। গত শনিবার থেকে স্থানীয় সকল অভিভাবকরা স্কুলে ছাত্র/ছাত্রী না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এ ব্যাপারে গৌতম হালদার জানায় আমার ছেলেকে এই ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে আর পাঠাবো না। বৃষ্টি আসলেই যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমার ছেলের চাইতে লেখাপড়া বেশি বড় নয়। বাচ্চাকে বাসায় বসে পড়াব। এছাড়া নন্দিতা রাণী .বিউটিরানী, সবিতা,সিমা রানী হাবিবা বেগম, মনিকারানী নাছিমা বেগম সহ অনেকেই জানায় বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে জরার্জীন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরকার মেরামতের কোন ভুমিকা নিচ্ছে না এবং নতুন কোন ভবন তৈরী করছেনা। খোলাআকাশের নিচে বাচ্চারা ক্লাস করতে চাইনা এখন বাচ্চারা স্কুলে আসতে চায় না। আর একটি রানা প্লাজার মতন দূর্ঘটনার শিকার হতে চাইনাআমরা। এ ব্যাপারে রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ হালদার জানায় বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ নাজুক ও জরার্জীন্ন কোন মতেই ক্লাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যালয়টি ছাত্র/ছাত্রী উপস্থিতহার কমে যাচেছ। আমরা ব্যক্তিগত উদ্দ্যেগে স্কুল মাঠে তাবু টানিয়ে কোন মতে ক্লাশ নিচ্ছি। আবার অনেক ক্লাশ খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে। বিদ্যালয়টি নতুন ভবনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কোন সমাধান হয়নি। গত ২০১৪-২০১০৫ অর্থ বছরে এক লক্ষ টাকা বরাদ্ধ পেয়ে টিনের ছাউনি দিয়ে ঘর তৈরি করার প্রস্তুতি নিলে তা আবার মন্ত্রনালয়ে অনুমতি না পাওয়ার কারনে কাজ করার সম্ভব হয়নি। উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পূরবী রানী জানায় বিদ্যালয়টি ভবনটি সম্পূর্ণ ঝুকিপূর্ণ। তাই সাইক্লোন সেল্টার কাম প্রাইমারী বিল্ডিং হলে এলাকার বিভিন্ন দুর্যোগ হাত থেকে রেহাই পাবে ও বাচ্চাদের লেখা পড়ার ভাল হবে। তাই নতুন বিল্ডিংজন্য আবেদন করেছি।

Leave A Reply

Pinterest
Print