ডাসারে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন থানায় অপহরন মামলা

0

index madaripur disআশরাফুর রহমান কালকিনি(মাদারীপুর) প্রতিনিধি
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার দক্ষিন ভাউতলী গ্রামে একটি প্রেম ঘটিত ব্যাপারে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকা এক সপ্তাহ অনশন করে। আর এঘটনা নিরসন করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে এলাকার সালিশগন ও গ্রামবাসীর গলদঘর্ম অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিষয়টির সূরাহার শেষ পর্যায়ে মেয়ের ভাই জালাল সরদার সালিশ ও প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষদের হয়রানী করতে ডাসার থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করে। আর মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ছেলের পিতা লোকমান সরদার(৫৫) ও প্রতিবেশী দুলাল সরদার(৪০)কে গত বুধবার রাতে গ্রেফতার করে মাদারীপুর জেল হজতে প্রেরন করেছে। তবে এবিষয়ে তদন্ত না করে মিথ্যা মামলা নেয়ায় ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে সাধারন গ্রামবাসীর চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন, গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, ২বছর আগে ডাসার থানার কাজিবাকাই এলাকার দক্ষিন ভাউতলি গ্রামের মোসলেম সরদারের বিশোরী মেয়ে লিমার সাথে প্রতিবেশী লোকমান সরদারের ছেলে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র আলআমিন সরদারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলে এবং মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ছেলেকে গ্রামবাসী সালিশের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠায়। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে হঠাৎ মেয়ের পরিবার মেয়েকে জোরপূর্বক ছেলের বাড়িতে দিয়ে আসে এবং মেয়ে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করতে থাকে। বিষয়টি ছেলের পরিবার গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করে। তারা উভয় পক্ষদের নিয়ে ৫শতাধিক গ্রামবাসীর অংশগ্রহনে সালিশ মিমাংসায় বসে। এতে ছেলে মেয়ের বিয়ের বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের বয়স। আর বাল্য বিবাহের দায় এড়াতে সালিশগন আসে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমী) মোঃ সাইদুজ্জামান খানের কাছে। তিনি উভয় পক্ষের কথা শুনে বাল্য বিবাহ থেকে বিরত থাকতে বলেন। আর এবিষয়ে উভয়ের বয়স হওয়ার পরে বিয়ে দেয়া হবে বলে সালিশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ুু। কিন্তু মেয়ের ভাই সকলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ছেলে ও তার পিতাসহ ৪জনকে আসামী করে ডাসার থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করে। আর পুলিশ মামলার প্রেক্ষিতে ২জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়।
এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমী) মোঃ সাইদুজ্জামান খান বলেন ‘ বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে অবগত করা হলে আমি মেয়ের ভাই সায়েদ সরদারকে কনের বয়স জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তার বয়স ১৫বছর। তাই আমি বাল্য বিবাহ থেকে বিরত থাকতে বলি এবং যেহেতু মেয়ে নিজে ঐবাড়িতে গিয়ে উঠেছে তাই তার ভাইকে সমস্যা সৃষ্টি না করে তাকে নিয়ে আসতে বলি।
আর এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান নূর মহাম্মদ হাওলাদার, সালিশ হারুন আর রশিদ, ফিরোজ খন্দকার, শাহজাহান সরদারসহ ৫০/৬০জন গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন ‘ মেয়ের ৬ভাই আর ছেলে শুধু এক বাপের এক ছেলে। মেয়ে পক্ষ গ্রামে প্রভাবশালী হওয়ায় মূলত ছেলে পক্ষদের হয়রানী করছে উক্ত মিথ্যা অপহরন মামলা দিয়েছে। আর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক সব জেনে শুনে আর্থিক সুবিদা নিয়ে উক্ত মিথ্যা মমলা রজু করেছে। আমরা এব্যাপারে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবী করি।’
এব্যাপারে ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক বলেন ‘ কেউ মামলা দিতে আসলে আমরা তাকে ফিরিয়ে দিতে পারিনা।’

Leave A Reply