দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রকাশিত বানোয়াট সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি

2

মসীহ উর রহমান, আমীর, হেযবুত তওহীদ

দৈনিক কালের কণ্ঠ’র ‘হিজবুত তাওহীদের ছদ্মবেশ’ শিরোনামে গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্র“য়ারি, ২০১৫) এর সংখ্যায় মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যে পূর্ণ, সাজানো ঘটনাভিত্তিক ও সুস্পষ্টভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমরা উক্ত প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে একটি বানোয়াট ঘটনা দিয়ে অত্যন্ত নাটকীয় ভাষায় প্রতিবেদনটি শুরু করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হেযবুত তওহীদের দুইজন সদস্য নাকি বারডেম হাসপাতালের একজন ডাক্তারের কাছে একটি অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। কী ডাহা মিথ্যা প্রচারণা! হেযবুত তওহীদের একটি মৌলিক নীতি হচ্ছে, আমরা কোনো অর্থনৈতিক স্বার্থে কাজ করি না। সংগঠনের সদস্য নয় এমন কোনো ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়েও যদি সংগঠনকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে চান, তাও গ্রহণ করা হয় না। অথচ প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, সংগঠনের সদস্যরা চাঁদা দাবি করেছেন! তারা যে সংবাদটিতে মিথ্যা, সাজানো ঘটনার অবতারণা করেছে তার একটি প্রমাণ সংবাদের কোথাও ঐ ডাক্তারের নাম বা পদবি উল্লেখ করা হয় নি। বা ঐ ডাক্তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেও উল্লেখ করা হয় নি। ঐ ডাক্তারের নাম, পরিচয় উল্লেখ থাকলে আমরা প্রমাণ করে দিতে পারতাম ঘটনাটি সাজানো ছিল। এমনকি হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে চাঁদাবাজির মতো এত বড় একটি অভিযোগ প্রচার করার আগে হেযবুত তওহীদের কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা বা আমাদের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করার প্রয়োজন অনুভব করেননি সংশ্লিষ্টরা, যা সুস্পষ্টভাবে গণমাধ্যমের মৌলিক নীতিমালার লঙ্ঘন।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, “গত বছরের ১৭ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নাফিস (৩৮) নামে হিজবুত তাওহীদের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। ঝটিকা মিছিলে বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ও ককটেল নিক্ষেপ করে মিছিলকারীরা।” একজন সচেতন পাঠকমাত্রই জানেন যে, উল্লিখিত ঘটনার যুবক নাফিস হিযবুত তাহরীরের একজন কর্মী এবং মিছিলটিও ছিল হিযবুত তাহরীরের। পুলিশসূত্রেও এই সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনাটি যেদিন ঘটেছিল তার পরের দিন দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকাতেই হেযবুত তওহীদের সদস্যরা মিছিলটি বের করেছিল উল্লেখ করে একটি বানোয়াট সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, যদিও অন্যান্য জাতীয় পত্রিকাগুলো সঠিক তথ্য দিয়েই ঘটনাটি প্রকাশ করেছিল। ঐ সময় কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সম্পাদক বরাবর বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছিল। আশা করা হয়েছিল তারা দ্বিতীয়বার একই মিথ্যা প্রচার করবে না।
পরবর্তীতে ৮ নভেম্বর ২০১৪ তারিখের সংখ্যায় কালের কণ্ঠ পত্রিকাটিতে ‘ডিএমপির তীব্র প্রতিক্রিয়া: ড. মিজানের বক্তব্য জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করতে পারে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যেখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, “পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ড. মিজানুর রহমান গত ৬ নভেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিযবুত তাহরীর উলাইয়াহ বাংলাদেশের সক্রিয় সদস্য মো. নাফিস সালাম উরফে উদয়কে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে পুলিশ বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করেন’।” অথচ সেই পক্রিকাটিই দীর্ঘ কয়েক মাস পর গত বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে নাফিসকে হেযবুত তওহীদের সদস্য বলে আবারও মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে। তাদের এ ধরনের মিথ্যাচারের প্রবণতা কেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। অথচ তারা কিছুদিন আগেও নির্লজ্জভাবে নিজেদের ট্যাগলাইন হিসেবে পত্রিকায় শুরুতেই বোল্ড হরফে লিখতো, ‘আংশিক নয়, পুরো সত্য’।”
মিথ্যাচারে পূর্ণ ঐ সংবাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি সচেতন আছি। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে জঙ্গিবাদের উপর একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করা ও অনুষ্ঠানটি ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যেই সংবাদটি প্রচারিত হয়েছে। এসব অপপ্রচারের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো, সরকার ও প্রশাসনকে প্রভাবিত করা যেন নির্দোষ এই আন্দোলনকে নিষিদ্ধ করে মহাসত্যের প্রচারকে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। গত বিশ বছর ধরে তাদের অবিশ্রান্ত অপপ্রচারে প্রভাবিত হয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নির্দোষ একটি সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও হেযবুত তওহীদকে সন্দেহভাজন কালো তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের কোনো অপরাধ কেউ প্রমাণ করতে পারে নি, পারবেও না ইনশা’ল্লাহ। তবু সরকারকে আমাদের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে যাচ্ছে যে গণমাধ্যমগুলো আমরা তাদের এই মিথ্যাচারী ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
এ ধরনের সংবাদমাধ্যমকে আমরা বলতে চাই, হেযবুত তওহীদের সূচনালগ্ন থেকেই আন্দোলনটির নামে অবিরাম মিথ্যাচার করা হয়েছে। যে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় নি, যার কোনো একজন সদস্যের বিরুদ্ধেও আজ পর্যন্ত কোনো বেআইনী কাজে জড়িত থাকার অপরাধ প্রমাণ করা যায় নি, সেই সংগঠনকে বারবার সম্পূর্ণ সচেতনভাবেই উগ্রপন্থী, জঙ্গি ইত্যাদি বিভ্রান্তিকর বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়েছে। ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দমনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনসাধারণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ, রাজনীতিবিদ এবং প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশ্যে অবিশ্রান্তভাবে কাজ করে আসা হেযবুত তওহীদ এখনো অনেকের প্রায়ান্ধ ও একচোখা দৃষ্টিতে ‘গোপন সংগঠন’। তথাপি এটা ধ্রুব সত্য যে, জনগণকে আজীবন বোকা বানিয়ে রাখা যায় না। এখন সাধারণ মানুষ হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে সঠিক সত্য তথ্য জানতে পারছে এবং তারা হেযবুত তওহীদের কাজে অকুণ্ঠভাবে সমর্থন দিচ্ছে। তারা আর কারো মিথ্যাচারে প্রভাবিত হন না। সুতরাং এই নিষ্ফল মিথ্যাচার বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে সত্যকে শেষ পর্যন্ত নির্বাপিত করা যায় না। এটাই মহাপ্রতাপশালী স্রষ্টার অভিপ্রায়। তার অভিপ্রায়কে কেউ রোধ করতে পারবে না।

2 Comments

Leave A Reply

Pinterest
Print