নরসিংদীতে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী বিশাল জনসভা

0

বিডিপত্র ডেস্ক: সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে অপ-রাজনীতিসহ সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দেশের জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পাতবার নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার সাহেরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়।
‘ধর্মের অপব্যবহার প্রগতির অন্তরায়’ শীর্ষক এ জনসভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে ভাষণ প্রদান করেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাদেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন অলিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমীন ভূঁইয়া মাসুদ, ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি আলী হোসেন, সাহের চর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী শৈলেসচন্দ্র বিশ্বাস, রাধানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রী হরিদাস বিশ্বাস, রাধানগর ইউনিয়ন তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল হক, বেলাবো উপজেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মাহে আলম কাজী।
হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, মুসলমানরা এখন সাম্রাজ্যবাদীদের টার্গেটে পড়েছে। সারা দুনিয়ায় সন্ত্রাসবাদী, জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড ঘটিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। মুসলমানরা বর্বর, মুসলমানরা অসভ্য, মুসলমানরা জঙ্গি, মুসলমানরা সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি অপপ্রচার আজ প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ইস্যুকে তুলে ধরে তারা একটার পর একটা মুসলিমপ্রধান ভূখন্ড ধ্বংস করছে, মুসলমানদেরকে নিধন করে চলেছে। আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় আমাদের এই দেশকে নিয়ে। এখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, রসুলকে বিশ্বাস করেন, কোর’আনকে ভালোবাসেন। তাদের এই বিশ্বাসকে হাইজ্যাক করে নিয়ে কেউ অর্থোপার্জন করছে, কেউ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করছে, কেউ জঙ্গিবাদী কর্মকাÐ করছে, সাধারণ মানুষকে হতাহত করছে। আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলামে এই অন্যায় থাকতে পারে না। অথচ ধর্মের নামে এটাই করা হচ্ছে। মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে হাইজ্যাক করে যেসব মানবতাবিরোধী ও ধর্মবিরোধী কর্মকান্ডঘটছে, হেযবুত তওহীদ তার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আজ এই সাহের চর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করতে চাই- তোমরা ধর্মব্যবসায়ীরা এতদিন ধরে ধর্মের নামে যে অধর্ম চালু করেছো এটা আল্লাহ-রসুলের ইসলাম নয়। বজ্রকণ্ঠে এই মহাসত্যের ঘোষণা দেওয়ার জন্যই হেযবুত তওহীদের জন্ম হয়েছে। মানুষকে তোমরা আর বেশি দিন বিভ্রান্ত করে রাখতে পারবে না।” মানুষ শীঘ্রই ধর্মের সঠিক রূপ উপলব্ধি করবে এবং ধর্মব্যবসা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হোসাইস মোহাম্মদ সেলিম আরও বলেন, “পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ হচ্ছে। গতকাল আমার এলাকা থেকে একটি খবর পেলাম- ওয়াজ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ওঠানো হয়েছে, হুজুরকে বিশ হাজার দেওয়া হয়েছে, বাকিটা ভাগাভাগি হয়ে গেছে। এই হয়েছে অবস্থা। আমি তাদেরকে বলতে চাই, আপনারা সারা বছর ওয়াজ করে বেড়াচ্ছেন, তার ফল কী? হানাফি হাম্বলির বিরুদ্ধে, কওমীরা সরকারির বিরুদ্ধে, সরকারিরা কওমীদের বিরুদ্ধে, এক ফেরকা আরেক ফেরকার বিরুদ্ধে ওয়াজ তো কম হলো না। এর ফল হয়েছে এই যে, জাতি আরও ঐক্যহীন হয়েছে, আমরা আরও বেশি স্বার্থপর হয়েছি, আত্মকেন্দ্রিক হয়েছি।” আজকে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে- এগুলো ওয়াজ দিয়ে বন্ধ করা যায় নাই। একটার পর একটা মুসলিমপ্রধান দেশ ধ্বংস করা হচ্ছে- ওয়াজ দিয়ে কারো দেশরক্ষা হয় নি। মাদকে ছেয়ে গেছে দেশ, ওয়াজ দিয়ে এটাও বন্ধ করা যায় নি। এভাবে বলতে গেলে সমাজের অনেক অসঙ্গতির কথা বলা যাবে। আমি বলতে চাই, ওয়াজ অনেক হয়েছে, এবার বন্ধ করুন। এতদিন আপনারা ওয়াজ করেছেন আমরা শুনেছি, এখন থেকে আমরা বলব আপনারা শুনবেন।” তিনি বলেন, যে ওয়াজে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় না, যে ওয়াজে আমার জাতি মো’মেন হয় না, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, দুনিয়া জুড়ে মুসলিম জাতির উপর নিপীড়ন বন্ধ হয় না, একটা ভূখন্ডও রক্ষা পায় না, সেই ওয়াজ আর শুনতে চাই না। আমরা সেই ওয়াজ শুনব যেটা আমাদেরকে মো’মেন বানাবে, মানবতার জন্য জীবন-সম্পদ উৎসর্গ করতে শেখাবে। যারা তা করতে পারবেন তারা বেরিয়ে আসুন।”
তিনি আরও বলেন, বোমার শক্তি বড় নয়, ঈমানের শক্তি বড়। আল্লাহ বলেছেন, তোমরা হতাশ হইও না, নিরাশ হইও না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মো’মেন হও। কাজেই যারা সত্যনিষ্ঠ আছেন তারা কাউকে ভয় করবেন না, বেরিয়ে আসুন। সেই ওয়াজ করুন যেটা দিয়ে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। মদীনায় রসুলের আসহাবগণ খেয়ে না খেয়ে মদীনাকে রক্ষা করেছেন। এই বাংলার মাটিকে আজ রক্ষা করতে হবে। দেশ রক্ষার উপায় কী, মোমেন হবার উপায় কী সেটাই আমরা হেযবুত তওহীদ তুলে ধরছি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাদেক মুখ্য আলোচকের বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, আমি হেযবুত তওহীদেও এমামের বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই। তিনি বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। আমি আপনাদের সাথে একমত। আমরা আইএসের কর্মকান্ড দেখেছি; যখন তাদের দখল করা ভূখন্ড উদ্ধার করা হলো- তারপর দেখা গেল অনেকগুলো গণকবর। যারা হত্যা করেছে তারাও মুসলমান, যারা লাশ হয়ে পড়ে আছে তারাও মুসলমান। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে পছন্দ করি, তাদের মিটিংকে নিয়ে আমরা উচ্চ পর্যায়ে কথাও বলেছি। তারা কোনো দলের পক্ষে-বিপক্ষে নয়, তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছে। হেযবুত তওহীদ ধর্মব্যবসা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে সারা দেশে যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তার প্রশংসা কওে তিনি বলেন, আমি মাননীয় এমামকে বলব- এই উপজেলায় আপনারা একটি কার্যালয় খুলুন। যে কার্যালয় থেকে আপনাদের কথাবার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আপনাদের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
বিশেষ অতিথি তাজুল ইসলাম হেযবুত তওহীদকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশব্যাপী ধর্মের নামে যে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ চলছে, এর বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদ যে উদ্যোগ নিয়েছে তা কার্যকরী হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করি। আজকে একটি মহল অতর্কিত হামলা করে, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। ফলে পবিত্র ধর্মের গায়ে কালিমা লাগছে। এর বিরুদ্ধে কাজ করছে হেযবুত তওহীদ, আমি তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। ‘আমরা দলীয় কর্মসূচি হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, ধর্ম নিয়ে অপ-রাজনীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছি। হেযবুত তওহীদও দেশের কল্যাণে এই সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে। এই কাজের জন্য তাদেরকে আমি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের এই সংগ্রামে সাহায্য করার জন্য সকল নেতাকর্মীদের আহবান জানাই।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেটিভি’র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জাহিদুল হক মামুন।

Leave A Reply

Pinterest
Print