পাহাড়ি ঝড়ের তান্ডবে ক্ষতবিক্ষত দোয়ারাবাজার, বিধ্বস্ত শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি

0

smgআশিস রহমান, সুনামগঞ্জ: প্রবল পাহাড়ি ঝড় আর আকস্মিক শীলা বৃষ্টিতে ক্ষতবিক্ষত সুনামগঞ্জের সীমান্ত ঘেষা দোয়ারাবাজার উপজেলা। রবিবার রাত আনুমানিক প্রায় আড়াইটার দিকে দোয়ারাবাজারে শীলা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঝড় সংগঠিত হয়। এসময় ঝড়ে উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের অসংখ্য গাছপালা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। শীলা বৃষ্টিতে ফসলি জমি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের প্রবল বাতাসে বিভিন্ন ঘরবাড়ির ওপর গাছ পালা পড়ে ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়। এতে আহত হয় অসংখ্য মানুষ ও গবাদি পশু। সরজমিনে জানা যায়, সসবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে বেশিরভাগ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিশেষ করে আলীপুর, নূরপুর, সোনাপুর, বৈঠাখাই, হাছনবাহার গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আলীপুরের সাদেক মিয়া, মফিজ উদ্দিন, মরম আলী, ফরজু, মকবুল হোসেন, আলীম উদ্দিন, নূরপুরের জিয়াউর রহমান, আফসর আলী, বদর উদ্দিন, নিজাম, নূর হোসেন, হারুন মিয়া সোনাপুরের হাবিব, রহমত আলী, ছায়াতুন্নেছা, সফর আলী ও কালা মিয়ার বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে আহাজারি চলছে। এব্যাপারে নূরপুর সোনাপুরের সাবেক ইউপি সদস্য আলী নূর প্রতিবেদককে জানান, উনার এলাকার প্রায় ১৫ট‌ি বসতবাড়িসহ ৫টি পল্লী বিদ্যুতের খুটি সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলীপুরের বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির জানান, উনার এলাকার প্রায় ২০টি বসতবাড়ি, অসংখ্য কাঠাল গাছ ও বাশঁ বাগান এবং বেশকয়েকটি বিদ্যুতের খুটি ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। আলীপুরের সবজি চাষী কামাল মিয়া জানান, তার সবজি খেতসহ এলাকার অন্যান্য কৃষকদের ফসলি জমি শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে পার্শ্ববর্তী লক্ষীপুর ইউনিয়নের বড়কাটা গ্রামের বায়তুন নূর জামে মসজিদসহ ওই গ্রামের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় উদ্বাস্তু জীবন যাপন করছে প্রায় অর্ধশত পরিবার। তবে এখনো পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ। যোগাযোগ করলে সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার প্রতিবেদককে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এব্যাপারে প্রশাসনকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, তাৎক্ষণিক ভাবে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাদেরকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্তদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

Leave A Reply

Pinterest
Print