প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে রংপুরে ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন

0

mail

রংপুর ব্যুরো অফিস:

রংপুর সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা কমিটির উদ্যোগে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্প্রতিবার বেলা ১১ টায় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে ছাত্র ফ্রন্ট জেলা কমিটির সভাপতি আহসানুল আরেফিন তিতুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন,ছাত্র ফ্রন্ট কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি আবু রায়হান বকসী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আহবায়ক মনোয়ার হোসেন।
বক্তারা বলেন, আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ব্যতীত বোধহয় বাংলাদেশে এমন তৃতীয় কোনো ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি সাম্প্রতিক প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়েই আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে নিশ্চিত নন। গত বছর থেকেই গণহারে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এবছর এইচএসসি পরীক্ষার সময় বিষয়টি ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের নজরে আসে। সেসময় এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ হয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন সরকার মুখে অস্বীকার করলেও অন্তত চক্ষুলজ্জার ভয়ে হলেও এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে এবং পরের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা কিছুটা হলেও উপশম হবে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ অবাক বিস্ময়ে দেখল সেই একই ঘটনার নির্লজ্জ ধারাবাহিকতা।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যা আজ যে বিরাট মহীরুহ হয়ে আমাদের সামনে আবির্ভূত হয়েছে, তার বীজ কোথায় উপ্ত আছে তা আমাদের বোঝা দরকার। দেশে যে পড়াশুনা-পরীক্ষাপদ্ধতি চালু আছে তার উদ্দেশ্য কী? চরিত্র নির্মাণ, বড় মানুষ হওয়া, প্রকৃতির নিয়মকে জানা? না। এসব উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষা এখন হয়ে উঠেছে শুধু ক্যারিয়ার তৈরির হাতিয়ার। ফলে তার সাথে সঙ্গতি রেখে পরীক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্যও পরিবর্তিত হয়ে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থার সাথে যুক্ত শিক্ষক, সিলেবাস, পাঠদান পদ্ধতি, সরকারসহ যুক্ত অনেকের ভূমিকা গৌণ হয়ে গেছে। শুধু শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন-ই এখন মূল বিবেচ্য বিষয়। সমাজ জুড়ে হাজারো অনিশ্চয়তা, মানুষকে বড় হবার চেয়ে ক্রমাগত এগিয়ে থাকার অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর সুযোগ নিচ্ছে কোচিং সেন্টার, গাইড বইয়ের প্রকাশকরা। পরীক্ষার আগে বিভিন্ন নামীদামী শিক্ষকের শতভাগ কমন পড়ার নিশ্চয়তার সাজেশনে ছেয়ে যাচ্ছে বাজার। এসব শিক্ষক, কোচিং সেন্টার প্রভৃতির সাথে সরকারের উচ্চপদস্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজোসে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে প্রশ্ন- এসব বহুদিন ধরেই চলছে। বর্তমান সময়ে এসে তার কেবল মাত্রাগত পরিবর্তন ঘটেছে। যে কর্মকর্তা-কর্মচারিরাও এই অপকর্মের সাথে যুক্ত, তারাও নিয়োগ পেয়েছেন দলীয় বিবেচনা, ঘুষ- তদবির ইত্যাদির মাধ্যমে। সেই সাথে আছে পরিসংখ্যান দিয়ে সরকারের সাফল্য দেখানোর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ফলে একদিকে দলীয় লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার অসহায়ত্ব অন্যদিকে শতভাগ পাস দেখানোর উদগ্র বাসনা এই দু’য়ে মিলে শিক্ষাব্যবস্থার এই প্রবল সংকটকে অস্বীকার করা ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের আর কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই। নিচের দিকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নবণ্টনের সাথে জড়িত কিছু লোককে শাস্তি দেয়া হলেও প্রশ্নফাঁসের মূল হোতারা কিন্তু আড়ালেই থেকে গেছে। তাই প্রতিনিয়ত এই ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। দেশের সমস্ত ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির ফলাফলের যে চিত্র আমরা দেখতে পাই এ ঘটনা তারই একটি প্রতিফলন মাত্র।
বক্তার আরও বলেন, তাই বন্ধুগণ আসুন, প্রশ্নফাঁসের মতো একটি সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। শিক্ষার উপর বাণিজ্যিকীকরণের সর্বগ্রাসী থাবার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলি। হতে পারে আমাদের এই সংগ্রামের পথ দীর্ঘ, কষ্টবহুল। তবুও আগামী প্রজন্মের জন্য, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য এই পথেই আমাদের যাত্রা করতে হবে।

 

Leave A Reply

Pinterest
Print