ফরিদগঞ্জে ছাত্রলীগের ঈদ পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানে ১৪৪ ধারা জারি

0
Capture

সন্ধায় গোয়ালভাওর বাজারে ১৪৪ ধারা জারির প্রতিবাদে বক্তব্য রাখছেন পৌর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মো. মনির হোসেন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১০ নং গোবিন্দুপর ইউনিয়নের গোয়ালভাওর বাজারে বুধবার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ঈদ পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানস্থলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভা আহ্বান করায় বিকাল তিন টার সময় ১৪৪ ধারা জারি করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম ভূইয়া। গোয়ালভাওর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে মাইকে এ নির্দেশনা প্রচার করেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী মোঃ ছায়েদ। ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাজমুল হক ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে সন্ধ্যা ৬ থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে ফোন করলে তার মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ আবস্থান করছে। এসময় উপস্থিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, গত তিন দিন যাবত গোয়ালভাওর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঈদ পুর্নমিলনী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মাইকে প্রচার করে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতারা। সে অনুসারে মঞ্চ তৈরি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর ১ ঘন্টা পূর্বে ২টার সময় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির বরাত দিয়ে মাইকে গোয়ালভাওর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আরেকটি সভা আহ্বান করা হয়। আর এ বিষয়টি প্রশাসন অবগত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে। এবং বিদ্যালয়ের মাঠে সকল প্রকার সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে। এবং সেখানে কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এসর্ম্পকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার র্দীঘ ৪৩ বছরের মধ্যে এই প্রথম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যেগে প্রথম কোন ঈদ পুনমিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। যা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় ছিলো। তবে একইস্থানে মূলদল আওয়ামী লীগের আরেকটি সভা আহ্বান করা উচিত হয় নাই। ১৪৪ ধারা জারির ফলে ইউনিয়ন আ‘লীগ, অঙ্গওসহযোগী সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এসময় গোয়ালভাওর বাজারে অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা এই ধরনের নেক্কার জনক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসর্ম্পকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, ১০ নং ইউনিয়নে এমপি ঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটির কোন অবস্থান নাই। সেজন্য তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের দিয়ে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির স্থানে নামে মাত্র আরেকটি অনুষ্ঠান দেখিয়ে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ১৪৪ ধারা জারি করে ছাত্রলীগের এই সুন্দর অনুষ্ঠান বানচাল করেছেন। আমরা এ ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি এ্যাড. মোঃ মাহবুব আলম এ প্রতিনিধিকে বলেন, ছাত্রলীগের পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানে পুলিশের সহযোগীতায় আওয়ামী লীগের বাঁধা। এঘটনা নজিরবীহিন ও দু:খজনক। এই ন্যাক্কার জনক ঘটনা ব্যাখা করারমত কোন ভাষা আমার নাই। তবে এটুকু বলতে পারি ছাত্রলীগ নিয়ে যারা এরকম নোংরা খেলা খেলেন, তারা চির কালেই ভুল করেন। আমরা সব সময়ই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে সার্বিক সহযোগীতা আশা করেছিলাম। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের দ্বারা ছাত্রলীগের উপর কোন অবহেলা নির্যাতন সহ্য করা হবে না।

জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন বলেন, আমাদেরকে মাননীয় সংসদ সদস্যকে ভুল বুজিয়ে যারা ছাত্রলীগের গৌরব ও ঐতিহ্যকে নিয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন তাতে করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ আজ ধ্বংসের ধারপ্রান্তে। আজ দেখা যায় প্রতিটি ইউনিয়নে ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে দাঁড় করিয়ে এ কোন ছাত্রলীগ সৃষ্টি করতে ছাচ্ছেন। সুবিধাভোগী হাই ব্রীড আ‘লীগ নেতারা আমার জানা নাই। তবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি চতুর পাশে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতাকর্মীরা যেভাবে রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে তাতে যে কোন সময় ছাত্রলীগ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে বড় কোন অশুভ আচরন অপ্রতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জেলা ছাত্রলীগ সহ দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

Leave A Reply

Pinterest
Print