ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপটে দলীয় প্রার্থীরা চিন্তিত!

0

pourosovaফরিদগঞ্জ(চাঁদপুর) প্রতিনিধি : আসন্ন ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত না হলেও স্বতন্ত প্রার্থীরা আছেন বেশ ফুরফুরে মেঝাজে। অপরদিকে এ নিয়ে দলীয় প্রার্থীরা বেশ চিন্তিত। এছাড়া আ‘লীগের মেয়র প্রার্থী নির্ধারনে স্থানীয় এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভুইয়ার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে মনে করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে এই নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী চুড়ান্ত করা নিয়ে উৎসাহ নেই ৮৩ মামলায় জর্জরিত বিএনপির মধ্যে। তবে পৌর সভার সাধারন ভোটারগন বলছে, আমরা এবার সর্ব মহলে গ্রহনযোগ্য ও মন্দের ভাল এমন ব্যক্তির জয় নিশ্চিত করতে কাজ করবো।

গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে মনোনীত দুই প্রার্থী পরাজয় বরন করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে। এবারের নির্বাচনেও প্রাথী বাছাই ভুল করলে দলের মনোনীত প্রার্থী না হয়ে এবারও কি স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হবে? এমনটাই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। স্বতন্ত্র প্র্থর্াীর দাপটে এখন রাজনীতিক দুই দলের নেতাকমীরা এখন আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত ।

তবে আওয়ামলীগের নেতা কর্মীরা বলছে, এবার ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে আমরা ্্ঐক্যবদ্ধ হতে চাই। তবে মেয়র প্রার্থীর নামে কোন অগ্রহন যোগ্য প্রার্থীকে চুড়ান্ত করলে দলের নেতাকর্মীরা তা মেনে নে্েবনা। এ ক্ষেত্রে দলের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবেনা। দলের নেতাকর্মীদের মতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্ধারনে ডঃ শামছুল হক ভুঁইয়াএমপির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্বান্ত।

১৯ দশমিক ৭৫ বর্গ কিলোমিটির বিশিষ্ট প্রায় ৬০ হাজার নাগরিকের পৌর পিতা নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মেয়র প্রার্থী চুড়ান্ত করা নিয়ে বিশেষ করে আওয়ামীলীগের মধ্যে একাধিক সভা হয়েছে। কিন্তু কোন সভায়ই সুনিদিষ্ট ভাবে কারো নামে মেয়র প্রার্থীর প্রস্তাব করতে পারেনি। তবে গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে এমপি ডঃ মোহাম্মদ শামছুল হক ভুইয়ার অনুপস্থিতিতেই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারীকে তার বাড়িতে আয়োজিত এক সভায় মেয়র প্রার্থী হিসেবে সেই সময়ে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। সে থেকে আজ অবধি সাংসদ ডঃ শামছুল হক ভুইয়া আানুষ্ঠানিক ভাবে দলের মনোনীত প্রাথী হিসেবে তার নাম ঘোষনা না শুনায় দলের নেতাকর্মীরা এখন ভিন্ন হিসেবে নিকেশ করছেন। শুধু তাই নয়, পৌরআওয়ামীলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন দলের এক সভায় স্পষ্ট ভাবেই ঘোষনা দেন , দলের সকল নেতাকর্মীর সাথে আলোচনা ছাড়াই কেউ যেন দলের চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে কোন প্রচার প্রচারনা না চালায়। ফলে দিনদিন নুতন প্রার্থীর আর্বিভাব ঘটছে।

এদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারীর ভাগিনা মাসুদুর রহমান ভুইয়াও পৌরসভার সম্ভা¦ব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন বিলবোর্ড সাঁটিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নুতন ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম চুড়ান্ত রাখতে এটি মামা ভাগ্নের নুতন কৌশল ছাড়া অন্য কিছু নয়। এ প্রসংগে মাসুদ ভুইয়া অবশ্য বলেছেন, দলের সুসময়ে আমি হালুয়া রুটির ভাগের জন্য নয় শুধু মাত্র দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মাঠে থেকে দলের স্বার্থে কাজ করার পাশাপাশি পৌরসভায় সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভার উন্নয়ন ঘটাতে আমি মেয়র প্রার্থী নিজের ইচ্ছে ব্যক্ত করেছি।

এদিকে বিএনপি মেয়র প্রার্থী মনোনয়নে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায়নি। শুধু তাদের দলের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়ে নিয়ে সভা ও বৈঠক হতে দেখা গেলেও মেয়র প্রার্থী চুড়ান্ত করা নিয়ে নেই কোন চিন্তা ভাবনা ।

তবে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেব যেমন রয়েছে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যন মাহববুল বাশার কালু পাটওয়ারী। এ ছাড়া গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও ওই সময়ে তারই দলের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন খাঁন আওয়ামীলীগের প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এবার আবার নুতন প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছাড়াও ইতির্পর্বে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করে হেরে যাওয়া আবুল কাশেম কন্ট্রাকটরের নামও শুনা যাচ্ছে আসন্ন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে। একই দল উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি লোকমান তালুকদারও এবার মেয়র পদে নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

শুধু তাই নয়, গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রাথী হিসেবে পৌর সভার সাবেক প্রশাসক শফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী নির্বাচন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জিল হোসেনের কাছে পরাজিত হন। এবার সেই শফিকুল ইসলাম পাটওয়ারীও আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রাথী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকায় ব্যপক গুঞ্জন চলছে।

আওয়ামীলীগের সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি লোকমান তালুকদার। তবে আওয়ামীলীগের মধ্যে থাকা সম্ভাব্য মেয়র প্রাথীদের পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা ও সমলোচনা থাকলেও মূলত এক কথায় মন্দের ভাল প্রার্থী চায় উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। পৌর পিতা হিসেবে জনগন কোন দানবীয় নয়, মানবীয় গুণ সর্ম্পূন্ন প্রার্থী চায়।

এদিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে পৌরসভার বর্তমান মেয়র মঞ্জিল হোসেন। তিনি গত নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই আবার মেয়র পদে নির্বাচনে জয়ের লক্ষমাত্রা নিয়ে লড়বে। তবে মঞ্জিল হোসেন পৌরসভা গঠনের পর দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ পৌরসভা পরিচালনার দায়িত্বে থাকার সুবিধার্থে ভোটারদের কাছে তার দৃড় অবস্থান তৈরী করে দাপটের সাথেই আছেন।

এছাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: মাহফুজুল হক এই প্রথম বারের মত ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের আশায় ব্যাপক হারে গনসংযোগ করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। দল থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাবেনা বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই মাহফুজুল হক এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে গনসংযোগ করে চলেছে। তার পক্ষে আবার ছাত্রলীগের একাংশ সহ একদল যুবক মাহফুজের পক্ষে দিনরাত নির্বাচনী প্রচার করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা জানায়, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে মেয়র পদে নির্বাচনে জিততেই হবে। তাই গ্রহন যোগ্য প্রাথী না দিয়ে যদি দলের অন্তত ৯০ ভাগ নেতাকর্মীর কাছে অগ্রহনযোগ্য ব্যক্তিকে মেয়র প্রার্থী দিলে কেউই দলের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে মাঠ কাজ করবে না।

নির্বাচন প্রসংগে বিএনপি নেতা সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হারনুর রশিদ বলেন, কেন্দ্রীয় ভাবেই এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি পৌর নির্বাচনে দল অংশ গ্রহন করবে কিনা। দল সিদ্ধান্ত নিলে তখন দলের কাছেই মনোনয়ন চাইবো। উপজেলা যুবদলের সভাপতি নাছির পাটওয়ারী বলেন,নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সরকার বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফরিদগঞ্জের বিএনপির শতশত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ৮৩টি মামলা। এই মামলা দিয়ে হয়রানী করছে দলের নেতাকর্মীদেরকে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে মূলত এখন দলের বিভিন্ন কমিটি গঠন নিয়ে ব্যস্ত। যে কারনে আসন্ন পৌর সভা নির্বাচনে মেয়র প্রাথীর চুড়ান্ত করার বিষয়ে কোন আগ্রহ নেই।

উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী চুড়ান্ত করার বিষয়টি নেতাকর্মীরা এমপি ডঃ শামছুল হক ভুইয়ার হাতে ছেড়ে দিয়েছে । নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহনয্গ্যো প্রার্থী চুড়ান্ত করা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। তবে এমপি মহোদয় যাকেই দল থেকে মনোনয়ন দিবে সেই মনোনীত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার জন্য আমি সহ দলের প্রত্যেক নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ ভাবেই কাজ করা হবে বলে দৃড় প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

Leave A Reply

Pinterest
Print