বাঘায় স্যানিটেশন ব্যবস্থার বেহাল দশা

0

ডা. সেলিম ভান্ডারী, বাঘা, রাজশাহী:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ব্যাপক অনিয়মের কারণে স্যানিটেশন ব্যবস্থার বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রে অনিয়মের কারণেই এ ঘটনা ঘটে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে ক্ষমতাসীন সরকারের এক প্রকার অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের চাপ বন্ধ থাকলে এ কাজ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ, সারাদেশের ন্যায় বাঘা উপজেলাতেও দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের জন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করতে সরকার মোটা অংকের টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকারের এক প্রকার অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের চাপে পড়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরের কর্মকর্তারা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে স্যানিটেশন পাট তৈরি করা হচ্ছে। যার ফলে সর্বোচ্চ এক বছর না পেরুতেই এগুলো ভেঙে যাচ্ছে। যে কারণে সরকারের শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যাহত হচ্ছে সরকার।
অপরদিকে স্যানিটেশনের পাট ধসে মলের ভেতরে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনার শিকার আড়ানীর মতলেব উদ্দিন জানান, সম্প্রতি তিনি জমি দেখতে হামিদকুড়া গ্রামের মাঠে যান। ওই সময় তার বাথরুমের প্রয়োজন হলে ওই গ্রামের কুসুম বেগমের বাড়ির স্যানিটেশনের বাথরুমে গেলে তিনি মলের মধ্যে পড়ে যান। ঝিনা গ্রামের এনামুল হক জানান, মানসম্মত স্যানিটেশনর পাট না হওয়ায় বছর যেতে না যেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর যেটা দেয়া হচ্ছে সেগুলো সংখ্যায় কম। যদি সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে ঘরটি তৈরি করে দেয়া হতো তাহলে যে সময় থেকে স্যানিটেশন আন্দোলন শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। অপরদিকে দুই থেকে তিনটি পাট দিয়ে যে ল্যাট্রিন করা হচ্ছে সেগুলো অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। ধন্দহ গ্রামের স্কুল শিক্ষক আব্দুল হান্নান জানান, স্বল্পমূল্যে পূর্ণাঙ্গ স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা যায় তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত সম্ভব। বাউসা গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, মানসম্মত না হওয়ায় কেউ কেউ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিনা পয়সায় স্যানিটেশন পাটগুলো বাড়িতে নিয়ে গরুর গুড়া বানিয়ে রেখেছেন বলে তিনি জানান। আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক নাসির উদ্দিন বলেন, আমার ইউনিয়নে সাড়ে ১৩০০ পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ছয় শতাধিক পরিবারকে স্যানিটেশন দেয়া হয়েছে আড়াই বছরে। তবে সিমেন্টের পাটগুলো মেয়াদকাল দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। মাটির পাট পালদের কাছে থেকে নেয়া পাটগুলো দীর্ঘস্থায়ী। তবে পালদের পাটগুলো সরকারিভাবে বরাদ্দ নেই বলে তিনি জানান। আড়ানী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, যে টাকা বরাদ্দ হয় ওই টাকার মধ্যে দরিদ্রদের মাঝে তৈরি করে বিতরণ করা হয়। উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য অধিদফতর আফতাবুর রশিদ বলেন, এক প্যাকেট সিমেন্টে সাড়ে ১০টা পাট তিনটি রিং দিয়ে তৈরি করা হয়। ওইভাবে তৈরি করে বিতরণ করা হয়।

Leave A Reply

Pinterest
Print