বিএনপির বহুল প্রত্যাশিত কাউন্সিল আজ

0

bnpবিডিপি ডেস্ক: ‘মুক্ত করবই গণতন্ত্র’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিএনপি’র ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ। সকাল ১০ টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে কাউন্সিলের উদ্বোধন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কাউন্সিলকে ঘিরে ইতোমধ্যে সারাদেশের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই কাউন্সিলকে ঘিরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
‘দুর্নীতি-দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে কাউন্সিল সফল করতে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় সমবেত হয়েছেন। বিএনপি বলছে, “নেতা-কর্মীদের মহা সম্মিলন ঘটবে এই কাউন্সিলে। অব্যাহত দমন, নিপীড়ন, হামলা, মামলা, হত্যা, গুমে, ক্ষত-বিক্ষত বিএনপি এই কাউন্সিলে ফিনিক্স পাখির মত জেগে উঠবে।”
এই কাউন্সিল সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়ে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরো বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করছে বিএনপি।দলটি বলছে, এই কাউন্সিলের মাধ্যমেই বিএনপি আরো এক ধাপ শক্তিশালী সংগঠন হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে। এই সম্মেলন যুগান্তকারী রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে বলেও মনে করে বিএনপি।
তিন পর্বে অনুষ্ঠিতব্য এই কাউন্সিলের প্রথম পর্বে থাকবে উদ্বোধনী অধিবেশন, দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশন, তৃতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রথম পর্বে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, দলের গঠনতন্ত্রের বিধানমতে জেলা, উপজেলা, পৌর ইউনিট থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর, সারাদেশ থেকে আগত ডেলিগেট, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা, আমন্ত্রিত দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।
জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলন উদ্বোধন করা হবে। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, জাতীয়, দলীয় সংগীত পরিবেশনা, শোক প্রস্তাব গ্রহণ, আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য, মহাসচিবের স্বাগত বক্তব্য এবং চেয়ারপারসনের উদ্বোধনী বক্তব্য থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে থাকবে শুধুমাত্র কাউন্সিলরদের জন্য অধিবেশন। এই অধিবেশনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক রিপোর্ট উপস্থাপন, এই রিপোর্টসহ দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক ও দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতির ওপর আলোচনা, চেয়াপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন পরিচালনা কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন ও অনুমোদন, দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-কমিটির রিপোর্ট পেশ, আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কমিটি গঠন ও চেয়ারপারসনের সমাপনী বক্তব্য থাকবে। তৃতীয় পর্বে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শুক্রবার কাউন্সিল পূর্ববর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, সারাদেশ থেকে কাউন্সিলরবৃন্দ ও ডেলিগেটরা ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছে গেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ডেলিগেট ও কাউন্সিলর কার্ড সংগ্রহ করেছেন।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর শেরে বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (তৎকালীন চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রমনার বটমূলে প্রথম কাউন্সিল করেন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধায় এবং খালেদা জিয়া ১৯৮৯ সালে তৃতীয় কাউন্সিল করেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। ১৯৯৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির চতুর্থ কাউন্সিল। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হলে ১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়া দলের হাল ধরার পর থেকে এ পর্যন্ত তিন বার দলের কাউন্সিল করেন; এবার নিয়ে হবে চতুর্থ।

Leave A Reply

Pinterest
Print