মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা

0

শুভ ঘোষ,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলা থেকে সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়ন পযর্ন্ত দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার সড়কটি যানবাহন চলাচলে জন্য এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দে সৃষ্টি হওয়া গর্ত গুলো এখন যেন এক একটি মৃত্যু কুপ। সামান্য বৃষ্টি হলে ডুবে যাওয়া গর্তে গুলোতে বুঝার উপায়নেই কতটা গর্ভীর এই গর্ত গুলো। দীর্ঘ ৩ বছর যাবত চরম ভোগান্তিতে পরেছেন স্থানীয় স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী সহ হাজার হাজার মানুষ যাদের প্রতিনিয়ত চলাচলের জন্য এক মাত্র ভরসা এই রাস্তাটি।

জেলা সদর থেকে সিরাজদিখানের বালুরচর ইউনিয়নের দুরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার । এই স্বল্প দুরত্বে সড়কটির প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা । যার কারনে এই রুটের চলাচলরত যানবাহন ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রতিদিনই। সড়কটিতে বড়বড় খানাখন্দ্রের কারনে এক একটি গর্ত যেন এখন এক একটি পুকুরে পরিনত হয়েছে। সুস্থ্য মানুষ যেমন অসুস্থ্য হচ্ছে আর অসুস্থ্য রোগীরা পরছে চরম ভোগান্তিতে। এই রুটে চলাচলরত হাজারো মানুষ যেন প্রতিনিয়িত মৃত্যু সাথে লড়াই করে। সড়কটির বর্ননা দিতে গিয়ে অনেকে চোখেন পানিও ফেলতে দেখা গেছে এ ভোগান্তির শেষ কোথায় তা হয়তো কেউ জানেন না। স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন.দীর্ঘ ৩ বছর যাবত সড়কটির এই অবস্থা এখান দিয়ে রোগী তো দুরের কথা ভালো মানুষ গেলেই অসুস্থ্য হয়ে যায়। যানবাহন চলাচলের অযোগ্য এই সড়কটি দ্রæত মেরামতের প্রয়োজন। কিস্তু সরকারের কর্মকর্তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আমাদের ।

এই রুটে চলাচলরত এক যাত্রী আরিফ হোসেন বলে,সড়কটির বেহাল দশার কারনে কোন যানবাহ এই রুটে আসতে চায়না । যার ফলে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে আমাদের। অচিরেই সড়কটি সংস্কার করা না হলে ভোগান্তি আরো বারবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এক সময়
সড়কটি বর্ননা দিতে গিয়ে কেঁদে কেঁদে নাসরিন আক্তার নামের এক গর্ভবতি নারী বলেন,জীবনের সাথে যুদ্ধকরে এই সড়ক দিয়ে যেতে হয়। অসুস্থ্য রোগী নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গেলে সুস্থ্য মানুষও অসুস্থ্য হয়ে যায়। আমরা এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা। সরকার বলে সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে তাহলে আমরা কোথায় আছি আমাদের সেই প্রশ্ন সরকারে কাছে রইলো ।

জামাল হোসেন নামের এক রিকশা চালক বলেন, ভাই আমরা কি কমু রাস্তার কথা পেটের দায়ে রিকশা চালাই রাস্তার এমন ভাঙ্গা একদিন ও ঠিকমত রিকশা চালাতে পারিনা। রিকশার চাকা,একক্সেল ভাইঙ্গা যায়।কোন যাত্রী ও রিকশায় উঠতে চায়না কারন একেতো রাস্তার ভয়াবহ অবস্থা আর এই জন্য ধূলা বালির থেকে মাফ পাওয়ার কোন রাস্তা নেই। এমন হলে আমরা কেমনে বাঁচবো বলতে পারেন।
সড়কটি সংস্কারে জন্য ইতো মধ্যে সব ধরনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে জন্য উপযোগী করা হবে বলে আসার বাণী শোনালেন স্থানীয় সরকার এলজিইডির নিবার্হী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান মুন্সীগঞ্জ।

মরন ফাঁদ সড়কটি দ্রæত সংস্কারের মাধ্যমে এই অঞ্চলের হাজারো মানুষদের জীবন মান উন্নয়নের এগিয়ে আসবে সরকার এমনটা প্রত্যশা যেনো সকলের।

Leave A Reply

Pinterest
Print