মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে হেযবুত তওহীদের উদ্যেগে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসা ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

0
11358886_944691085595528_903518145_n

মেহেরপুরের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সোমবার সকালে হেযবুত তওহীদের উদ্যেগে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি ও ধর্মবিশ্বাসের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকবৃন্দের একাংশ

স্টাফ রিপোর্টার:  সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি ও ধর্মবিশ্বাসের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে সোমবার সকালে মেহেরপুরের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাঁকজমকপূর্ণ এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি ছিলেন মেহেরপুর-১ আসনের সাংসদ ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মো: ফরহাদ হোসেন (দোদুল)। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে অত্যন্ত সময়োপযোগী, প্রাণবন্ত আলোচনা রাখেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আমন্ত্রিত ছিলেন মেহেরপুর জেলার জেলা-প্রশাসক মো: মাহমুদ হোসেনসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ। হেযবুত তওহীদের আমীর মসীহ উর রহমান এবং দৈনিক বজ্রশক্তির উপদেষ্টা ও দৈনিক দেশেরপত্রের সাবেক সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নীও বিশেষ আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হেযবুত তওহীদের খুলনা বিভাগীয় আমীর শেখ মনিরুল ইসলাম। সকাল থেকেই সদর থানাসহ দূর-দূরান্তের আপমর জনতা এসে উপস্থিত হতে থাকে মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এবং পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহ থেকেও সকল শ্রেণিপেশার মানুষ এসে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। জনতার ঢলের কারণে হলরুমের পরিবর্তে খোলা জায়গায় স্টেজ করে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়।

ধর্মবিশ্বাস বা ঈমান আমাদের শক্তি, আমাদের সম্পদ। এই ঈমানকে জাতির অকল্যাণে নয়, বরং মানবতার কল্যাণের কাজে লাগানো প্রয়োজন। এটাই প্রকৃত এবাদত- মুখ্য আলোচকের আলোচনায় এ কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই ধর্মবিশ্বাসী, যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ আল্লাহ রসুলকে বিশ্বাস করেন, পরকালীন নাজাতের জন্য অনেক আমল করেন, এমনকি ইসলামের জন্য অনেকে মৃত্যুরও পরোয়া করেন না। তাদের এই ঈমানী চেতনাকে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি বারবার ভুল খাতে প্রবাহিত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে এবং দেশে হানাহানি, দাঙ্গা, অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এভাবে একটি সমাজ যখন অন্যায় অশান্তিময় হয় তখন সেই সমাজকে শান্তিময় করা কেবল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব হয় না, তখন নিজের স্বার্থ না ভেবে জাতির জন্য ভূমিকা রাখা সমাজের প্রতিটি মানুষের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহর শেষ রসুল (স.) এবং তাঁর আসহাবগণ জাহেলিয়াতে পূর্ণ পৃথিবীর যাবতীয় অন্যায় অবিচার দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজেদের যাবতীয় সম্পদ ও শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত নিঃশেষ করে গেছেন। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের সন্তান হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা, এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর কথা স্মরণ করে বলা হয়, এ লক্ষ্যেই তিনি নিজের জীবন ও সম্পদ ব্যয় করে গেছেন। তাঁর শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত হওয়া উচিত। যে ঈমান দুনিয়াতে মানুষের কল্যাণে কাজে আসে না, সেই ঈমান পরকালেও কোনো কাজে আসবে না। মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার মধ্যেই রয়েছে একজন মো’মেন বান্দার দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে সফলতা।

ধর্মীয়-রাজনীতিক বিভক্তি, জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসাসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার কাজে সকলকে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়।  অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক বজ্রশক্তি।

Leave A Reply