ময়মনসিংহের গৌরীপুরে হেযবুত তওহীদের জঙ্গিবাদবিরোধী জনসভা

0

mymonsinghগৌরীপুরে হেযবুত তওহীদের জঙ্গিবাদ বিরোধী জনসভা মঞ্চে উপবিষ্টঅতিথিবৃন্দ এবং উপস্থিত জনতার একাংশ।

ময়মনসিংহ ব্যুরো: ‘জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে ও গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারের সার্বিক সহযোগিতায় বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৪ টায় গৌরীপুর উপজেলার ঐতিহাসিক হারুন পার্কে উক্ত জনসভার আয়োজন করা হয়। এর আগে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সম্প্রদায়িকতা বিরোধী স্লোগান, ব্যানার, ফেস্টুনে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি  উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো প্রদক্ষিণ করে।DSC00136জনসভার পূর্বে একটি র‌্যালি গৌরিপুর উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো প্রদক্ষিণ করে।

হেযবুত তওহীদের ময়মনসিংহ জেলা আমির মো. মোর্শেদ খান এর সভাপতিত্বে জনসভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় আমির মো. এনামুল হক বাপ্পা। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের কিশোরগঞ্জ জেলা আমির আব্দুর রব, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার গৌরীপুর উপজেলা কমান্ড বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম, গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়াও হেযবুত তওহীদের গৌরীপুর উপজেলা আমির মো. রাজিব আহম্মেদ, নান্দাইল উপজেলা আমির মো. মাসুদ বেপারী, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আমির মো. আতাউর রহমান প্রমুখ।
মো. শফিকুল ইসলাম মাস্টারের সঞ্চালনায় ময়মনসিংহ জেলা আমির মো. মোর্শেদ খান তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক এনামুল হক বাপ্পা তার বক্তব্য বলেন, ‘যে জঙ্গিবাদের করাল থাবায় ধ্বংস হয়ে গেছে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ইত্যাদি একটার পর একটা মুসলিম দেশ সেই জঙ্গিবাদ হানা দিয়েছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। এর বিরুদ্ধে কেবল সরকার বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একক প্রচেষ্টা নয় বরং আমাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই জঙ্গিবাদকে সমূলে উৎপাটন করে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এর জন্য কেবল শক্তি প্রয়োগ নয়, চাই আদর্শিক লড়াই সেই আদর্শিক লড়ায়ের মধ্য দিয়ে জাতিকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ।’
তিনি বলেন, শেষ নবী মোহাম্মদ (সা.) যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা গ্রহণ করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নতির চরম শেখরে পৌঁছে গিয়েছিল তৎকালীন মুসলিম জাতিটি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সেটি এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে মানুষ রাতে ঘুমানোর সময় ঘরের দরজা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করত না, রাস্তায় ধন-সম্পদ ফেলে রাখলেও তা পরে যেয়ে যথাস্থানে পাওয়া যেত, চুরি, ডাকাতি, হত্যা, রাহাজানি প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছিল, আদালতে মাসের পর মাস কোন অপরাধ সংক্রান্ত মামলা আসতো না। আর অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রতিটি মানুষ এমন স্বচ্ছল হয়েছিল যে, তারা যাকাত ও সদকা দেওয়ার জন্য টাকা পয়সা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো কিন্তু টাকা গ্রহণ করার মতো লোক পাওয়া যেত না। শহরে নগরে লোক না পেয়ে মানুষ মরুভূমির অভ্যন্তরে যাকাত দেওয়ার জন্য ঘুরে বেড়াতো। আজ পৃথিবীময় যে ইসলাম চলছে তা আল্লাহর রসুলের ইসলাম নয় বলেই সেই শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। কাজেই সকলকেই সেই প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।’
বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে হেযবুত তওহীদ যেভাবে মাঠে-ঘাটে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করছে তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাই। আমরা আপনাদের সাথে আছি, আপনাদের মুক্তিযোদ্ধা গৌরীপুর উপজেলার পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা থাকবে।’
বিশেষ অতিথি মো. নুরুল ইসলাম এমন একটি মহতি উদ্যোগের জন্য হেযবুত তওহীদের সকল নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

Leave A Reply

Pinterest
Print