রংপুরের ভাওয়াইয়া গান ও একজন পাগল মোস্তাফিজুর

0

mostafijur rahmab bd betar
আমরিুল ইসলাম:
রংপুরের তথা বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের গান ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া গান। যে গান মা,মাটিও মানুষের মনের কথা বলে, তুলে ধরে গ্রামের পল্লী সমাজের স্পষ্ট চিত্র। আর এই গানের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ও সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কঠোর পরিশ্রম ও নিরলস সাধনা করে যাচ্ছেন রংপুরের একজন গান ও ভাওয়াইয়া পাগল একেএম মোস্তাফিজুর রহমান। জন্ম ২১শে ডিসেম্বর ১৯৫৮খ্রিষ্টাব্দে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ঘাঘট নদীতীরবর্তী ইসলামপুর গ্রামে। রংপুরের এই ছোট চারাটি আজ নানা শাখা প্রশাখা আর সমৃদ্ধে ফল-ফুলে কুড়িয়ে নিয়েছে বড় বৃক্ষের ন্যায় নাম ও যশ। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তি যিনি ১৯৯২সালে ভাওয়াইয়া শিল্পীদের জাতীয় ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রথম সংগঠন“বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ, রংপুর” ও দেশের প্রথম ভাওয়াইয়া গানের স্কুল “বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমী,রংপুর” এর প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্দ্যেক্তা। এই ভাওয়াইয়া গানের পিছনে ছুটে আজ তিনি কুড়িয়ে নিয়েছেন ভাওয়াইয়া অঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, বিশিষ্ট ভাওয়াইয়া শিল্পী, গীতিকার, সুরকার,লেখক, সংগ্রাহক, গবেষক, বাংলাদেশ বেতারের সংগীত প্রযোজক ও দেশের ভাওয়াইয়া বিষয়ক সংগঠন প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ এর মত একগাদা খ্যাতি ও দায়িত্ব। শুধু তিনি নন এ মহান ভাওয়াইয়া সংগঠকের পুত্র সাহস মোস্তাফিজ দেশের শিশু শিল্পীদের মধ্যে প্রথম অডিও ক্যাসেটের শিল্পী যিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নরত এবং মেয়ে মণিফা মোস্তাফিজ মন চ্যানেল আই আয়োজিত ২০০৯এর ক্ষুদে গান রাজ এর অন্যতম শিল্পী। সহধর্মীনী সালমা মোস্তাফিজ বাংলাদের অন্যতম শিল্পী ও সংগঠক। যিনি বর্তমানে ভাওয়াইয়া অঙ্গন ঢাকার নিবেদিত চেয়ারপার্সন।
গত রবিবার ২১শে ডিসেম্বর এ মহান ভাওয়াইয়া পাগল একেএম মোস্তাফিজুর রহমানের ৫৭তম জন্মদিন ছিলো। এ উপলক্ষে ভাওয়াইয়া অঙ্গন রংপুর বিভাগীয় শাখার আয়োজনে রংপুরের নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ায় ভাওয়াইয়া চত্বরে ছিলো দিন ব্যাপি অনুষ্ঠান। সকাল ১১টা। চত্বরে ঢুকতেই শোনা গেলো “বটবৃক্ষের ছায়া যেমন রে মোরও বন্ধুর মায়া তেমনরে……….।” দিনব্যাপি কর্মসূচীর এই মহান ভাওয়াইয়া পাগল কর্তৃক ভাওয়াইয়া চত্বরে বটবৃক্ষ রোপন করার পর বটগাছের মহিমায় আচ্ছন্ন হয়ে গান ধরেছেন পাগল মোস্তাফিজুর। সাথে সুর মিলাচ্ছেন অন্যান্য সঙ্গীরা। মধ্যাহ্ন ভোজের সময় নিজ হাতে পরিবেশন ও তদারকি করে খাওয়ালেন অনুষ্ঠানে উপস্থি সকল অতিথিবৃন্দকে। বিকাল ৩টায় মূল প্রোগাম। এই পাগল মানুষটির জীবন ও কর্মভিত্তিক আলোচনা ও জন্ম দিনের কেক কাটা অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসাবে আসবেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ্যাডঃ হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া। তাইতো এ সংগঠক নিজ হাতে লাগাচ্ছেন ব্যানার, সাজাচ্ছেন মঞ্চের চেয়ারগুলো। মাঝে-মাঝেই ভাওয়াইয়া অঙ্গনের সচিব রনজিৎ কুমার রায়কে বলে দিচ্ছেন অন্যান্য কাজের দিক নির্দেশনা। এ পাগল মানুষটিকে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর একমাত্র মেয়ে মণিফা ও স্ত্রী সালমা মোস্তাফিজ। সত্যিই এই পাগলের পরিবার একটি সংগঠকের পরিবার।
জীবনের এই প্রান্তে আসতে অনেক চরাই-উত্তরাই ও বাধা পার করতে হয়েছে এই পাগল মানুষটিকে। তুবুও আজ তিনি স্বপ¦ দেখেন রংপুরের ভাওয়াইয়া অঙ্গনে ভাওয়াইয়া স¤্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদের নাম করনে আব্বাসউদ্দীন মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ করতে। যেটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ অভাবে থমকে থমকে চলছে নির্মাণ কাজ। তিনি আরও স্বপ¦ দেখেন ঢাকায় ভাওয়াইয়া ভবন নির্মাণ ও চিলমারী থেকে ঢাকার কমলাপুর পর্যন্ত ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস নামে ট্রেন চালু করার। তিনি তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো পূরণ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ এমনকি সকলকে এগিয়ে আসার উদ্বাত্ত আহব্বান জানান।

Leave A Reply