রংপুরে মোটর মালিক ও শ্রমিকদের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০

0

clash pic
রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের সাতমাথায় গত মঙ্গলবার রাতে মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ চার রাউন্ড গুলিসহ ১৫টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। টোল আদায়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গেলো কয়েক মাস ধরেই এলজিআরইডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা নিয়ন্ত্রিত রংপুর মোটর মালিক সমিতি, পিক আপ শ্রমিক ইউনিয়ন, অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতির সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় পার্টির ‘চার নেতা’ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এমএম মজিদ নিয়ন্ত্রিত মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, পিক আপ মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্ব ও বিরোধ চলছিল। এরই ধাবারাহিকতায় গত ঈদুল ফিতরের আগ থেকে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ ও দফায় দফায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটও হয়।
সর্বশেষ গত রোববার রাঙ্গা সমর্থিতদের দ্বারা মজিদ সমর্থিতদের দুটি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মজিদ সমর্থিতরা রংপুর থেকে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার সময় রাঙ্গা সমর্থিত পিক আপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাঈদের নেতৃত্বে একটি দল সাতমাথা বাসস্ট্যান্ড এলাকা দখলে নিতে চাইলে তাতে বাধা দেয় মজিদ সমর্থিত পিক আপ মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়ে। এতে পুলিশ কনস্টেবল শাহিন হোসেন, রফিকুল, সোহেল, সাহেরা, সুফিয়া, সোহাগসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সকালে পিকআপ মলিক সমিতির নেতাকর্মীরা সাতমাথায় বিক্ষোভ করেছে। এ সময় সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ ঘটনার জন্য প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে তাদের শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকে পুরো উত্তরাঞ্চল অচল করে দেয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এ সময় পুলিশ চার রাউন্ড গুলি ও ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বলেও জানান তিনি। পিক আপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার তৈরি করা কথিত পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সন্ত্রাসী বাহিনী অবৈধভাবে তাদের অফিস দখল ও ভাঙচুর করেছে। সন্ত্রাসীদের কারণে হাজার হাজার মালিক শ্রমিক বর্তমানে অসহায় জীবন যাপন করছে। বিষয়টি পুলিশকে বারবার অবহিত করলেও তারা ইতোপূর্বে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছি। জীবনহানির আশঙ্কায় ভুগছি।” অন্যদিকে পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বলেন, “মজিদের ভাগিনা আশরাফুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে সাতমাথায় পেয়ে আটক করে মারধর করে। বিষয়টি জেনে শ্রমিকরা এর প্রতিবাদ করে।” তিনি এ ঘটনায় পুলিশের ভুমিকাকে পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

Leave A Reply