রাজৈরে শিশুকে ৬ টুকরা করে হত্যা

0

রাজৈর,( মাদারীপুর) প্রতিনিধি:  মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ছয় টুকরা করে হত্যা করেছে এক মসজিদের ঈমাম। পরে লাশ বস্তাবন্দী করে মসজিদের পাশে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। গত রোববার এ ঘটনা ঘটে রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া গ্রামে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া গ্রামের টুকু সরদারের শিশুকন্যা আদুরী (৬) রোববার সকালে মসজিদে আরবি পড়তে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ থাকে। পরে জানা যায়, আদুরীকে অপহরণ করেছে সেনদিয়া মসজিদের ঈমাম মো: শফিকুল ইসলাম। অপহরণের করে আদুরীর বাবার কাছে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ঐ ভন্ড ঈমাম। আদুরী সেনদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী বলে জানায় নিহতের ভাই শাহিন। স্বজনরা তাকে খোঁজা-খুজি করেনা পেয়ে হতাস হয়ে পড়ে। এ সময় শফিকুল মোবাইল ফোন থেকে বার বার রিং দিয়ে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে।টাকা না দিলে আদুরীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

সোমবার ব্যাপারটি পুলিশে জানালে রাজৈর থানার এস আই সমীর জিজ্ঞাসা বাদের জন্য মসজিদের ঈমাম শফিকুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ঈমাম জানায় সোমবার সকালে আদুরীকে হত্যা করে লাশ সিমেন্টের বস্তায় ভরে মসজিদের পাশে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়। বুধবার সন্ধায় সেনদিয়া গ্রামে আদুরীর লাশ দাফন করা হয়। আদুরীর মা তাসলিমা আক্তার বিলাপ করে বলেন। একটি চক্র আমার পরিবারকে ধবংসের কাজে নেমেছ । দশ বছর পূর্বে আমার ষোল বছর বয়সী একটি মেয়েকেও কে বা কারা সু-কৌশলে গলায় ফাস লাগিয়ে হত্যা করে। আমি শান্তিতে বাস করতে চাই এবং ঐ চক্রের ফাঁসি চাই। রাজৈর থানা ও সি আনোয়ার হোসেন ভূইয়া জানান,এ ব্যাপারে থারায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ঈমাম শফিকুল সহ সংবদ্ধ একটি চক্র এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে শিগগিররি তার সহযোগগিদেরও গ্রেফতার করা হবে। শফিকুলের বাড়ী পিরোজপুর সদর উপজেলার বৈরামপুর গ্রামে রফিকুল ইসলামে ছেলে বলে জানা গেছে।

Leave A Reply

Pinterest
Print