শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ: ত্রিপুরা বিজিপি সভাপতি

0

photo-01
মফিজুল ইসলাম বাবুল,চাঁদপুর: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদানকারী ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশের বিজিপি’র সভাপতি শ্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেছেন, শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যে ভাবে বিকশিত হচ্ছে, তাতে আমার বিশ্বাস ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে। আমি বঙ্গভূমিকে নমস্কার জানাই, কেননা বিশ্বের এক মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান এই ভূমিতে। আপনারা খুবই ভাগ্যবান যে, এদেশে বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতা পেয়েছেন। এখন আবার তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পেয়েছেন। যার যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আজ সোমবার দুপুরে কচুয়া প্রেসক্লাবের আয়োজনে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠন, কচুয়া উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রাণধন দেবের সভাপতিত্বে ও কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রিয়তোষ পোদ্দারের পরিচালনায় তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মানে ২০৪১ সালের মধ্যে যে রূপকল্প ঘোষনা করেছে তা আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফল ভাবে বাস্তবায়ন হয়ে চলছে। পাশাপাশি আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক দলটি তাঁর নেতৃত্বে বিকাশ পাচ্ছে। তেমনি ভাবে ভারত সরকার ভারতের উন্নতি কল্পে যে কর্মসূচী ঘোষনা করেছে উহা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মুদীর নেতৃত্বে সফল ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। একই ভাবে নরেন্দ্র মুদীর নেতৃত্বে বিজেপি বিকাশ পাচ্ছে। আওয়ামীলীগ ও বিজেপি হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক কর্মসূচী পালন করছে। একই ধরণের কর্মসূচী ছাড়াও আওয়ামীলীগ ও বিজেপি এ দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে যে বড় মিলটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে তা হচ্ছে- বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক পদ্ম ফুল, আর আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। উভয়টি জল ছাড়া বাঁচতে ও চলতে পারে না। এমনি ভাবে কৃষ্টি সংস্কৃতির দিক থেকেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে হাজারো মিল।
আমার পৈত্রিক নিবাস চাঁদপুরের কচুয়ার মেঘদাইর গ্রামে রয়েছে ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘মনসা মূড়া’। এ ‘মনসা মূড়াকে’ একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আপনারা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ মনসা মূড়ার সাথে সম্পর্ক রয়েছে আমার পূর্ব পুরুষদের। আমার প্রয়াত পিতা হিরুধন দেব প্রতি বছরই মনসা পূজা উপলক্ষে মনসা পূজা করার জন্য এ মনসা মূড়ায় আসতেন। তিনি গত বছরও এ মনসা মূড়ায় পূজা করে গেছেন। আমি আপনাদের হয়ে মেঘদাইর এ বহুল আলোচিত ঐতিহাসিক নিদর্শন মনসা মূড়াটিকে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আপনাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পত্র লিখে অনুরোধ জানাবো। আশা করি এ মনসা মূড়া দেশের একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এ মতবিনিময় সভা চলাকালে টেলি কনফারেন্সে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বিজেপি নেতা বিপ্লব কুমার দেবসহ তার সফর সঙ্গীদেরকে কচুয়ায় আগমন করায় তাদেরকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার অসম্প্রাদায়িক বাংলাদেশে বিশ্বাসী। এখানে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই। জঙ্গিবাদ সমূলে উৎখাত করে আমরা বাংলাদেশকে অসম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে উন্নতির পথে এগিয়ে নেব।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথির সহধর্মীনী স্ট্রেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সিনিয়র অফিসার নিতি রানী দেব, ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার নবীনগর আসনের এমপি ফজলুর রহমান বাদল ও কচুয়া পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমির হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আঃ মবিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মোতাহের হোসেন দুলাল, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ফণি ভূষন মজুমদার তাপু, সাধারন সম্পাদক বিকাশ সাহা, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সাধারন সম্পাদক মোফাচ্ছেল হোসেন খান, কচুয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান ও সাধারন সম্পাদক মানিক ভৌমিক প্রমুখ। প্রধান অতিথি ও বিশেষবৃন্দ মতবিনিময় সভায় আলোচনা শেষে কচুয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের এক ফটোসেশনে যোগ দেন। অতপর তারা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের গুলবাহার গ্রামের বাসভবনে গিয়ে এক চা চক্রে যোগদান করেন এবং চা চক্র শেষে তার চাচা কচুয়া উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রাণধন দেবের গ্রামের বাসভবনে গিয়ে কিছু সময় বিশ্রাম শেষে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে কচুয়া ত্যাগ করেন।
প্রধান অতিথি ও তার সফর সঙ্গীরা সকাল ১১টার দিকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারী ডিগ্রী কলেজ মাঠে অবতরণ করলে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী মুহম্মদ আশরাফ হোসেন, কচুয়া পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন ও কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ একেএমএস ইকবালসহ কচুয়া উপজেলা বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ তাদেরকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। বিডিপত্র/আমিরুল

Leave A Reply

Pinterest
Print