বেড়ায় সওজ’র দুই একর পুকুর ভরাট করে হাট-বাজার নির্মাণের অভিযোগ

0

Pabna20151213065548বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বেড়ায় অবস্থিত স্ট্যাকইয়ার্ডের প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচ একর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর তৈরি করে হাট-বাজার বসিয়েছে। তারা মার্কেট নির্মানের জন্য ষ্ট্যাকইয়ার্ডের ভেতরের দুই একর আয়তনের পুকুরটি বালি ফেলে ভরাট করছে। এছাড়া জনৈক ঠিকাদার সিঅ্যান্ডবি চতুর বাজারে সওজের প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের এক বিঘা জায়গার উপর পাঁকা মার্কেট নির্মান করে ভাড়া দিয়েছে। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ষ্ট্যাকইয়ার্ডের ভেতরে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসিয়ে টোল আদায়ের হাজার হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। কোটি কোটি টাকার ভূসম্পত্তির অবৈধ দখলের সাথে পাবনা সওজের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাবনা সওজ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নগরবাড়ী-বগুড়া মহাসড়কের বেড়া সিএন্ডবি বাস ষ্ট্যান্ডের উত্তর-পূর্ব পাশে পাঁচ একর (১৫বিঘা) জায়গা হুকুম দখল করে সেকশনাল অফিস স্থাপন করে। পরে সেকশনাল অফিস কাশিনাথপুর স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে বেড়া সেকশনাল অফিসটি পাবনা সওজ বিভাগের প্রধান স্ট্যাক ইয়ার্ড হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। মহাসড়কের পাশে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের এই ভূসম্পত্তির ওপর নজর পরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির। তারা ২০১০ সালে ষ্ট্যাকইয়ার্ডের স্থাপনাসহ পাঁচ এক ভূসম্পত্তি দখল করে নেয়। চলতি মাসের প্রথম থেকে ষ্ট্যাকইয়ার্ডের প্রায় দুই একর আয়তনের একটি পুকুর বালি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। ১০-১২টি ট্রাক বালি ভারাজ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বালি ভারাটের পর সেখানে মার্কেট নির্মান করে ভাড়া দেয়া হবে বলে জানা গেছে। পুকুরটি ভরাট করায় হাটের ও আশেপাশের লোকজনকে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পাবনা সওজ বিভাগের প্রকৌশলীদের যোগসাজসে ষ্ট্যাকইয়ার্ডের জায়গা দখলে নিয়ে অবৈধভাবে গো-খামার, কাঠের আরত, ওয়েল্ডিং কারখানা, ওয়ার্কশপ, ভাঙ্গাড়ী দোকান নির্মান করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কয়েকজন দোকান ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছে। সপ্তাহের দুই দিন শনি ও মঙ্গলবার ষ্ট্যাক ইয়ার্ডে অবৈধভাবে পাট, গাছের চারা, ফার্নিচার, রিক্সা ভ্যানসহ নানা পণ্য বিক্রি হাট এবং প্রতিদিন বিকেলে বাজার বসে। হাট-বাজার থেকে আদায় করা টোলের হাজার হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলটি সওজের নির্বাহী প্রকৈশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) কামাল পাশার যোগসাজসে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। পুকুরে ভরাটের সাথেও তারা জড়িত। ফলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সওজের প্রকৌশলীরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বর স্থানীয় প্রভাবশালী মহলটি পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের বেড়া স্ট্যাকইয়ার্ডটি দখল করে নেয়। এরপর স্ট্যাক ইয়ার্ডের একটি সেমি-পাঁকা ভবন ও বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে ফেলে ভেতরে ইউ টাইপের প্রশস্থ হেরিংবন্ড সড়ক নির্মান করা হয়। বেড়া পৌরসভার এই সড়কটি নির্মান করেছে। সিএন্ডবি চতুরহাটের একাধিক ব্যবসায়ী এ প্রতিনিধিকে জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পাবনা সওজ বিভাগের কিছু অসৎ প্রকৌশলীর যোগসাজসে জায়গা দখলে নিয়ে দোকান ঘর তৈরি করে ভাড়া দিয়েছে। তারা ভাড়া ও খাজনার টাকা তুলে সওজের অসৎ প্রকৌশলীদের সাথে ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। ফলে সরকারের কোটিকোটি টাকা মূল্যের মূল্যবান ভূসম্পত্তি বেদখলে চলে গেছে।

এছাড়া নগরবাড়ী-বগুড়া মহাসড়কের বেড়া ইছামতি নদীর ওপর পরিত্যাক্ত ব্রীজের পূর্বপাশে চতুর বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পাবনা সওজ বিভাগের প্রায় চার কোটি টাকার প্রায় এক বিঘা জমি জনৈক নাজিম ঠিকাদার ২০১১ সালে দখলে নিয়ে টিনের ঘর তুলে ভাড়া দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি সে টিনের ঘর ভেঙে পাঁকা মাকের্টে অনেক দোকান ঘর নির্মণ করে ভাড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাবনা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোফাজ্জল হায়দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বেড়া ষ্ট্যাকইয়ার্ডের জায়গা কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়া হয়নি। বেড়া পৌর পরিষদ অবৈধভাবে ষ্ট্যাকইয়ার্ডের দখল করে কাজগুলি করেছে। ষ্ট্যাকইয়ার্ডের পুকুর ভরাট ও চতুর বাজারে মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই বলে জানিয়েছেন।

বেড়া পৌরসভা মেয়র আলহাজ আব্দুল বাতেনের সাথে একাধিক বার যোগাগের চেষ্টা করে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

Leave A Reply

Pinterest
Print