সরকারের দেয়া জমিটুকো ফিরে পেতে চায় মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল

0
মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক পীরগঞ্জ রংপুর-muktijoddha mojammel haque pirgonj rangpur

মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক

মনোয়ার হোসেন লিটন,পীরগঞ্জ ( রংপুর) প্রতিনিধি:

মোঃ মোজাম্মেল হক । একজন মুক্তিযোদ্ধা । এলাকায় যাকে চেনে একাত্তর ভাই বলে । রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামে জন্ম । ৭১রের মুক্তিযুদ্ধে টালমাটাল বাংলাদেশ। পাকিস্থানি সেনারা এ দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষদের হত্যাযঞ্জের হোলি খেলায় মত্ত। সারােেদশে যুদ্ধের দামামা।ধ্বংস লীলায় একেরপর এক বিধস্ত জনপদ । ১৯৭১রের ১৭ এপ্রিল ঐুতিহাসিক আংরার ব্রীজ এলাকায় পাকিস্থানি বাহিনীর সাখে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ, ১৮ এপ্রিল মাদার গঞ্জ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার দৃশ্য মোজাম্মেলের কিশোর মন কে আন্দোলিত করে । সে প্রতিজ্ঞা করে এ দেশ থেকে পাকিস্থানিদের না হটানো পর্যন্ত সে আমরন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে । মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সে পারি জমায় পাশ্ববর্তী বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের উদ্দেশ্য । প্রশিক্ষণ নেয় চিলমারীর নো ম্যানস ল্যান্ডের প্রশিক্ষন কেন্দ্রে। অল্প দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েই ১১ নং সেক্টরের অধীনে চিলমারীসহ বিভিন্ন সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে অত্যান্ত সাহসিকতার সহিত । এরপর সেক্টর কমান্ডের নির্দেশে ফুলছড়ির যমুনা নদীতে পাকিস্থানী বাহিনীদের বহন করা ফেরীটি অত্যান্ত সাহসিকতার সহিত ডুবিয়ে দেয় তার দল । এই যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হয়। বিভিন্ন ক্ষন্ড যুদ্ধে অংশ গ্রহন করতে করতে ৭১রের ১৫ ডিসেম্বর সদলবলে গাইবান্ধা শহরে প্রবেশ করেন মুক্তিযোদ্ধা দলটি। দেশের বিভিন্ন এলাকা ইতোমধ্যেই স্বাধীনতা লাভ করলে ১৬ ডিসেম্বর স্থানীয় ডাকবাংলো মাঠে স্বাধীন দেশের জনগনের সাথে মোজাম্মেল যোগ দেয় বিজয় মিছিলে । যুদ্ধের সময় টগবগে মোজাম্মেল হক দশম শ্রেণীর ছাত্র। স্বাধীন দেশে এসএসসি পাশ করে মোজাম্মেল হক ”অপুস্টি জনিত অন্ধত্ব নিবরন প্রকল্পে ”যোগদান করে তার কর্ম জীবন শুরু করে । বিয়ে করেন উপজেলা তুলারাম মজিদপুর গ্রামের জুলেখা বেগমকে । বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে হটাৎ করে তার সারা জীবনের কর্মস্পৃহাকে থামিয়ে দেয় পংগুত। জীবনের ঘানি টানতে টানতে বিধস্ত মোজাম্মেল হকের একমাত্র সম্বল সরকার কর্তৃক প্রতিমাসের প্রদেয় টাকা কয়টা । যুদ্ধ সব হারানো মোজাম্মেল হক এখন সহায় সম্বলহীন । উপজেলা প্রসাশন কর্তৃক মাথা গোজার মত এক টুকরো খাস জমির বন্দোবস্তো পেলেও স্থানীয় প্রভাব শালী ভুমিখেকোদের দৌরাত্বে সেই জমিতে সে দখল দিতে পারছেনা । ৪ সন্তানের জনক মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে । জীবনকে বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া এই অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা সরকার কর্তৃক প্রদেয় জমিটুকো উদ্ধারসহ তার সন্তানদের পুর্ণবাসনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান নিয়ে বাচতে চান। এজন্য মোজাম্মেল হক মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক মুজিব কন্যার নিকট আকুল অবেদন জানিয়েছেন।

 

Leave A Reply

Pinterest
Print