সুন্দরগঞ্জে পুলিশ জনতা সংঘর্ষে আহত অর্ধশত, ২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

0

সুন্দরগঞ্জ,গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চর খোর্দ্দা ও লাঠশালার চরে বেক্সিমকো কোম্পানির প্রস্তাবিত সোল্যার প্যানেল পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণাধীন এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিআর সেল, রাবার বুলেট ও অন্তত ২৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। ঘটনার সময় আনসার ক্যাম্পে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশ অফিসার ও দুই কনস্টেবলসহ অন্তত অর্ধশত জন আহত হয়েছে। খোয়া গেছে দায়িত্বরত আনসার সদস্যের দুইটি রাইফেল। জানা গেছে, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের চর-খোর্দ্দা ও লাটশালার চরে বেক্সিমকো কোম্পানি সোল্যার পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের জন্য ৭’শ একর জমি ক্রয় করেন বেক্সিমকো গ্রুপ। জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসি। মঙ্গলবার বিকালে ক্রয়কৃত জমির দখল নিতে গেলে এলাকাবাসি এর প্রতিবাদ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে এলাকাবাসি সাথে সংঘর্ষ বাধে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ টিআর সেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে থাকলে এলাকাবাসি পুলিশকে ঘিরে ফেলে। এসময় পুলিশ অন্তত ২৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। এতে চার পুলিশ অফিসার ও দুই কনস্টেবলসহ অর্ধশত লোক আহত হয়। আহতদের মধ্যে- এসআই আলম বাদশা, বাবুল, ওয়াহেদ আলী, এএসআই শরিফুল, কনস্টেবল মোজাম্মেল ও সাজ্জাত। আহত এলাকাবাসীরা হলেন- রেজাউল, বাদশা, মোজা মন্ডল, আকরাম, মুক্তি সরফুল, রুবিয়া, আরজিনা, রাজ্জাক, মমিন, মতিয়ার, সালমা, সলেমান, আশরাফুল, আব্দুল হক মন্ডলসহ অন্তত অর্ধশত লোক। এঘটনায় আহতদের সুন্দরগঞ্জ, উলিপুর, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও পীরগাছাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে আসেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস.এম. গোলাম কিবরিয়া ও থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিয়ার রহমান। জেলা ফায়ার ব্রিগেড’র দুইটি ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আনসার ক্যাম্পের সহকারী কমান্ডার নজরুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সময় সেখানে অবস্থানরত আনসার সদস্যরা তড়িঘরি করে বের হয়ে গেলে সেখানে থাকা দুইটি রাইফেল খোয়া যায়। এ খবর লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে প্রকল্পের কো-অডিনেটর ইয়ার আলী জানান, এ ঘটনায় তাদের কোটি টাকার সম্পদ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ্য, বেক্সিমকো গ্রুপের প্রস্তাবিত পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের জন্য নিয়ম বর্হিভূত জমি অধিকরণ করায় প্রতিবাদ করেন এলাকাবাসি। দাবী আদায়ে প্রতিবাদ মুখর হয়ে দীর্ঘদিন থেকে বাস্তভিটা ও আবাদি জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি গঠন করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন তারা। ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবাদি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, মসজিদসহ গুরুতপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

Leave A Reply