হেযবুত তওহীদের ফেনী জেলা কার্যালয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীদের সাথে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী মতবিনিময়

0

odison-picজঙ্গিবাদ বিরোধী এই আদর্শ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বর্তমানে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে চলছে দেশব্যাপী সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী সুধী সমাবেশ ও র‌্যালি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার বিকাল ০৪ টা সময় ফেনী জেলা হেযবুত তওহীদের কার্য়ালয়ে জেলা আমির দিল আফরোজ এর সভাপতিত্বে জঙ্গিবাদ, ‘সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে হেযবুত তওহীদের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের পাশাপাশি সম্মিলিত সাংস্কতিক জোটের ফেনী জেলা শাখার কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কৌসুলী (জি.পি) জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ফেনী; সহ-সভাপতি, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ ও সভাপতি, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ফেনী জেলা; সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব এ্যাডভোকেট প্রিয় রঞ্জন দত্ত।
উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের সাহিত্য সম্পাদক জনাব রিয়াদুল হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কতিক জোটের ফেনী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমরজিৎ দাশ টুটুল, সহ-সভাপতি মনজুর তাজিম,নারায়ন নাগ, সভাপতি ফেনী জেলা খেলাঘর এ্যাড জাহাঙ্গীর আলম লান্টু, চট্টগ্রাম বিভাগের হেযবুত তওহীদের আমির মো. সাইফুল ইসলাম পর্রশুরাম সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ইউসুফ বকুল।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক জনাব রিয়াদুল হাসান বলেন, “বর্তমানে শিল্প ও সংস্কৃতির সাথে ধর্মের একটি বৈরিতার সম্পর্ক রচিত হয়ে গেছে। নাচ, গান, অভিনয়, ভাস্কর্য নির্মাণ ইত্যাদি সব কিছুই ফতোয়া দিয়ে এক প্রকার হারাম বানিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে এগুলোর একটাকেও হারাম করেন নি। তিনি হারাম করেছেন যাবতীয় অশ্লীলতা ও আল্লাহর নাফরমানি। সেটা যে কোনো বিধানেই হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে। কারণ তা অন্যায় অশান্তি বিস্তার করে। ইসলাম আরবের সংস্কৃতিকে অন্য জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য আসে নি, কিন্তু আজকে ইসলামকে বহু বিকৃতভাবে উপস্থাপনের দরুন এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে, বাঙালি সংস্কৃতিকে হিন্দুয়ানী বলে ঘৃণা বিস্তার করা হচ্ছে। আসলে প্রতিটি জনপদের মানুষের সংস্কৃতিই কোনো না কোনো ধর্ম থেকে উৎপন্ন। তাই ধর্মের সাথে শিল্পের কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। আল্লাহর রসুল (সা.) সঙ্গীতচর্চাকে উৎসাহিত করেছেন এমন বহু ঘটনাই আমরা ইতিহাসে পাই। দেশের মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আমরা যে সংগ্রাম করছি, তাতে প্রত্যেক সংস্কৃতিমনা মানুষকে আমরা পাশে চাই।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এ্যাডভোকেট প্রিয় রঞ্জন দত্ত তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে কিছু যুবক ধর্মের বিকৃত ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। তাদেরকে ধর্মের প্রকৃত আদর্শ ও শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আমেরিকা জঙ্গী তৈরী করছে আবার জঙ্গীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে। আফগান থেকে ইরাক বার বার তারা লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে। আফগানে তারা বৌদ্ধ মন্দির এবং আমাদের দেশে নিরিহ ব্রা²ণ, সেবায়েত হত্যা করেছে।এখানে বিদেশীরা ঘাঁটি গাড়তে চায়।আমরা কোথায় থেকে এসেছি কোথায় যাব। মানুষই সবার চেয়ে বড় সত্য। মানুষের সেবা করাই বড় ধর্ম। আপনারা গ্রামে গঞ্জে হেযবুত তরহীদের প্রচার করেন, মানুষ উপকৃত হবে। আলেমরা এক সময় বলতেন ইংরেজি পড়া হারাম, এখন কি তারা সেই হারাম পরিবর্তন করেন নাই ? আপনারা স্কুল কলেজে গিয়ে এই সত্য জানান, তাহলে সত্য আসবে। তিনি আরও বলেন ঈমান ধ্বংশ হয় না। ঈমানকে শক্তিশালী করেন, মানুষকে বাঁচান। আমাদের হিন্দু বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে যদি বলেন আমরাও আপনাদের সাথে যাব। আপনাদের সহোযোগিতা করবো। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত হেযবুত তওহীদ আন্দোলন জঙ্গিবাদ বিরোধী এই মহতী উদ্যোগ গ্রহন করায় তিনি হেযবুত তওহীদকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া বক্তারা দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে জঙ্গিবাদবিরোধী গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীকে আহবান জানান।
বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম বিভাগের হেযবুত তওহীদের আমির জনাব মো: সাইফুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন “আমাদের দেশকে নিয়ে এবং ধর্মকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে তাই যারা প্রকৃত মো’মেন, যারা আল্লাহ্ রসুলকে ভালোবাসেন তাদের ঈমানী কর্তব্য এবং যারা দেশকে ভালোবাসেন তাদের নাগরিক কর্তব্য চলমান এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, যাবতীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ধর্ম বর্ণ দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তাই আমি আহবান করছি আসুন আমরা সকলে একস থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল ধরনের অন্যায়ের কাজ করি।
উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতি তার বক্তেব্যে বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ কোন ধর্মই সর্মথন করে না। কতিপয় স্বার্থান্বেষী আলেম নামধারী ধর্মব্যবসায়ী মোল্লা শ্রেণি ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে এদেশের তরুণদের জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে হেযবুত তওহীদ ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তুলে ধরে আসছে এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন বতমান যে ইসলাম চলছে এটা আল্লাহ ও তার রসুলের (সা.) দেওয়া ইসলাম নয়। আমরা যেভাবে চলছি এভাবে যদি চলতে থাকি তাহলে আফগানিস্তান, সিরিয়ার মত আমাদেরও একই অবস্থা হবে। তাই আমি বলতে চাই এই হামলা শুধু দেশের বিরুদ্ধে নয় এই হামলা আমাদের প্রিয় ধর্ম ইসলামেরও বিরুদ্ধে।

হেযবুত তওহীদের সদস্য মনজুরুল আলম এর সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেনসম্মিলিত সাংকৃ‹তিক জোটের ফেনী জেলা শাখার অর্থ সাম্পাদক উত্তম কুমার দেবসাথ, সদস্য এন এন জীবন,তাহামিনা তোপা সিমা, দিলু সরকার, হেযবুত তওহীদের সদস্য মোঃ একরামুল হক ভুঁইয়া, মো: জামাল উদ্দীন রুবেল, আব্দুল ওয়াহেদ মামুন, মো. আহাদ আলী , রিয়াদ হোসেন, আশিক মিয়া সহ আরো স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ।

Leave A Reply

Pinterest
Print