কী হবে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের?

0
57

crecet_delwar-----ok_59226স্পোর্টস ডেস্ক:
ক্রিকেট যারা মন থেকে পছন্দ করেন, তাদের নিশ্চয়ই মন খারাপ হয়েছে। এক সঙ্গে বিদায় নিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের তিন তারকা শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে এবং জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর। আরও কিছু দিন রঙিন জার্সি গায়ে রাখতে পারতেন শ্রীলঙ্কান দুই গ্রেট। তাতে লাভবান হতো শ্রীলঙ্কা এবং বিশ্ব ক্রিকেটের। ৫০ ওভারের ক্রিকেট যে তাদের বড্ড বেশি মিস করবে। ব্রেন্ডন টেলরের বিদায়টা তো দারুণ কষ্টের। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের পিলার বলা হতো ব্রেন্ডন টেলরকে। তার ওপরই মূলত দাঁড়িয়েছিল নড়বড়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট। সেই পিলারটাও সেরে গেল। এখন কি হবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের? বয়স মাত্র ২৯। ক্যারিয়ারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এটা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়ার কারণটা বয়স নয়। কারণ আর্থিক। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট এতটাই আর্থিক অনিশ্চয়তায় ঢাকা, যেটাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ কম। জাতীয় দলে সামান্য বেতন, তারও আবার গ্যারান্টি নেই। ঘরোয়া ক্রিকেটের অবস্থা তো আরও খারাপ। পেটে খিদে রেখে দেশপ্রেম চলে না-এটাই প্রমাণ করলেন তিনি। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে বিপদে রেখে তাই আর্থিক নিশ্চয়তা খুঁজেছেন ব্রেন্ডন। চুক্তি করেছেন ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব নটিংহ্যামশায়ারের সঙ্গে। মানে অগ্রজ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের পথেই হাঁটলেন টেলর। দেশের কথা না ভেবে কাউন্টিতে চলে যাওয়ার এমন সিদ্ধান্তে নিজেই অবশ্য ব্যথিত। কিন্তু পরিবারের আর্থিক নিশ্চয়তার জন্য এ ছাড়া তার কিছুই করার ছিল না বলে জানান টেলর। আসলেই তো, যেখানে আর্থিক নিশ্চয়তা নেই সেখানে আবেগ মূল্যহীন। ব্রেন্ডন শুধু জিম্বাবুয়ের সেরাই নন, আফ্রিকার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানও মনে করা হতো তাকে। বিশ্বসেরা বোলারদের পেটাতেন অবলীলায়। অসীম সাহস ছিল তার। এই বিশ্বকাপেও নিজের জাত চিনিয়েছেন। বড় বড় ব্যাটসম্যানদের পেছনে ফেলে প্রথম রাউন্ডে সাঙ্গাকারার পরই তিনি সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান। তাকে মিস করবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। টেলরের বিদায় জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের মহাবিপদ, অপূরণীয় ক্ষতি। আমাদের মিনহাজুল আবেদীন বলেছেন, টেলরের বিদায় পুষিয়ে ওঠার মতো নয়। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট আবার ওঠে আসার জন্য চেষ্টা করছিল। কিন্তু বড় আঘাতটা খেতে হলো তাদের। শ্রীলঙ্কার সামনের দিনগুলোও উজ্জ্বল মনে হচ্ছে না? সাঙ্গাকারা-মাহেলা ছাড়া শ্রীলঙ্কান ওয়ানডে দলের কথাটা একটু ভাবুন। কী থাকবে শ্রীলঙ্কান ওয়ানডে দলে? এই দলটা কী বড় দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে? দুই গ্রেটের বন্ধুত্বের কথা সবারই জানা। উভয়ের বয়সই ৩৭। তবে সাঙ্গাকারার চেয়ে বছর দুয়েক আগে জাতীয় দলে অভিষেক মাহেলার। এরপর প্রায় দেড় যুগ দুই বন্ধু কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সার্ভিস দেন শ্রীলঙ্কা দলকে। কখনো মাহেলা অধিনায়ক সাঙ্গাকারা তার সহকারী। কখনো বা সাঙ্গাকারা নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে আর সহঅধিনায়কত্ব করেছেন মাহেলা। দারুণ কম্বিনেশন। সাঙ্গাকারা কেন শচীনের চেয়ে ছোট ব্যাটসম্যান নন, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু সাঙ্গাকারাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বলার যুক্তির স্বপক্ষে তার পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। সঙ্গে উইকেট কিপিং। উইকেটের পেছনে অনেক রেকর্ড আছে তার। টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ৫৮-এর ওপরে। আর ওয়ানডেতে প্রায় ৪২। টেস্টে তার রান ১২ হাজারের ওপরে। ৪০৪ ওয়ানডেতে ২৫ সেঞ্চুরিতে তার রান ১৪২৩৪। এর মধ্যে আছে টানা চার ম্যাচে সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ডও। টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন আগেই, ওয়ানডেও ছাড়লেন। তবে সাদা পোশাকে শ্রীলঙ্কাকে আরও কয়বছর সার্ভিস দিতে চান। এ সময়ে তিনি নিজেকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবেন নিশ্চয়ই। তার জন্য শুভ কামনা। টেস্টে নিজেকে আরেক ধাপে নিয়ে যাবেন মাহেলা জয়াবর্ধনেও। ক্রিকেটের বড় পরিসরে তার রান প্রায় ১২ হাজার। আর ৪৪৮ ওয়ানডেতে ১৯ সেঞ্চুরিতে ১২৬৫০ রান করেছেন জেন্টলম্যান খ্যাত মাহেলা জয়াবর্ধনে। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে দারুণ জুটি ছিলেন অর্জনা রানাতুঙ্গা এবং অরবিন্দ ডি সিলভা। মাহেলা-সাঙ্গার মতো তাদের মধ্যেও ছিল দারুণ বন্ধুত্ব। বিশ্বকাপ জয়সহ অনেক সাফল্যই আসে তাদের কল্যাণে। লঙ্কান ক্রিকেটকে তারা একটা ধাপে নিয়ে আসেন। অরবিন্দ ছিলেন সে সময়ের বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। মাঠে এবং মাঠের বাইরে সবখানেই কথা কম বলতেন। কথা বলতেন ব্যাটে। মারকুটে এবং সাহসী ব্যাটিং তাকে বিখ্যাত করে দিয়েছিল। রানাতুঙ্গাকে বলা হতো মিস্টার কুলম্যান। অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন অসাধারণ। যে কারণে অর্জুনার চেয়ে বড় ব্যাটসম্যান হয়েও শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক হতে পারের নি ডি সিলভা। রানাতুঙ্গা, ডি সিলভার বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার হাল ধরেছিলেন মাহেলা ও সাঙ্গাকারা। প্রায় দেড় যুগ দলকে সেবা দেওয়ার পর গুডবাই বললেন ওয়ানডে ক্রিকেটকে। এখন কে হাল ধরবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের? কারো জন্য কোনো কিছুই নাকি ঠেকে থাকে না। কিন্তু কথাটা বোধকরি সবসময় সব ক্ষেত্রে শতভাগ মানানসই নয়। ব্রেন্ডনের অনুপস্থিতিতে নিশ্চয়ই থেমে থাকবে না জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট। তবে তার অভাবটা হারে হারে টের পাবে দল। একই কথা শ্রীলঙ্কার বেলাতেও। সাঙ্গাকারা-মাহেলার অভাব কী সহসা পূরণ হওয়ার মতো? তেমন সম্ভাবনাময় তারকারা কী উঠে আসছে? মনে হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here