সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে ১৪ দল’

0
23

nasim picস্টাফ রিপোর্টার:
তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সমর্থিত প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে ১৪ দলীয় জোট। জানিয়েছেন জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে জোটের একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে বেলা ১২টায় বৈঠকে বসে ১৪ দল।
বৈঠক শেষে নাসিম বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়। তারপরও এই নির্বাচনে দলের একটা সমর্থন থাকে। এ নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আলোচনা অব্যাহত আছে। বিএনপি-জামায়াত চক্রান্তের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমর্থিত প্রার্থীকে আমরা সমর্থন দেব এবং তার পক্ষে কাজ করবো।” এসময় তিনি বলেন, “নির্বাচন ও সংগ্রামে একসঙ্গে মাঠে থাকবে ১৪ দলীয় জোট। এজন্য আগামী ১ এপ্রিল গাইবান্ধা ও ৪ এপ্রিল সাতক্ষিরায় জনসভা করবে ১৪ দল।” সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি দ্বৈতনীতি অবলম্বন করছে, এমন অভিযোগ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, “তারা সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং এ উপলক্ষে তিন সিটিকে হরতাল-অবরোধের আওতামুক্ত করে দেশব্যাপী আবারও একই কর্মসূচি দিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে বিএনপি একটি ‘ডাবল স্ট্যান্ড’র দল। তারা নেতৃত্বহীন ও সিদ্ধান্তহীনতার এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, কখন কী করবে জনগণ জানে না।” তিনি বলেন, “বিএনপির হরতাল-অবরোধ জনগণ অতীতেও প্রত্যাখ্যান করেছে, এখনও করছে। জনগণ হরতালের ভয়কে জয় করেছে। বিএনপি-জামায়াত আপাতত পিছু হটলেও তাদের চক্রান্ত শেষ হয়নি, এখনও অব্যাহত আছে।” ‘দল সমর্থিত প্রার্থীদের নতুন পরোয়ানা জারি করে গ্রেফতার করা যাবে না’, ইসিকে দেওয়া বিএনপির এমন দাবি মানা হবে কি না? প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, “এটা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ। ক্ষমতাসীনরা বলে দিতে পারে না; এভাবে করেন। তারা তাদের মত কাজ করবে।” এ সময় ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, “সবকিছুই আইন অনুযায়ী হবে। আসামি হলে বা অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে আছে গ্রেফতার তারা হবেনই। নতুন পরোয়ানা আর পুরনো পরোয়ানার বিষয় নয়।” লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, “সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয় না। বরং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।” ১৪ দেলের ওই সভায় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান হত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি করেন নেতারা। একই সঙ্গে ১৪দল দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানায়।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দল মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দিপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, শিরিন আখতার, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বয়াক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউররশিদ
খান, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, জেপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী বাবু প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here