ধর্মব্যবসায়ীদের আক্রমণে আহত কারাবন্দী হেযবুত তওহীদ সদস্যদের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

DRUনিজস্ব প্রতিবেদক: গত সোমবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির ঘটনায় ধর্মব্যবসায়ীদের নিষ্ঠুর আক্রমণে আহত হেযবুত তওহীদের কারাবন্দী সদস্যদের মুক্তির দাবিতে আজ সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আন্দোলনটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সাংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আন্দোলনটির প্রতিষ্ঠাতা এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর কন্যা রুফায়দাহ পন্নী।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি নোয়াখালীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু হয়েছে। মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তাই ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখপূর্বক জঘন্য এই ঘটনা কারা ঘটালো, কেন ঘটালো তার প্রকৃত বিবরণ আমাদের পক্ষ থেকে প্রদান করার প্রয়োজন বোধ করছি।
তিনি বলেন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার পোরকরা গ্রাম। এই গ্রামেরই বাসিন্দা নুরুল হক মেম্বারের পরিবারসহ আশেপাশের আরও আট-দশটি বাড়ির চল্লিশ-পঞ্চাশজন ব্যক্তি ১৯৯৯ সাল থেকেই হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। যারা জানেন না তাদের জন্য একটু বলে রাখা দরকার যে, হেযবুত তওহীদ হচ্ছে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলন। এই আন্দোলনের কর্মীরা ইসলামের প্রকৃত রূপ জনসমক্ষে প্রচার করে এবং কালেমা ও তওহীদে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে। হেযবুত তওহীদ ইসলামের নামে চলমান সকল প্রকার ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সচেতন করে চলেছে।
যেহেতু এই আন্দোলন সকল প্রকার ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, তাই স্বভাবতই এই আন্দোলনের কর্মীদেরকে এক শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়তে হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে স্থানীয় ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ইন্ধনে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার শুরু হয়। ধর্মভীরু মানুষকে বোঝানো হয় হেযবুত তওহীদ খ্রিস্টান হয়ে গেছে। মসজিদের খুৎবায়, ওয়াজে-মাহফিলে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অপপ্রচার অব্যাহত রাখা হয়। গ্রামবাসীকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ভুলভাল তথ্য দিয়ে উত্তেজিত করা হতে থাকে। এভাবে ধর্মভীরু মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম বানিয়ে নেয় ধর্মজীবী ষড়যন্ত্রকারীরা। তারপর একদিন সুযোগ বুঝে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের উপর হামলা চালায় তারা। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আটটি বাড়ি। লুণ্ঠিত হয় টাকা-পয়সা, আসবাবপত্র। পৈশাচিক ওই আক্রমণে সেদিন নারী-শিশুসহ হেযবুত তওহীদের অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়। পরিহাসের বিষয় হলো- বর্বরোচিত ওই হামলায় ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করে তাদেরকে জেলে ঢোকানো হয়। আর আক্রমণকারী ষড়যন্ত্রকারীরা এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় নির্বিঘ্নে।
এরপর আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হলে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা পুনরায় তাদের আবাসভূমিতে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে বাড়ি নির্মাণ করে। তারা অতীতের দুঃসহ স্মৃতিকে মুছে ফেলে গ্রামের আর দশজনের মতই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী জঙ্গিবাদী ও যারা ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি করে তাদের অপপ্রচার বন্ধ থাকে নি এক দিনের জন্যও। তারা সুযোগ খুঁজতে থাকে নতুন কোনো ইস্যুর সন্ধানে যাতে করে আবারও ২০০৯ সালের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
কিছুদিন আগে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা বাড়ির আঙ্গিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করবে। ধারে কাছে কোনো মসজিদ না থাকায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সমস্যা হত। তাই এ সিদ্ধান্ত। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, এমন একটি সাধাসিধে বিষয়েও স্থানীয় জামাত ও হেফাজতের পক্ষ থেকে ভয়ানক ষড়যন্ত্র শুরু হলো। হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হতেই মসজিদের ইমাম-মুসল্লি বেশধারী সেই চক্রটি বিষয়টিকে নিয়ে এমন নির্জলা মিথ্যা ছড়াতে লাগল যা শুনে আমরা নিজেরাই হতবাক হয়ে যাই। তারা এলাকায় জোর অপপ্রচার চালাতে লাগল যে, হেযবুত তওহীদ হচ্ছে কুফরী সংগঠন, এরা অনেক আগেই খ্রিস্টান হয়ে গেছে, এবার তারা গ্রামে গীর্জা নির্মাণ করতে চাচ্ছে। এদেরকে প্রতিরোধ করা সবার ঈমানী দায়িত্ব। এদেরকে হত্যা করা ফরজ। এদেরকে গ্রামে থাকতে দিলে কারও ঈমান থাকবে না ইত্যাদি। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমান নিয়ন্ত্রণ করে ওই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোই। কাজেই মানুষকে এই ডাহা মিথ্যা কথা বিশ্বাস করাতেও তাদের তেমন বেগ পেতে হয় নি। মাত্র একটি ঘরের ভিত্তি স্থাপন করা হচ্ছে, মাত্র খুঁটি গাড়া হয়েছে, এমন একটি চিহ্নও কেউ দেখাতে পারবে না যাতে ঘরটিকে গীর্জা ভাবার বিন্দুমাত্র যৌক্তিকতা থাকে, অথচ অনেকে ধর্মব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে মিথ্যাকে বিশ্বাস করে নিল। উল্লেখ্য, ঘটনার দুই দিন আগে থেকে হেযবুত তওহীদের নির্মাণাধীন ওই মসজিদের খোলা জায়গায় নিয়মিত আজান দেওয়া হচ্ছিল এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া হচ্ছিল।
যাই হোক, গত কয়েকদিন আগে গ্রামের বাজারে ও আশেপাশের মসজিদগুলোতে মোটরসাইকেলে চেপে কোথা থেকে একদল টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত লোক আসে। তাদেরকে এলাকার মসজিদগুলোতে একটি ফতোয়াসম্বলিত হ্যান্ডবিল বিলি করতে দেখা যায়। কোথায় থেকে তারা এসেছে, কে তাদের পাঠিয়েছে, কে এই ভয়ঙ্কর ফতোয়া প্রস্তুত করে বিতরণ করেছে এখনও বিষয়টা রহস্যে ঘেরা। প্রশাসনিক সুষ্ঠু তদন্ত হলে আশা করা যায় তাদের নাম-পরিচয় জানা যাবে। তবে আমরা বিস্মিত হই যখন জানতে পারি তাদের উদ্দেশ্য ছিল- আর কিছু নয় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে এলাকার জনগণকে উস্কে দেওয়া। তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধেই ওই ফতোয়ার কাগজ ছড়াচ্ছিল। হেযবুত তওহীদ নাকি একটি কুফরী সংগঠন এমন বক্তব্য দিয়ে নাম-পরিচয়হীন হ্যান্ডবিল তারা সর্বত্র বিলি করেছে তাতে হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন বক্তব্যকে খন্ডিত ও বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে, কোথাও আবার সম্পূর্ণ নিজেদের মনগড়া কথা আমাদের নামে চালিয়ে দিয়েছে। হ্যান্ডবিলটি সংগ্রহ করে পড়ার পর তাদের মোটিভ বুঝতে আমাদের আর বাকি রইল না। তারা এমনভাবে হ্যান্ডবিলটি সাজিয়েছে যা খুব সহজেই একজন ধর্মভীরু মানুষকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকান্ড প্ররোচিত করতে সক্ষম। এটা বোঝার পরই আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত বিষয়টি অবগত করি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বিষয়টির যথাযথ গুরুত্ব উপলব্ধি করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়। যে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে জেনেও প্রশাসন কেন আগে থেকেই সজাগ হলো না তার উত্তর আমরা আজও পাই নি।
অবশেষে গত ১৪ মার্চ ষড়যন্ত্রকারী লেবাসধারী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের সুদিন এসে গেল। ওইদিন সকাল থেকে হাজার হাজার সন্ত্রাসী একত্রিত হয়ে মিছিল করতে থাকে এবং হেযবুত তওহীদের সদস্যদের হত্যা করতে প্ররোচিত করে এমন উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। ফর্মালিটি রক্ষার জন্য ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি পেশ করার উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও মূলত তাদের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনা আগে থেকেই সাজানো ছিল। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা প্রস্তুত রেখেই তারা মিছিল বের করে। এরই মধ্যে ইউএনও কার্যালয়ে যেতে পুলিশি বাধার মুখে পড়লে এবং পুলিশ স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করবে বলে সান্তনা দিলে তারা পরিকল্পনা ভেস্তে যাবার আশঙ্কায় এবার তৎক্ষণাৎ হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ঘরবাড়ি অভিমুখে রওনা দেয়। অপপ্রচারের ষোলো কলা পূর্ণ হয় যখন তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় যে, হেযবুত তওহীদের সদস্যরা তাদের উপর হামলা করেছে। ব্যস, এবার সবাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে একযোগে আমাদের নিরপরাধ কর্মীদের উপর হামলে পড়ে।
হেযবুত তওহীদের নির্মাণাধীন মসজিদের নির্মাণকাজের জন্য আগে থেকেই পোরকরায় আমাদের বেশ কিছু সদস্য উপস্থিত ছিল। তারা আশেপাশের জেলা থেকে নির্মাণাধীন ওই মসজিদের নির্মাণকাজে স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়ার জন্য এসেছিল। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আমাদের আরও কিছু কর্মী ওই বাড়িতে অবস্থান নেয় নির্মাণাধীন মসজিদকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে। ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা প্ররোচিত কিছু পথভ্রষ্ট সন্ত্রাসী-জঙ্গি হামলা চালিয়ে আল্লাহর ঘর মসজিদ ভাঙবে তা কে মেনে নিতে পারে? এছাড়া নুরুল হক মেম্বারের বাড়িসহ আশেপাশে হেযবুত তওহীদের পরিবারগুলো নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই ওই মসজিদের কাছে একত্রিত হয়ে অবস্থানগ্রহণ করে। সব মিলিয়ে ঘটনাস্থলে একশ’র কিছু বেশি হেযবুত তওহীদের সদস্য উপস্থিত ছিল, আর আক্রমণকারী সন্ত্রাসী চক্র সংখ্যায় হাজার হাজার। তাদের হাতে ধারাল অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, পূর্বপ্রস্তুত ইট-পাথরের টুকরো এবং লোঠিসোটা, অন্যদিকে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের আত্মরক্ষার জন্য একটি গাছের ডালও নেই। বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণত পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে যে পদ্ধতিতে হামলা চালানো হয় হামলার ধরণ ছিল অনেকটা সেরকম।
বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তারা খুব সহজেই হেযবুত তওহীদের মুষ্টিমেয় সদস্যের ক্ষুদ্র প্রতিরোধ ব্যর্থ করে দেয়। তারপর শুরু হয় নৃশংসতার নতুন ধারা। তারা আমাদের দুইজন সদস্যকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করে। তাদের চোখ উপড়ে নেয়, হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। তারপর লাশের উপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। হেযবুত তওহীদের সদস্যরা প্রায় সবাই আহত হয়ে শয্যাগ্রহণ করলে হামলায় নেতৃত্ব দানকারী ধর্মব্যবসায়ীদের নির্দেশে সন্ত্রাসীগুলো একের পর এক আমাদের সদস্যদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিতে থাকে। সেই সাথে চলতে থাকে দেদারছে লুটপাট। দুঃখের বিষয় হলো- এত কিছু হয়ে যাচ্ছে, প্রায় চার ঘণ্টা ধরে কয়েকটি বাড়িকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখে সন্ত্রাসী হামলা চলছে, তবু ঘটনাস্থলে পুলিশ-প্রশাসনের পদচিহ্ন পড়ে নি। পুলিশের সাথে আমাদের সদস্যরা প্রথম থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করে এসেছে, সাহায্য চেয়েছে বারবার। কিন্তু রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে রাখায় নাকি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে নি। ফলে পর্যাপ্ত সময় পেয়ে বেশ নির্বিঘ্নে-নিশ্চিন্তে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে ওই সন্ত্রাসী ধর্মোন্মাদরা।
অবশেষে পুলিশ পৌঁছেছে ঠিকই, তবে তার আগেই দুইজন নিরাপরাধ সদস্যকে হারিয়েছি আমরা। প্রশাসন সতর্ক থাকলে হয়ত এই দুটি প্রাণ বেঁচে যেত। তারপর কী হলো? হামলাকারীরা পুলিশের গাড়ি আক্রমণ করল, পুলিশ যেন আহতদেরকে নিয়ে ফিরতে না পারে সেজন্য রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে, বড় বড় গাছের গুড়ি ফেলে, মহাসড়কের মধ্যে ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে মাইলের পর মাইল রাস্তা অবরোধ করল। বিজিবির গুলিবর্ষণ উপেক্ষা করে এভাবে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া কি গ্রামবাসীর কাজ? আমাদের সদস্যদের মারা যদি উদ্দেশ্য হয়েই থাকে সেটা তো তারা করেছেই। মসজিদ ভাঙার কাজ ভেঙেছে। কিন্তু গ্রাম থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে গিয়ে রাত বারোটার সময় থানায় হামলা করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নিশ্চয়ই গ্রামবাসীর কাজ নয়। বরং এটা তাদেরই কাজ যারা অতীতেও বার বার দেশে অনুরূপ সহিংসতা সৃষ্টি করেছে, একইভাবে দেশের সম্পদ ধ্বংসের তান্ডব চালিয়েছে, রগ কেটে, জবাই করে মানুষ হত্যা করেছে, মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। তারা এগুলো করতে প্রশিক্ষিত ও অভ্যস্ত।
হামলাকারী সন্ত্রাসীরা সমস্ত এলাকায় দিবারাত্রি যে নারকীয় তান্ডব চালালো, তিনজন মানুষকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে হত্যা করল, পুলিশ সদস্যদের উপর আক্রমণ চালালো, বাজারের দোকানপাট ভাঙচুর করল, রাস্তার গাছগুলো কেটে ফেলল, আগুন দিয়ে কয়েকটি বাড়ি জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিল, এমনকি থানায় পর্যন্ত আক্রমণ চালালো তারা আজ নির্বিঘ্নে বীরের বেশে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর যারা নিজেদের প্রাণ রক্ষা করার ব্যর্থ প্রয়াস চালাতে গিয়ে আহত হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তারা। তাদেরকেই পুলিশ আদালতে চালান করে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর উপযুক্ত প্রতিদান দিয়েছে বৈ কি। পরিহাসের এখানেই শেষ নয়, হেযবুত তওহীদের যে সদস্যরা যারা দেশ ও জাতিকে জঙ্গিবাদের করাল থাবা থেকে উদ্ধার করার জন্য ২১ বছর ধরে সংগ্রাম করছে তারা সন্ত্রাসীদের আক্রমণ থেকে শেষাবধি প্রাণে রক্ষা পেলেও নিছক আত্মরক্ষা করার নিষ্ফল প্রয়াস চালানোর অপরাধে উল্টো তাদেরকেই জেলে ঢোকানো হয়েছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে গত ১৪ মার্চ ঘটে যাওয়া নৃশংসতার প্রেক্ষাপট উল্লেখপূর্বক যে ধারাবাহিক বিবরণ আমরা দিলাম তাতে চুল পরিমাণ মিথ্যা নেই। আল্লাহ সকলের মনের খবর জানেন।

এছাড়াও সেদিনের ঘটনার পেছনের ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রকারীদের ঘটনাপরবর্তী বিভিন্ন অপপ্রচার ও উসকানির উপর বিভিন্ন স্ক্রিনশট, ভিডিও ও স্থির ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সামনে ঘটার বর্ণনা করেন আন্দোলনটির সাহিত্য বিষয়ক সম্মাদক রিয়াদুল হাসান। আরও উপস্থিত ছিলেন আন্দোলনের আমীর মসীহ উর রহমান, হেযবুত তওহীদের মুখপাত্র এসএম সামসুল হুদা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here