লক্ষ্মীপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ ইউএনও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান

Mohammad Nuruzzamanরুবেল হোসেন, লক্ষ্মীপুর: মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে অবদান রাখায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০১৬ এ লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদরের ইউএনও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে জোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি জনগণের স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, বাল্য বিবাহ রোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত অফিস প্রতিষ্ঠা, সরকারি জমি ও খাল থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, অবৈধভাবে ভূ-গর্ভস্থ বালি উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করণসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকান্ডে কঠোর ও উদ্যোগী ভুমিকা রেখে জনগণের মাঝে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসমূহ চষে বেড়ান। দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসেবে তিনি প্রতিনিয়ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন করেন। যার ফলে বিদ্যালয়সমূহে পড়ালেখার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে একেক দিন একেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন। যার কারণে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫৬টি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তিনি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কি সমস্যা রয়েছে-তা পরখ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যালয়সমূহে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২৮৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার, মেরামত ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য ৫০লক্ষ টাকা এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসমূহে ৪৮লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দের টাকা দিয়ে ঠিকমত কাজ হচ্ছে কিনা তাও তিনি পরখ করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার ও মেরামতের টাকা থেকে কোন ধরণের কমিশন না নেবার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসমূহ তদারকির পাশাপাশি তিনি লক্ষ্মীপুর উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে অবস্থিত উপজেলা পরিষদ স্টুডেন্ট কেয়ার স্কুল এন্ড কলেজকেও স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। লক্ষ্মীপুর পৌরসভার অর্থায়নে ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ের ২য় তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ, আসবাবপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের স্বনামধন্য কাকলি শিশু অঙ্গণ ও কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ২০১৫সালের ২৮ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় যোগদান করেই মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চষে বেড়াতে শুরু করেন। তিনি সর্বপ্রথম শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় শুরুর সময় এবং বিদ্যালয় ছুটির আগে একেক দিন একেক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ফাঁকি রোধ করতে ক্লাস্টার ভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করেন। অভিভাবক সমাবেশ থেকে শিশু শিক্ষার্থীরা যেন অপুষ্টিতে না ভোগে সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে নিজ নিজ সন্তানদেরকে ঠিকমত বেড়ে উঠার সুযোগ সৃষ্টির জন্য তাদেরকে (মিড-ডে মিল) দুপুরের খাবার দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য উৎসাহী করেন। যার ফলে অভিভাবকরা নিজেদের উদ্যোগেই নিজ নিজ সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে আসার সময় দুপুরের খাবার সরবরাহ করছেন। যে সব দরিদ্র অভিভাবক সন্তানদেরকে টিফিন বক্স ক্রয় করে দিতে পারেননি, তিনি বিভিন্ন শিক্ষানুরাগী, সামাজিক সংগঠন ও বেসরকারী সংস্থার সহায়তায় তাদেরকে টিফিন বক্স সরবরাহ করেছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও প্রাত্যহিক সমাবেশ বাধ্যতমূলক করেছেন। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে বার্ষিক ক্রীড়া ও দৈনন্দিন খেলাধূলা, রচনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়াও ১০টি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলক ডিজিটাল হাজিরা ও ৫০টি বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি সরবরাহ করা হয়েছে। ২৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে ডায়েরী সরবরাহ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পাঠ শিক্ষকরা ডায়েরিতে লিখে দিচ্ছেন। এতে অভিভাবকগণ নিজ নিজ সন্তানদের বাড়ির কাজে অধিক যত্নবান হবার সুযোগ পাচ্ছেন। যেসব দরিদ্র শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছেনা তাদেরকে উপজেলা পরিষদ হতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে শিশু শিক্ষার্থীদের পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রয়েছে কিনা, হাত-পায়ের নখ ও ছেলেদের চুল বড় কিনা তা পরখ করেন। তিনি খাবার আগে এবং বাথরুম ব্যবহারের পর হাত ধোঁয়া, রাস্তা পারাপারের নিয়ম ও যত্র তত্র মলমূত্র ত্যাগ না করা, শিক্ষা লাভের সুফল, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাল্য বিবাহ ও মাদকের কুফলসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলছেন।
এছাড়াও লক্ষ্মীপুরে স্কাউট ভবন নির্মাণ, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাগণের সাথে থেকে কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণ কাজেও তিনি উলে­খযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
সর্বোপরী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের চতুর্মূখী তৎপরতার কারণে লক্ষ্মীপুর সদরের শিক্ষাঙ্গণে ঝরে পড়া রোধসহ সর্বক্ষেত্রে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০১৬-এ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হওয়ায় জেলার শিক্ষানুরাগী মহল ইউএনও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ও লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here