এই বছরের জুনেই শেষ হচ্ছে মংলা সাইলো নির্মান প্রকল্পের কাজ

0

Captureমিজানুর রহমান, মংলা থেকে: ২০১৬ সালের জুনেই শেষ হচ্ছে মংলা সাইলো (বড় আকারের খাদ্য সংরক্ষনাগার) নির্মান প্রকল্পের কাজ।এটি মংলা শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিনে সমুদ্রের দিকে পশুর নদীর তীরে ১৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ৫০ হাজার মে: টন খাদ্যশস্য ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন সাইলোসহ আন্যান্য স্থাপনার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে বিদেশ থেকে আমদানী করা খাদ্য-শস্য নিরাপদে শুধু সংরক্ষণই হবে না এখানকার জনপদেরও ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এ প্রকল্পটি শেষ করার পর এখানে আরো দেড় লাখ মে: টন খাদ্যশস্য ধারন ক্ষমতার আরেকটি স্টিল সাইলো নির্মান করার পরিকল্পানা সরকারের রয়েছে।

প্রকল্পের আবাসিক প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার দাশ বলেন , দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মংলা সাইলো প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরো বলেন, এই সাইলো নির্মানের কাজ সম্পন্ন হলে দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে। এতে মংলা বন্দরের কাজের গতিশীলতা ফিরে আসবে এবং খাদ্য শস্য খালাসে অপচয় হ্রাস পাবে।

মংলা সাইলো প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক বিমল ভুঁইয়া বলেন, ৫শ ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ৫০ হাজার মেঃ টন খাদ্য শস্য ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন সাইলো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এ বছরের জুনে। এ প্রকল্পের অধীনে সাইলোর পাশাপাশি একটি অত্যাধুনিক জেটি নির্মিত হয়েছে। এর ফলে জোয়ার বা ভাটা যে কোন সময় এ জেটির মাধ্যমে খাদ্য-শষ্য সহ মালামাল লোড-আনলোড করা যাবে। ফলে এ অঞ্চলে অনেক কলকারখানা স্থাপন ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা ও জন দূর্ভোগ অবসান হবে।

তমা গ্রæপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূইয়া (মানিক) জানান , সাইলো কথাটার মানে হচ্ছে , বড় আকারের খাদ্য সংরক্ষনাগার আর এটিই প্রথম দক্ষিণাঞ্চলে বড় আকারের খাদ্য সংরক্ষনাগার নির্মান কাজ। আগে এক সময় বিদেশী জাহাজ গুলো মংলায় ঢোকার সময় দেখতে পেত কুড়ে ঘর আর এখন দেখবে সাইলো ভবনটি। এই সাইলো নির্মানের ফলে দেশী – বিদেশী মানুষের সুনাম অর্জন করবে মংলা বন্দর।

সাইলো নির্মাণ কাজে নিয়োজিত মূল ঠিকাদার তমা কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ইনর্চাজ মো ঃ ইকরামুল হক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রæত গতিতে চলছে মংলায় ৫০ হাজার মেট্রিকটন সাইলো নির্মাণ কাজ। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় এ প্রকল্প এলাকাটি দূর্গম এলাকায় হওয়ায় কাজের গতি এখন ও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সম্পুর্ন কাজ এ বছরের জুনের মধ্যে শেষ হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে খুলনা , যশোর ও বরিশাল সহ এ এলাকার বেকার জনবল উপকৃত হবেন। এই সাইলোর ফলে দক্ষিণাঞ্চলে রাস্তা গাট , স্কুল কলেজ, রেল লাইন, নদী খনন ,মংলা ব্রিজ সহ আরো অনেক উন্নয়ন হবে। তিনি আরো বলেন , ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটসহ বিভিন্ন মন্দাভাব চলছিল। সে সংকট কাটতে না কাটতেই ২০০৯ সালের মে মাসে ভয়াবহ ঘুর্নিঝড় আইলা খুলনা ও বাগেরহাটসহ দেশের দক্ষিনাঞ্চলে আঘাত হানলে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই সরকার দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ করতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য মজুদের দীর্ঘ পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। এর অংশ হিসেবে সারাদেশে সরকারী খাদ্য সংরক্ষণাগার সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণসহ নতুন গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। আর মংলায় নির্মান করা হচ্ছে স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম অত্যাধুনিক এ সাইলো। তিনি বলেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদ নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে প্রশংসা করায় এ প্রকল্পের কাজের গতি আরো বৃদ্ধি পাবে।

দক্ষিণাঞ্চলের মংলায় সাইলো নির্মান সহ মংলা র্পোট পৌরসভার অনান্য কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে দেখে মংলাবাসী দারুন উৎফল্লিত। এখন তারা প্রধান মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির কাছে এ প্রকল্পের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মংলা থেকে জয়মনিরগোল পযর্ন্ত সড়কপথ আধুনিকায়নসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave A Reply

Pinterest
Print