Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

অনাবৃষ্টিতে জাগ দেয়া নিয়ে চিন্তায় পাটচাষিরা, মূল্যহানীর শঙ্কা

হারুন আনসারী, ফরিদপুরfaridpur Jute
অষাঢ়েও কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দেয়া নিয়ে ভিশন দুশ্চিন্তায় পরেছেন সোনালী আঁশ পাটের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুরের পাট চাষীগণ। বৃষ্টির পানিতে পাট জাগ দিতে না পারলে পাটের রং কালসে হয়ে যাবে। পাওয়া যাবে না সোনালী আশ। আর এতে দামও কমে যাবে পাটের। এ অবস্থায় বৃষ্টির জন্য ফরিয়াদ করছে তারা।
দেশের সর্বাধিক গুণগত মান সম্পন্ন পাট উৎপাদিত হয় এই ফরিদপুর অঞ্চলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় চলতি মৌসুমে ৭৭ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছিল। তবে উৎসাহী কৃষকেরা এবার পাট আবাদ করেছে লক্ষমাত্রারও বেশি প্রায় ৮২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর পাট পাওয়া গিয়েছিল ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪শ’ ৯০ বেল পাট। (২০০ কেজিতে ১ বেল)। এবছর কোন বিপর্যয় না হলে গত বছরের চেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে পাট আবাদের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও এই অঞ্চলের কৃষকগণ পাট গাছ কেটে জাগ দেয়া নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কৃষকগণ জানান, এবছর মৌসুমের শুরুতেও খরা ছিল। সেচ দিয়ে জমি তৈরি করেই বেশিরভাগ জমিতে পাট বীজ রোপন করা হয়েছিল। পুরো মৌসুমেই কাঙ্খিত বৃষ্টি পাওয়া যায়নি। এতে খাল বিল ও জলাশয়গুলো পনিশূণ্য হয়ে রয়েছে।
এভাবে চললে শুধু পাট জাগ দিইে কষ্ট হবে না, পাট কাটতেও কয়েকগুন বেশি খরচ হয়ে যাবে। কৃষকেরা জানান। কারণ পাট গাছ কেটে জলাশয় পর্যন্ত নিতে তাদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে। আবার ভালোভাবে জাগ দিতে না পারলে পাটের রংও পাওয়া যাবে না। তাতে পাটের দাম কমে যাবে অনেক।
এদিকে, কিছু স্থানে এরইমধ্যে পাট কাটা শুরু হয়েছে। তবে জাগ দিতে না পারায় সেসব কাঁচা পাট গাছ খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে পাটের চাষাবাদ বেশি হয় বোয়ালমারী, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দা, আলফাডাঙ্গা, ভাঙ্গা ও সদরপুর এলাকায়।
নগরকান্দা এলাকার পাটচাষী আশরাফ হোসেন জানান, পাটের ফলন ভালো হলেও পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছি। পাটের আবাদে এবার গত বছরের চেয়ে বেশি খরচ হয়েছে। তাই গত বছরের চেয়ে দাম বেশি না পেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বো।
সদরপুরের চাষী সাদিকুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন করতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লেগেছে। সেই অনুপাতে পাটের মূল্য না পেলে চরম লোকসান হবে। তিনি জানান, বিঘা প্রতি জমিতে পাটের উৎপাদন হয়েছে ১০/১২ মন হারে।
চাষীদের অভিযোগ, তাদের দুর্দিনে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদেরও পাশে পাওয়া যায়না। খরায় ক্ষেতের পাট বিনষ্ট হচ্ছে। পাট জাগ দিতে কৃষকদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কৃষি বিভাগ উদ্ভাবিত রিবন রেটিং পদ্ধতিতে কৃষকেরা পাট জাগ দিতে উৎসাহী নন। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এতে পাটের রং আসেনা। রিবন রেটিং পদ্ধতিতে জাগ দেয়া পাটের দামও পাওয়া যায় না। পাটখড়িও নষ্ট হয়ে যায়। আর বিস্তির্ণ জমির পাট এভাবে জাগ দেয়াও সম্ভব না।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জি এম আব্দুর রউফ জানান, এবছর আবাদের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়েছে। পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে। আশাকরি গত বছরের চেয়ে উৎপাদন বেশি উৎপাদন হবে। তবে কৃষকেরা ভালো মানের পাট উৎপাদনের আশায় এখনও বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন।

Save

Leave A Reply

Your email address will not be published.