Connect with us

আন্তর্জাতিক

আইএসআইএস ঠেকাতে কোনো পরিকল্পনা নেই ওবামার!

Avatar photo

Published

on

2014820172848780734_21দ্য ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস/আইএস) জঙ্গিবাহিনীর নারকীয় হত্যাকাণ্ডসহ জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে কোনো পরিকল্পনা নেই জানানোর পর নিজ দলীয় সদস্য ও প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান দলীয় সদস্যের তীব্র তোপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

কংগ্রেসে সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের ওপর বাড়তি হামলার প্রস্তাব এনে কংগ্রেসে জমা দেওয়ার পর রোববার ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের সদস্যের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

রিপাবলিকান দলের সদস্য অ্যাডাম কিজিঞ্জার, আর-ইলিনয়স, প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক। তিনি (প্রেসিডেন্ট ওবামা) যেভাবে বিদেশ নীতিকে কাজে লাগাচ্ছেন, তা আসলে দুর্ভাগ্যজনক।

এ বিষয়ে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সিনেটর ড্যানি ফেইনস্টেইন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার এই ডেমোক্র্যাট সদস্য এনবিসি টিভির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বলেন, আমার মনে হয়, ওবামার কাছ থেকে একটি মাত্র শিক্ষাই আমি নিয়েছি, সেটা হলো, তিনি অত্যন্ত সতর্ক।  

ইরাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দশক ধরে যুদ্ধ সম্প্রতি শেষ করেছে। এরপর শনিবারও সিরিয়ার আইএসআই জঙ্গিদের ওপর আকাশ পথে সামরিক জেট থেকে বোমা বর্ষণ করেছে। 

এদিকে, আইএসআইএস প্রসঙ্গে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, এই মহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দেশ। কারণ, এখানে আইএসের মূল ঘাঁটি অবস্থিত। অপরদিকে, রিপাবলিকান দলের পিটার কিং ফক্স নিউজকে রোববার বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইএসআইএস জঙ্গিরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার পরিকল্পনা করছে।

অপরদিকে, সিনেটর জন ম্যাককেইন সিবিএস নিউজকে বলেন, আগে জাতিকে সামলান। তিনি বলেন, আমি মনে করি, সব পক্ষ একটি সমঝোতায় আসতে শুরু করেছে। সবাই উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আইএস সরাসরি হুমকি। শুধু তাই-ই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচাইতে বড় হুমকির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের তার দেশের জন্য আইএস প্রচণ্ড হুমকিস্বরূপ বলার পর রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকেও বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

এদিকে, হাউসের ইন্টেলিজেন্স কমিটির এক প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট ডাচ রুপার্সবারজার সিএনএনকে বলেন, এই মহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলার কোনো আশঙ্কাই নেই।

অন্য এক ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম স্মিথ বলেন, আইএসআইএসের হুমকি অবশ্যই আছে। কিন্তু এটাকে আল-কায়েদার চেয়েও ভয়াবহ হুমকি, তা ভাবা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা দেখে বলা যেতে পারে তারা (আইএস) পশ্চিমা গোষ্ঠীর ওপর হামলা করার পরিকল্পনা করছে, যেভাবে আল কায়েদা ৯/১১-এর মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল।

মজার ব্যাপার ম্যাককেইনসহ অধিকাংশ রিপাবলিকান সিরিয়ায় আইএসআইএসের ওপর মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটস রুপার্সবার্জার একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে
ছেন। 


তিনি বলেন, যদি আমাদের নিরাপদ রাখার জন্য সিরিয়ায় আইএসের ওপর সামরিক হামলা চালাতে হয়, তাহলে প্রথমেই  আমাদের আন্তর্জাতিক একটি জোট গঠন করতে হবে।

তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে স্মিথ বলেন, আমাদের এক সঙ্গে কাজ করার জন্য বিশস্ত বন্ধু দরকার।

হেড অব হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রধান রিপাবলিকান মাইক রোজার্স বলেন, প্রসিডেন্টের উচিত হবে অতীতের মতো জোট গঠন করা।

তিনি বলেন, এ খেলায় বড় দেরি হয়ে গেছে, অনেক বেশি দেরি হয়ে গেছে। আর অন্য কোনো উপায় নেই বললেই চলে। 

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হওয়ার আশঙ্কা

Avatar photo

Published

on

অধিকৃত পশ্চিম তীরে জেনিন শরনার্থী শিবিরে ইসরায়েলের এবারের হামলার ঘটনাটিই প্রায় দু দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণঘাতী হামলা। ইসরায়েলি সৈন্যরা একটি ভবনে গুলি, গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে অভিযান চালানোর ঘটনায় নয় ফিলিস্তিনি মারা গেছে।

দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে তাদের সৈন্যরা একজন ইসলামি জিহাদী জঙ্গীদের ধরতে গিয়েছিলো যারা বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিলো। তবে এখানে ঐতিহাসিক কিছু বিষয় রয়েছে। গত বছর পর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলের অভিযান বাড়ছিলো এবং নতুন প্রজন্মের সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের সাথে প্রায়শই তাদের সংঘর্ষ হচ্ছিলো।

অনেকেই ২০০২ সালের এপ্রিলের পরিস্থিতির সাথে তুলনা করে এটি দ্বিতীয় ‘ইন্তিফাদা’ বা ফিলিস্তিনি আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করছিলো। ওই সময় ইসরায়েল একটি পূর্ণ সামরিক অভিযান চালিয়েছিলো যা জেনিনের যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। ওই সময় অন্তত ৫২ জন ফিলিস্তিনি আর ২৩ জন ইসরায়েলি সৈন্য মারা গিয়েছিলো।

এর জের ধরে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলে অনেক বার আত্মঘাতি বোমা হামলা চালিয়েছিলো। জেনিন শিবিরেরের বড় অংশই তখন ধ্বংসের মাত্রার দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। পরে ফিলিস্তিনিরাও নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা শুরু করে।

গত বসন্তে ইসরায়েল ব্রেক দ্যা ওয়েভ নামে অপারেশন শুরু করে। এটি করা হয়েছিলো ব্যাপক ভাবে ফিলিস্তিনিদের বন্দুক ও ছুড়ি ব্যবহার করে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায়। এর মধ্যে কিছু ঘটনা ঘটিয়েছে কথিত ইসলামিক স্টেট সমর্থকরা। বেশ কিছু ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী মারাও যায় যার মধ্যে রাদ হাজেমও ছিলেন যিনি তেল আবিবের একটি বারে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন।

ফলে জেনিন আবারো আলোচনায় আসে। ইসরায়েলের তল্লাশি, গ্রেফতার ও অভিযান বেড়ে যায়। ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্স বলছে যে তারা আরও হামলা ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে পুরো পশ্চিম তীরে মৃত্যুর ঘটনা আরও বেশি। গত বছর সেখানে অন্তত দেড়শ ফিলিস্তিনি মারা গেছে। যাদের অনেকেই শুধু সামরিক গাড়ী লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়েছে। কেউ কেউ হয়তো শুধু পথচারীই ছিলো।

ইসরায়েলকে সবসময়ই জাতিসংঘ ও অন্য কিছু মানবাধিকার সংস্থা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের জন্য অভিযুক্ত করে আসছে।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সেখানকার শহরগুলোতে সীমিত শাসনক্ষমতেই রয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই জেনিন ও নাবলুসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন এই কর্তৃপক্ষ নব্বইয়ে অসলো শান্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। মিস্টার আব্বাসের দল ফাতাহ পার্টির প্রবল প্রতিপক্ষ হামাস। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখন ইসরায়েলের সাথে নিরাপত্তা বিষয়টি সমন্বয় করছে যার অর্থ হলো তারাই কিছু মিলিশিয়ার তথ্য আদান প্রদান করছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলছেন জেনিনে হামলার কারণে নিরাপত্তা সমন্বয় তারা বন্ধ করে দেবেন। তবে ২০২১ সালেই জেনিন শরনার্থী শিবির ও নাবলুসে কর্তৃত্ব হারিয়েছে। মে মাসে গাযায় হামাস ও ইসরায়েলের লড়াইয়ের সময় থেকেই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সেখানে অজনপ্রিয় হয়ে পড়ে।

আবার ইসরায়েলের একটি জেল থেকে ছয় বন্দী টানেল খুড়ে বেরিয়ে গয়ে পড়ে ধরা পড়েছিলো। এর সবাই জেনিনের।মূলত জেনিন ও নাবলুসের নতুন প্রজন্মের যোদ্ধারা মাহমুদ আব্বাসের কর্তৃপক্ষকে প্রত্যাখ্যান করছে। তারা সশস্ত্র হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ হারাচ্চে। তারা নিজেদের জেনিন ব্যাটালিয়ন বলছে আর নাবলুসে তাদের পরিচিতি লায়নস ডেন হিসেবে।

জর্ডান থেকে চোরাচালান হয়ে আসা কিন্তু ইসরায়েরের ডিফেন্স ফোর্স ঘাঁটি থেকে চুরি বা বিক্রি হওয়া অস্ত্র তারা ব্যবহার করছে। আর এদের অনেকেই অনেক কম বয়সী যারা ২০০২ সালের ঘটনা মনেও করতে পারে না। ইসরায়েলের সেনাদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এমন একজন সাংবাদিক বলছেন, “এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থা। এসব লোকেরা লড়াই করতে চায়।তারা প্রাণ দিতে আগ্রহী”।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলছে তারা বেসামরিক নাগরিক ও সৈন্যদের ওপর হামলা প্রতিরোধ করছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট বলছেন ইসলামি জিহাদীদের টেরর স্কোয়াড ইসরায়েলে হামলা করতে চাইছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই সোমবার ইসরায়েল গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

Continue Reading

Highlights

ইউক্রেনে ট্যাংক পাঠানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যে হুঁশিয়ারি দিল রাশিয়া

Avatar photo

Published

on

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে আব্রামস যুদ্ধ ট্যাংক পাঠালে তা পুড়িয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রস্তাবিত চালান বাতিল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া।

মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ হুঁশিয়ারি দেন। খবর আলজাজিরার।

দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আব্রামস ট্যাংক চালানের বিষয়টি নিশ্চিত করা না হলে, তা শুধু অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু হবে না।

তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত যে অনেক বিশেষজ্ঞ এ ধারণাটির অযৌক্তিকতা মনে করেন। পরিকল্পনাটি প্রযুক্তির দিক থেকে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে এ ট্যাংকগুলো দিলে দেশটির সেনাবাহিনীতে যে সম্ভাবনা যুক্ত করবে তা তাদের বেশ শক্তিশালী করবে। তবে এই ট্যাংক অন্য সব ট্যাংকের মতো জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ওয়াশিংটন তার আগের অবস্থানকে উল্টে ৩০টি আব্রামস যুদ্ধ ট্যাংক পাঠাবে।

Continue Reading

Highlights

লস অ্যাঞ্জেলেসে চীনা নববর্ষের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ১০

Avatar photo

Published

on

লস অ্যাঞ্জেলেসে চীনা নববর্ষ অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে। হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত আরও নয় জন।

স্থানীয় সময় শনিবার (২২ জানুয়ারি) মন্টেরি পার্কে অনুষ্ঠিত চীনা নববর্ষ উদযাপনের স্থানের আশপাশে গুলি চালানো হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি সংবাদপত্র।

তার আগের দিন সেখানে কয়েক হাজার মানুষ এই উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন।

মন্টেরি পার্ক লস অ্যাঞ্জেলেস কেন্দ্রীয় শহর থেকে ১১ কি.মি. দূরে অবস্থিত। এ ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে আরএমজি নিউজ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী পলাতক রয়েছে।

Continue Reading