Connect with us

আন্তর্জাতিক

কায়রোয় যুদ্ধবিরতি আলোচনা পণ্ড, বোমা হামলা শুরু

Avatar photo

Published

on

article-2729114-20A779F400000578-726_964x648কায়রোয় চলমান যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আলোচনা এড়িয়ে ইসরাইলি যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইহুদিবাদী সেনারা আবারও গাযায় তাদের আগ্রাসন শুরু করেছে।

গতকাল বিকেলেই তারা চব্বিশ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পূর্ব গাজার যেইতুন এবং গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লাহিয়ায় বোমা হামলা চালিয়েছে। বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে কায়রোয় ফিলিস্তিনী পক্ষের সাথে ইসরাইলের যেসব আলোচক পরোক্ষভাবে আলোচনা করছিল, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল তাদেরকে আলোচনা বন্ধ করে অধিকৃত ফিলিস্তিনে ফিরে যেতে বলেছে। ইসরাইলিদের আচরণ থেকে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে তারা আসলে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে আস্থাহীনতায় ভুগছে। আলোচনা ত্যাগ করার ঘটনায় ইসরাইল ফিলিস্তিনীদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। হামাস মুখপাত্র সামি আবু জুহরি গতকাল বলেছেন যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য ইসরাইল দায়ী। তারা আসলে সময়ক্ষেপন করার জন্য আলোচনায় বসেছে কোনোরকম সমঝোতা বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তাদের সদিচ্ছা ছিল না।

কায়রোয় অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনায় ফিলিস্তিনী পক্ষের প্রধান আলোচক এজাম আল আহমাদও বলেছেন, ইসরাইলিদের আলোচনা ত্যাগ করার ঘটনা প্রমাণ করছে এই আলোচনাকে ভণ্ডুল করে দেওয়ার বিষয়টি তাদের পূর্বপরিকল্পিত। তিনি বলেন আমরা মিশরীয়দের প্রস্তাব দিয়েছি গাজার ওপর থেকে স্থল এবং সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে নেতানিয়াহু আলোচনা যেমন এগিয়ে নিতে চায় না, তেমনি চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হোক-সেটাও চায় না।

এজাম আহমাদ আরও বলেন, গাজায় গতকালের ইসরাইলি হামলা থেকেই বোঝা যায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও শান্ত হোক সেটা তারা চায় না বরং তারা চায় জোর করে তাদের শর্তগুলো ফিলিস্তিনী এবং মিশরীয় পক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে। এমন শর্ত তারা জুড়ে দিচ্ছে, যুদ্ধবিরতি আলোচনার সাথে যেগুলোর কোনো সম্পর্কই নেই। ইসরাইল যে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে তা থেকেই অনুমান করা যায় তারা যুদ্ধবিরতিকেও নিজেদের আগ্রাসী লক্ষ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে চায়। কীভাবে পুনরায় গাজার ওপর হামলা শুরু করা যায় সেই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল তারা। এগুলো করে তারা আসলে চায় গাজায় তাদের মারাত্মক ব্যর্থতাকে ঢাকা দিতে।

ইসরাইল শর্ত দিচ্ছে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে নিরস্ত্র করতে হবে। এরকম শর্তই প্রমাণ করে তারা যেই লক্ষ্য নিয়ে গাজায় আগ্রাসন চালিয়েছিল সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন হয় নি।

পক্ষান্তরে ফিলিস্তিনী পক্ষের শর্তগুলো যুদ্ধবিরতির সাথে পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট। তাদের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে ছিল: অনতিবিলম্বে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে। গাজার ওপর শত্রুতাপূর্ণ সকল পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। গাজার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে। ফিলিস্তিনী বন্দিদেরকে মুক্তি দিতে হবে। ফিলিস্তিনীদের সকল শর্তই বাস্তবসম্মত এবং যুক্তিযুক্ত।

ইসরাইলের দেওয়া শর্ত এবং ফিলিস্তিনের দেওয়া শর্তগুলোকে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলেই যাবে, গাজা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের চেষ্টার প্রতি ফিলিস্তিন যথেষ্ট আন্তরিক। সে কারণেই জাতিসংঘসহ বিশ্বসংস্থাগুলো চায় ফিলিস্তিণীদের দাবীগুলো বাস্তবায়ন করতে। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনীদের প্রস্তাবগুলোকে পূর্বশর্ত হিসেবে জরুরি বলেই মূল্যায়ন করেন তারা।

অপরদিকে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে ইসরাইলিদের প্রতারণাপূর্ণ নীতি বিশ্ববাসীদের সামনে আবারও স্পষ্ট করে তুলছে যে তারা শান্তির বিপক্ষে, সহিংসতাই তাদের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং যারা আন্তর্জাতিক কোনোরকম রীতিনীতির তোয়াক্কা করে না, সেই মানবতার শত্রু ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

সাবেক ইউরেনিয়ামের খনিতে বনায়নের উদ্যোগ

Avatar photo

Published

on

সাবেক ইউরেনিয়াম খনিতে পরিমাপের কাজ চলছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে এরিকা কোটে কিছু স্বেচ্ছাসেবী মানুষের সঙ্গে মিলে সেখানে প্রায় ২০০ অ্যাল্ডার, বার্চ এবং উইলো গাছ পোঁতেন।

মাটিতে হেভি মেটাল থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সেই কাজ করেন। গাছগুলি স্বাভাবিকভাবে বড় হলে কয়েক বছর পর সেগুলির কাঠ কেটে আগুন জ্বালানো যাবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে এমন মাটিতে সেটা আদৌ সম্ভব কিনা, সে বিষয়ে সংশয় ছিল। এরিকা কোটে জায়গাটিকে ঠিক মাটি বলতেই প্রস্তুত নন। তার মতে, বেড়ে ওঠা জমি একেবারে অন্যরকম দেখতে।

শাকসবজি বা ফল চাষের প্রশ্নই ওঠে না, যদিও ইউরেনিয়াম খনি বন্ধ হবার পর এই জমির সংস্কার করে সেখানে দূষণহীন মাটি ঢালা হয়েছে। ইয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক টর্স্টেন শেফারব বলেন, ‘‘যেমনটা দেখছেন, এই হ্রদকে ঘিরে উদ্ভিদ জগত শিকড় ছড়িয়েছে। অর্থাৎ গাছপালা এই অংশকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। আরও নীচের দিকে দেখলে বালুময় উপাদান পাওয়া যাবে। সর্বশেষ তুষার যুগে এই স্তর গড়ে উঠেছিল। এখানে প্রায় কোনো শিকড়ের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। এখানকার পিএইচ ভ্যালুও অত্যন্ত কম। মোটকথা গাছপালা এই এলাকা পছন্দ করে না।”

পিএইচ ভ্যালু কম হবার অর্থ জমিতে অম্ল রয়েছে। যে সব ধাতু সাধারণ অবস্থায় শক্ত থাকে, সেগুলি এখানে গলে গিয়ে জমির মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে যায়। এভাবে সেগুলি গাছপালার মধ্যেও প্রবেশ করে। টর্স্টেন শেফার বলেন, ‘‘সে কারণে আমরা আমাদের পরীক্ষার আওতায় এমন মাটির মিশ্রণ সৃষ্টি করি, যার মধ্যে সামান্য চুনও থাকে। চুন পিএইচ বাফার হিসেবে কাজ করে, যাতে গাছপালা বেড়ে ওঠার পরিবেশ শুধু আদর্শ নয়, বরং আরও উন্নত হতে পারে।”

অর্থাৎ জমি অম্লমুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু ইয়েনার গবেষকরা শুধু তাতেই সন্তুষ্ট নন। মাটি থেকে ধাতু আলাদা করতে তাঁরা সেই ধাতুকে আবার শক্ত করতে চান। ছত্রাক নাকি সেই কাজ করতে পারে। ইয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট এরিকা কোটে বলেন, ‘‘ছত্রাক প্রকৃতির মধ্যে এমনিতেই সিম্বায়োসিসের মাধ্যমে পানি ও ধাতব উপাদান গাছের মধ্যে টানে বলে সেটি কিছুটা ফিল্টার হিসেবেও কাজ করে। ছত্রাক যে উপাদান গাছে চালান করে না, গাছ তা গ্রহণও করে না। অর্থাৎ ছত্রাক না থাকলে গাছে আরও বেশি হেভি মেটাল প্রবেশ করতো।”

সেখানকার মাটিতে জীবাণুর কার্যকলাপ তরান্বিত করতে বিজ্ঞানীরা প্রতি বছর বিশেষ ধরনের মাইক্রোঅরগ্যানিজম যোগ করেন। এরিকা কোটে বলেন, ‘‘জঙ্গলে বিশেষ গাছের নীচে বিশেষ ছত্রাক থাকে। লার্চ বোলেটাস বা বার্চ মাশরুমের নাম শুনলেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়। লার্চ বা বার্চ গাছের কোলে সেগুলি পাওয়া যায়। অর্থাৎ আমাদের এমন ছত্রাকের সন্ধান করতে হবে, যেগুলি নির্দিষ্ট গাছের সঙ্গে সংলাপ চালাতে পারে।”

এখনো পর্যন্ত সাবেক ইউরেনিয়াম খনির জমিতে আল্ডার গাছ পুঁতে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে। বার্চ গাছ কিছুটা এবং তৃণভূমি সামান্য সাফল্য এনেছে। আগামী বছরগুলিতে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। সে কারণে গবেষকরা পরীক্ষার কাজ চালিয়ে যেতে চান। তবে জমিতে ব্যাকটিরিয়া ও ছত্রাক যোগ করে যে লাভ হয়, সে বিষয়ে তাঁদের মনে কোনো সংশয় নেই। এরিকা কোটে বলেন, ‘‘জমি ফেলে রাখলে সেখানে আবার ঘাস গজায়। প্রাকৃতিক ঘাসজমির মতো জীবাণু জগত সৃষ্টি হতে প্রায় ৪০ বছর সময় লাগে। অর্থাৎ আমরা এখানে জীবাণু যোগ করে কার্যত ৪০ বছর সময় বাঁচিয়ে দিচ্ছি। তাই নতুন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সেই জীবাণুর মানিয়ে নিতে সময় লাগছে না।”

তবে সেই এলাকার বিষমুক্ত ছত্রাকও খাবার যোগ্য নয়। কারণ মাটির হেভি মেটাল সেগুলিতে জমা হচ্ছে। একমাত্র পচে যাবার পরই সেই ধাতু আবার বেরিয়ে আসে। তবে সেই ধাতুর পরিমাণ এতই কম, যে গাছের কোনো ক্ষতি হয় না।

Continue Reading

Highlights

বুরকিনা ফাসোতে দুই হামলায় নিহত ২৮

Avatar photo

Published

on

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে দুটি হামলার ঘটনায় সেনা ও বেসামরিকসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। সশস্ত্র হামলাকারীরা রোববার ও সোমবার এসব হামলা চালিয়েছে বলে সোমবার পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী ও একজন আঞ্চলিক গভর্নর।

নিজেদের বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে নাইজার সীমান্তের কাছে ফালানগৌতৌতে সামরিক বাহিনীর একটি কমব্যাট ইউনিট ইউনিট হামলার মুখে পড়ে, এতে ১০ সেনা, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর দুই যোদ্ধা ও এক বেসামরিক নিহত হয়।

হামলার ঘটনা শেষ হওয়ার পর ঘটনাস্থলে ১৫ হামলাকারীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তারা। সোমবার পৃথক আরেক বিবৃতিতে বুরকিনা ফাসোর দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্যাসকেডস অঞ্চলের গভর্নর কর্নেল জ্য চার্লস দিত ইয়েনাপোনো সোম জানিয়েছেন, রোববার এক হামলার পর ১৫ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, নিহতরা সবাই বেসামরিক।

গভর্নর জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা দুটি যাত্রীবাহী গাড়ি থামায়, সেগুলোতে আটজন নারী ১৬ জন পুরুষ ছিলেন। নারীদের এবং শুধু একজন পুরুষকে মুক্তি দেওয়া হয়, বাকি সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। বিবৃতিতে গভর্নর সোম বলেছেন, “এই ৩০ জানুয়ারি নিহতদের মৃতদেহ লিঙ্গুয়েকোরো গ্রামের কাছে পাওয়া গেছে, তাদের শরীরে গুলির ক্ষত ছিল।”

পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের দেশ বুরকিনা ফাসো এবং এর প্রতিবেশী মালি ও নাইজার আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পর্কিত জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই করছে। জঙ্গিরা দেশটির অনুর্বর ও প্রধানত গ্রামীণ উত্তরাঞ্চলের বহু অঞ্চল দখল করে নিয়ে শত শত গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে। তাদের তাণ্ডবের কারণে ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জঙ্গিরা বহু গ্রাম ও শহর অবরুদ্ধ করে রেখেছে, এতে খাদ্য সংকট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।

Continue Reading

Highlights

পেশোয়ায় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৮৩

Avatar photo

Published

on

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের পুলিশ লাইনস এলাকার ভেতর একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে এক হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছেন।

সোমবারের ওই হামলায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, এদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

পাকিস্তান তালেবান নামে পরিচিত জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে ইসলামাবাদ সরকারের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নভেম্বরে শেষ হওয়ার পর থেকে দেশটিজুড়ে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো গোষ্ঠী পেশোয়ারের হামলার দায় স্বীকার না করলেও এর জন্য টিটিপিকেই সন্দেহ করা হচ্ছে।

টিটিপির এক কমান্ডার প্রাথমিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করলেও গোষ্ঠীটি পরে দাবি করেছে, এর সঙ্গে তারা জড়িত নয়।

সোমবার পেশোয়ারের অত্যন্ত সুরক্ষিত পুলিশ লাইনস এলাকার ভেতরে মসজিদটিতে জোহরের নামাজ চলার সময় এক আত্মঘাতী হামলাকারী বোমা বিস্ফোরণে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। মসজিদটিতে তখন প্রায় তিন থেকে চারশ লোক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের অনেকেই পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তা।

হামলাকারী কীভাবে এই এলাকায় প্রবেশ করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়েছে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান মুহাম্মদ ইজাজ খান বলেন, বোমা নিয়ে হামলাকারী কম্পাউন্ডের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানে পৌঁছে গেছেন।

“সেখানে নিরাপত্তায় গাফিলতি হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। আমরা বিস্ফোরকের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছি,”বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবারও মসজিদটির ধ্বংসাবশেষের নিজে চাপা পড়া লোকজনের খোঁজে অনুসন্ধান অব্যাহত ছিল। উদ্ধারকর্মীদের এক মুখপাত্র মোহাম্মদ বিলাল ফাইজি বিবিসি উর্দুকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ আরও তিন ঘণ্টা ধরে চলবে।

ফাইজি বলেন, “১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধারকাজ চলছে। আরও ২০ জনের মৃতদেহ ধ্বংসাবশেষ থেকে বের করা হয়েছে, এখনও কিছু মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

মসজিদটি পেশোয়ারের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকাগুলোর (রেড জোন) একটিতে অবস্থিত। এই এলাকায় প্রাদেশিক পুলিশের সদরদপ্তর, গোয়েন্দা সংস্থা ও সন্ত্রাস দমন বিভাগের কার্যালয় আছে।

এ হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘‘যারা পাকিস্তানের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সন্ত্রাসীরা দেশ জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে।”

‘হামলাকারীদের সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এক প্রত্যক্ষদর্শী পাকিস্তানের সংবাদ চ্যানেল জিও টিভিকে বলেছেন, “জোহরের নামাজ চলাকালে বিস্ফোরণটি ঘটে, এতে দোতলা মসজিদটি ভেঙে পড়েছে।”

বিস্ফোরণের সময় তিনি মসজিদের ঠিক সামনে ছিলেন বলে জানিয়েছেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম পিটিভির দেখানো ফুটেজে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ছোটাছুটি করে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আহতদের কাঁধে করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থল থেকে ডনের সংবাদাতা জানিয়েছেন, মসজিদ ভবনের এটি অংশ ধসে পড়েছে এবং সামনের সারিতে যারা নামাজ পড়ছিলেন তারা ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বছর পেশোয়ারের কোচা রিসালদার এলাকার একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৬৩ জন নিহত হয়েছিল।

Continue Reading