Connect with us

জাতীয়

গণমাধ্যমের জন্য অভিন্ন নীতিমালা-আইন দাবি

Avatar photo

Published

on

25_Discussion_national-broadcasting-policy_CIRDAP_240814_0003স্টাফ রিপোর্টার:
সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় গণমাধ্যমের জন্য সমন্বিত নীতিমালা ও আইনের দাবি উঠে এসেছে; আলাদা নীতিমালা পরস্পরের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করবে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। রোববার ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪: উদ্বেগ ও করণীয়’ শিরোনামে এই গোলটেবিলের আয়োজন করে ‘আর্টিকেল ১৯’। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার বলেন, “২০১৪ সালে যখন আমরা একটি সম্প্রচার নীতিমালার কথা বলছি, তখন প্রযুক্তি আমাদেরকে ভিন্ন একটি জায়গায় নিয়ে এসেছে। এই সময়ে আমরা মিডিয়া বলতে সামগ্রিকভাবে যাকে বুঝি, তার জন্য একটি নীতিমালার কথা বলছি কি-না? “আলাদা নীতিমালা কেন? তার মানে কাগজে কাউকে আমি গালি দিতে পারবো। কিন্তু অনলাইনে পারবো না? “এজন্যই আমাদের উচিত, একটি জাতীয় গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন করা। পরে সেই আলোকে বাকি কাজগুলো করা।” তিনি বলেন, “কাগজের পত্রিকার জন্য ওয়েজ বোর্ড আছে। টিভি সাংবাদিকের জন্য নাই কেন? ভবিষ্যতে অনলাইন সাংবাদিকতা যারা করবে, তাদের জন্য কেন থাকবে না? কাগজের পত্রিকার জন্য যদি প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট থাকে, তাহলে টিভির জন্য সম্প্রচার আইন খুঁজে বেড়াচ্ছি কেন?”
গণমাধ্যম কমিশন হওয়া উচিত প্রশ্নে মোস্তফা জব্বার বলেন, “আমি মনে করি, সামগ্রিকভাবে মিডিয়ার জন্য একটি কমন প্লাটফর্ম দরকার। তাই সম্প্রচার কমিশন নয়, গণমাধ্যম কমিশন হওয়া উচিত। এটা করা হলে কমিশনের কাছে কাগজ-টিভি সবার বিষয়ে যেতে পারবো। “একটি নীতিমালা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। অনলাইনের আরেকটি নীতিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে।” সম্প্রচার ও অনলাইন উভয় নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন কমিটির এই সদস্য বলেন, “আমাকে যখন বলা হলো, কমিটি অনলাইন নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করবে। আমি বললাম, আমার কাজ সহজ হবে। “কিভাবে? সম্প্রচার নীতি থেকে অর্ধেক দেয়া যাবে। “তার মানে অনলাইন নীতিমালা করতে গেলে গেলে আমাকে ভাবতে হচ্ছে, সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে। অনলাইনে সেই বিষয়গুলোর ৯৫ ভাগ প্রতিফলন করতে হবে। প্রযুক্তিগত পার্থক্য ছাড়া খুব একটা পার্থক্য খুঁজে পাইনি।”
মোস্তফা জব্বার বলেন, “সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা কি আইসিটি অ্যাক্ট নিয়ে কথা বলেছি? এই আইনে কি পরিমাণ কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, সেটা সম্পর্কে কি আমরা সচেতন? “আমরা কি আদৌ ৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট আছে, সেটা সম্পর্কে কোনো কথা বলেছি? সেই আইন যে আমার গলা টিপে ধরে রেখেছে, সেই আইন সম্পর্কে বলিনি। “আমি কি বিশেষ ক্ষমতা আইন সম্পর্কে কথা বলেছি? সেই আইনতো আমার মাথাসহ উড়িয়ে নিয়ে গেছে। সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলিনি। সম্প্রচার নীতিমালা সামনে এসেছে সে কারণে কিছু ভাসা ভাসা সংজ্ঞাগত আলোচনা করেছি।” মোস্তফা জব্বার বলেন, “গণমাধ্যমের জন্য ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে একটি নীতিমালা, একটি কমিশন, একটি আইন করতে পারি। একইসঙ্গে আমি মনে করি, গণমাধ্যম আইন করে প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্টটা বাতিল করে দেন। “একইসঙ্গে আমি মনে করি, লাইসেন্সের পলিসি যদি করেন, অবশ্যই ব্রডকাস্টের মাধ্যমের জন্য বিটিআরসির তরঙ্গ বরাদ্দে আলাদা ব্যবস্থা থাকতে পারে। ব্লগে কি লেখা হবে, সেটা আমি নিয়ন্ত্রণ করবো কি-না, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কথা বলা উচিত বলে আমি মনে করি।”
মোস্তফা জব্বরের বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, “গণমাধ্যম নীতিমালার দাবিটি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে আমরা বলেছি। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- আমরা এটা চাই। এর সঙ্গে আমরা একমত।” তিনি বলেন, “সম্প্রচার নীতিমালাসহ আলাদা আলাদা নীতিমালা কনফ্লিক্টিং হবে। অনলাইন নীতিমালার খসড়া পড়ে আছে। আরো দুটি ড্রাফট পড়ে আছে। একটি হলো ১৯৭৪’র নিউজ পেপার সার্ভিসেস অ্যাক্ট যেটাতে কেবল সংবাদপত্রের কর্মচারীদের বিষয় ছিল। সেখানে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ঢুকানো হয়েছে। “আপনারা বলছেন, সম্প্রচার কমিশনে কমপ্লেইন করবেন। তথ্য মন্ত্রণালয় কিন্তু আবার প্রেস কাউন্সিলে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অভিযোগ নেওয়ার জন্য আরেকটা খসড়া নিয়ে বসে আছে। কাজেই কোনটার সঙ্গে কোনটা মিলবে। একটি গণমাধ্যম নীতিমালা হলে সেটাই হওয়া উচিত।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রহমান অনুষ্ঠানে নিজের ফোনটি দেখিয়ে বলেন, এই এক মোবাইলে এখন টিভি দেখতে পারেন। অনলাইন দেখতে পারেন, পত্রিকা পড়তে পারেন। “এছাড়া ভবিষ্যতের কোনো নতুন ধরণের মাধ্যমও এখানে যুক্ত হতে পারে। এ সব মিলিয়ে কেন নীতিমালা হচ্ছে না? এখন একটি সমন্বিত নীতিমালা করা দরকার। “বিজ্ঞাপন নিয়ে শ্লীল-অশ্লীল নানা কথা বলা হয়েছে। অভিনয়ও একটা শিল্প, এটা নিয়েও কথা বলা যায়। যাত্রা-নাটক আলাদা একটা যোগাযোগ মাধ্যম, কিন্তু সেটা আবার উঠে আসছে টিভিতে। অনলাইনেও নানা ধরণের জিনিস আসছে। “এর বাইরে রয়েছে, বিদেশি চ্যানেল। যেগুলো আমাদের সংস্কৃতিকে গ্রাস করে ফেলেছে। কিন্তু তাই বলে আমরা দরজা জানালা বন্ধ করে থাকতে পারবো না। একটার মধ্যে কি এগুলোও পড়বে না? সবগুলোকে কি এখানে নিয়ে আসবো না?” তিনি বলেন, আলাদা আলাদা নীতিমালা ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে আসে। পরিকল্পনা সমন্বিত জায়গা থেকে করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে করতে হবে। চাপিয়ে দেয়া নীতিমালা চলতে পারে না। আর্টিকেল ১৯’র বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমানের সঞ্চালনায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া, ম্যাসলাইন মিডিয়া সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক কামরুল আহসান মঞ্জু, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আলোচনায় অংশ নেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

২০২২ সালে ৫৩২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

Avatar photo

Published

on

সারাদেশে ২০২২ সালে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৫৩২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের এই সমীক্ষার তথ্য বলছে, আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৪০ জন বা ৬৪ শতাংশই স্কুল পর্যায়ের।

এছাড়া কলেজ পর্যায়ে ১০৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। সমমান প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী রয়েছেন ৫৪ জন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৮৬ জন শিক্ষার্থী এই এক বছর আত্মাহুতি দিয়েছেন বলে উঠে এসেছে আঁচলের সমীক্ষায়।

শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা: সমাধান কোন পথে?’ শীর্ষক এই সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

আঁচল ফাউন্ডেশনের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইউনিটের টিম লিডার ফারজানা আক্তার লাবনী জানান, দেশের দেড় শতাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল থেকে শিক্ষার্থীদের আত্মহননের তথ্য নেওয়া হয়েছে তাদের এই সমীক্ষায়।

আত্মহত্যায় শীর্ষে ঢাকা-

দেশের আট বিভাগে আত্মহত্যা করা স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, যা মোট আত্মহত্যার প্রায় ২৩.৭৭ শতাংশ।

আত্মহত্যায় এগিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা –

আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন বলছে, আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

আত্মহত্যা করা স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৩.৯০ শতাংশ, অর্থাৎ ২৮৫ জনই মেয়ে; বাকি ১৬১ জন, অর্থাৎ ৩৬.১ শতাংশ ছেলে।

বয়ঃসন্ধিকালে ঝুঁকি বেশি-

সমীক্ষায় পাওয়া তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

২০২২ সালে যে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছে, তাদের মধ্যে ৪০৫ জন বা ৭৬.১২ শতাংশই টিন এজার। তাদের মধ্যে ৬৫.৯৩ শতাংশ মেয়ে; ৩৪.০৭ শতাংশ ছেলে।

আবার আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের ৪৩ জন বা ৮.০৮ শতাংশের বয়স ছিল ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৪৬.৫২ শতাংশ মেয়ে। আর ছেলেদের সংখ্যা তার চেয়েও বেশি, ৫৩.৪৮ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সাথে শিক্ষার্থীদের মানিয়ে নিতে প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়, সে কারণে ওই বয়সে আত্মহত্যার হার বেশি।

আত্মহত্যার কারণ-

আঁচলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মহত্যাকারী স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের তথ্যে জীবদ্দশায় তাদের নানা ধরের জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার বিষয় এসেছে। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী এ পথ বেছে নিয়েছে ‘মান-অভিমান’ থেকে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি।

তবে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে আরো বেশ কিছু বিষয় এসেছে প্রতিবেদনে।

আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় ৪ জন, শিক্ষকের হাতে ‘অপমানিত’ হয়ে ৬ জন, গেইম খেলতে বাধা দেয়ায় ৭ জন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ২৭ জন, মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় ১০ জন, মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় ৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে তথ্য এসেছে সমীক্ষায়।

আশা জাগাচ্ছে সরকারি পদক্ষেপ-

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটনার আশা জাগছে। এর মধ্যে একটি হল মানসিক স্বাস্থ্য আইন প্রণয়ন। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ‘মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ফার্স্ট এইড (পার্ট-১)’ নামের একটি অনলাইন প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি-২০২২ এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। প্রত্যেক জেলায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জন্য একজন করে মনোবিদ নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। ২০২৩ সালে ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ বইটিতে মনের যত্ন নেওয়ার একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মকে মানসিকভাবে তৈরি হতে সহায়তা করতে পারে।

আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, শিশু কিশোরদের মন হয় ‘ভঙ্গুর প্রকৃতির’। এ বয়সে ছোট ছোট বিষয়গুলোও তাদের আন্দোলিত করে। বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক বিকাশের সাথে অনেকেই খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে প্রত্যাশার ক্ষেত্রে ছোটখাটো ঘাটতিও তাদের আত্মহত্যার মত বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

“আত্মহত্যা প্রতিরোধে আমাদের শিক্ষক এবং বাবা মায়েদের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুকালে বাচ্চাদের উপর বাবা মায়ের প্রভাব যেমন বেশি থাকে, কৈশোরে সেই দায়িত্ব বর্তায় শিক্ষকদের উপর। তাই শিক্ষার্থীদের মানসিক গঠনে তাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যও বেশি।

তিনি বলেন, স্কুল ও কলেজ শিক্ষকরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো শুনে মেন্টরের ভূমিকা পালন করতে পারেন।

“আমাদের মনে রাখতে হবে, এই বয়সে একজন শিক্ষার্থীর সঠিক পরামর্শ পাওয়ার জায়গা অপ্রতুল।”

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শাহরিনা ফেরদৌস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০২২ সালের এই জরিপে দেখা যাচ্ছে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা অনেক বেশি।

“এ সময়ে কিশোর কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং সচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। রোগী দেখার সময় আমি দেখেছি, কোভিড-১৯ এর একটি বড় প্রভাব পড়েছে আমাদের কিশোর বয়সীদের ওপর, যা কাটিয়ে উঠতে এখনো আরো সময়ের প্রয়োজন।

“সর্বোপরি বয়সন্ধিকালীন মনের যত্ন বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ ভীষণ প্রয়োজন। স্ক্রিন বা মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারিবারিক বন্ধন, পরিবারের সাথে ভালো সময় কাটানোর চর্চা বাড়াতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই আত্মবিশ্বাসী এবং সুস্থ মনন গড়ে তুলতে এই পদক্ষেপগুলো অনস্বীকার্য।”

আঁচলের প্রস্তাব-

১. হতাশা, একাকিত্ব ও নেতিবাচক ভাবনা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বৃদ্ধি করা।

২. সন্তানদের মানসিক বিকাশ এবং তাদেরকে সহানুভূতির সাথে শুনতে ও বুঝতে অভিভাবকদের জন্য প্যারেন্টিং কার্যক্রম চালু করা।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষক-কর্মচারীদের আচরণ ও পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ণে কৌশলী ও সহানুভূতিশীল হতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৪. স্কুল, কলেজ পর্যায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধী পোস্টার প্রদর্শন করা।

৫. প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবারের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে ও দায় বৃদ্ধিতে তাদের আইনি বাধ্যবাধকতার অন্তর্ভুক্ত করা।

৬. স্কুল-কলেজের ছাত্রকল্যাণ ফান্ডের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে তা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যা সমাধান অনেকাংশে সম্ভব। এতে আর্থিক সংকটজনিত আত্মহত্যার হার কমে আসবে।

৭. প্রেম-প্রণয় ঘটিত সম্পর্কে বা অজ্ঞাতসারে ধারণ করা গোপন ছবি, ভিডিও ইত্যাদি প্রচার তথা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ ও সাইবার ক্রাইমের বিষয়ে শাস্তি উল্লেখপূর্বক বিশেষ প্রচারণাভিযান পরিচালনা করা।

৮. স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যা সতর্কতা চিহ্ন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। এর মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য আত্মহত্যাকারীকে বাঁচানো যাবে।

৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেন্টাল হেলথ কর্নার খোলা। শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তির আওতায় এনে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ট্রেনিং দেওয়া।

১০. কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য ক্লিনিক্যাল সুবিধার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

১১. শিক্ষার্থীদের আবেগ-অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল ও ধৈর্য্যশীলতার পাঠ শেখানো ।
সংবাদ সম্মেলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, আঁচল ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামিরা আক্তার সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদসূত্র :  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Continue Reading

জাতীয়

নারীদের উপর হামলার প্রতিবাদে হেযবুত তওহীদের মানববন্ধন

Avatar photo

Published

on

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বিভিন্ন স্থানে হেযবুত তওহীদের নারী নেতাকর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা, হেনস্থা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৩) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় নারী বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক দেশেরপত্রের সম্পাদক রূফায়দাহ পন্নী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডাক্তার মাহবুব আলম মাহফুজ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক দিল আফরোজ, কেন্দ্রীয় তথ্য বিভাগের সম্পাদক ও দৈনিক বজ্রশক্তির সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা, ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের নারী বিষয়ক সম্পাদক তাসলিমা ইসলাম, কেন্দ্রীয় নারী বিষয়ক উপ-সম্পাদক ইলা ইয়াসমিন, আয়েশা সিদ্দিকা ও আফরোজা মুনির প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের নামে অপরাজনীতি, সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ধর্মব্যবসা সহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনা সৃষ্টি করতে দেশব্যাপী ইসলামের সঠিক আদর্শ তুলে ধরছে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার বলে তারা তাদের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রচারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একটি সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠী বরাবরই এই কাজে হেযবুত তওহীদকে বাধা দিয়ে আসছে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই জঙ্গিবাদী, সাম্প্রদায়িক, ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটির দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়েছে। ধর্মের লেবাসধারী এই গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের উপর হামলা, ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডও ঘটিয়েছে। এমনকি হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যরাও তাদের হাত থেকে নিরাপদ নয়।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যদের উপর হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যদের উপর সাম্প্রতিক কিছু হামলার ঘটনা তুলে ধরেন এবং এসব ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি এসব ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। এসময় হেযবুত তওহীদের উপস্থিত নারী সদস্যরা বিক্ষোভে ফেটে পরেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত হেযবুত তওহীদ নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত দাবিসমূহ হচ্ছে- (১) হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যদের উপর হামলা, হয়রানি, হেনস্তার সাথে জড়িত উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। (২) প্রতিটি জেলা-উপজেলায় হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কলকারখানার নিরাপত্তা, হেযবুত তওহীদের সকল সদস্যদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। (৩) হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও দাঙ্গা সৃষ্টির পায়তারা চলছে তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করত হবে। (৪) জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের চলমান কর্মসূচি সমূহকে সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

Continue Reading

Highlights

নারীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হেযবুত তওহীদের মানববন্ধন

Avatar photo

Published

on

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বিভিন্ন স্থানে হেযবুত তওহীদের নারী নেতাকর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা, হেনস্থা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৩) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের নারী বিষয়ক সম্পাদক তাসলিমা ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় নারী বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক দেশেরপত্রের সম্পাদক রূফায়দাহ পন্নী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডাক্তার মাহবুব আলম মাহফুজ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক দিল আফরোজ, কেন্দ্রীয় তথ্য বিভাগের সম্পাদক ও দৈনিক বজ্রশক্তির সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা, ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের নারী বিষয়ক সম্পাদক তাসলিমা ইসলাম, কেন্দ্রীয় নারী বিষয়ক উপ-সম্পাদক ইলা ইয়াসমিন, আয়েশা সিদ্দিকা ও আফরোজা মুনির প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের নামে অপরাজনীতি, সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ধর্মব্যবসা সহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনা সৃষ্টি করতে দেশব্যাপী ইসলামের সঠিক আদর্শ তুলে ধরছে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার বলে তারা তাদের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রচারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একটি সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠী বরাবরই এই কাজে হেযবুত তওহীদকে বাধা দিয়ে আসছে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই জঙ্গিবাদী, সাম্প্রদায়িক, ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটির দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়েছে। ধর্মের লেবাসধারী এই গোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের উপর হামলা, ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডও ঘটিয়েছে। এমনকি হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যরাও তাদের হাত থেকে নিরাপদ নয়।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যদের উপর হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যদের উপর সাম্প্রতিক কিছু হামলার ঘটনা তুলে ধরেন এবং এসব ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি এসব ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। এসময় হেযবুত তওহীদের উপস্থিত নারী সদস্যরা বিক্ষোভে ফেটে পরেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত হেযবুত তওহীদ নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত দাবিসমূহ হচ্ছে- (১) হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যদের উপর হামলা, হয়রানি, হেনস্তার সাথে জড়িত উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। (২) প্রতিটি জেলা-উপজেলায় হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কলকারখানার নিরাপত্তা, হেযবুত তওহীদের সকল সদস্যদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। (৩) হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও দাঙ্গা সৃষ্টির পায়তারা চলছে তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করত হবে। (৪) জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের চলমান কর্মসূচি সমূহকে সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

Continue Reading