Connect with us

দেশজুড়ে

গলাচিপার সংখ্যালঘু পরিবার ঢাকার দোহারে জিম্মি

Avatar photo

Published

on

গলাচিপা প্রতিনিধি:  পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কলাগাছিয়া গ্রামের মাস্টার বাড়ির নিতাই মাস্টারের বড় ছেলে নিমাই চন্দ্র দাসের পরিবার ঢাকা জেলার দোহার থানার ডিলার সমবায় সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমানের কাছে জিম্মি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, নিমাই চন্দ্র দাস দীর্ঘ বারো বছর যাবৎ ঢাকার শহরের বিভিন্ন মার্কেটিং কোম্পানির সাথে সুনামের সহিত চাকুরী করে আসছিলেন। আজ থেকে তিন বছর আগে লুৎফর রহমান দোহার থানার হাইস্কুল মার্কেট নামক স্থানে কসমেটিক্স ব্যবসা করতেন। আর নিমাই চন্দ্র দাস ছিলেন একটি কসমেটিক্স কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। সেই সুবাদে নিমাই চন্দ্র দাসের সাথে পরিচয় হয়ে সু-সম্পর্ক তৈরি হয়। নিমাই চন্দ্র দাস দীর্ঘ বারো বছর বিভিন্ন মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকুরি করায় মার্কেটিং ব্যবসা সম্বন্ধে নিমাই চন্দ্র দাসের ভালো অভিজ্ঞতা। তাই লুৎফর রহমান মার্কেটিং ব্যবসা করবে আর নিমাই চন্দ্র দাসকে এস.আর.হিসাবে মোট অংকের টাকা বেতন দিবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে নিমাইয়ের পুরানো কোম্পানি “চয়েস বাংলাদেশ” থেকে চাকুরি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
নিমাই চন্দ্র দাস লুৎফর রহমানকে বিশ্বাস করে চাকুরি ছেড়ে দেন। নিমাই চন্দ্র দাস যোগদান করে লুৎফর রহমানের আলামিন জেনারেল স্টোর নামক ডিলারে এস.আর.হিসাবে। সতেরো হাজার টাকা মাসিক বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও নিমাইকে বেতন দেন দশ হাজার টাকা করে। দশ হাজার টাকা বেতন পেয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন পার করতে থাকেন নিমাই চন্দ্র দাস। সহজ সরল নিমাই দাসকে ডিলারী ব্যবসা করিয়ে দিবে বলে রাজি করেন লুৎপর রহমান।
নিমাই চন্দ্র দাস বাবার সম্পত্তি বন্ধক রেখে দুই লক্ষ টাকা লুৎফর রহমানকে দিয়ে দেন। দুই লক্ষ টাকা নিমাই লুৎফরকে দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নিমাইর উপর অমানবিক শারিরীক নির্যাতন। নির্যাতন করতে করতে নিমাই চন্দ্র দাসকে অতিষ্ঠ করে ফেলে এবং একপর্যায়ে নিমাইকে তারিয়ে দেয়। এবং নিমাইর কাছ থেকে তিনটি ব্লাংক স্টাম্পে ও একটি লুৎফর রহমানের কৃষি ব্যাংকের চেকে সই রাখে।
আর নিমাইকে বলে তুই ভারত চলে যা তোকে আমার চোখের সামনে দেখলে মেরে ফেলব। লুৎফর রহমানের নির্যাতনের আঘাত নিমাই চন্দ্র দাসের শরিরের বিভিন্ন জায়গায় ও বাম হাতে জখম আছে। লুৎপর রহমান ঢাকা জেলার দোহার থানার মধ্য লটাখোলা এলাকার নুর মোহাম্মাদ ও মোসা. আকলিমা আক্তার এর ছেলে। লুৎফর রহমান এর জাতীয় পরিচয় পত্র নম্ব-২৬০১২৯০০০০৮২। জিম্মি নিমাই চন্দ্র দাস এর স্ত্রী নিপা রানী দাস (২০) ছেলে নিরব দাস (০১) বছর ও শ্যালক বিশ্বজিৎ দাস (১৪) বছর এরা তিন জন লুৎফর রহমানের কাছে জিম্মি আছে।
এ বিষয়ে নিমাই চন্দ্র দাস বাদী হয়ে লুৎফর রহমানকে আসামী করে গত ৩০ আগষ্ট ২০১৬ ইং তারিখ গলাচিপা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নাম্বর ৩০৪/১৬।
এ বিষয়ে লুৎফর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার মুঠোফোনে ০১৯১৭৭৩৭৭৯২ ফোন করলে ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে নিমাই চন্দ্র দাস প্রতিবেদক কে জানান, আমার স্ত্রী একজন প্রতিবন্ধী তার ডান পাশের চোখ নেই। আমার স্ত্রী প্রতিবন্ধী থাকায় নিরবের সেবা যত্ম অনেকটাই আমার করতে হতো। এখন ওরা আমার মহাজন লুৎফর রহমানের কাছে আটকা আছে না জানি কতোটা কষ্টে আছে।
তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীর ব্যবহারিত মোবাইল ফোনটি লুৎফর রহমান জোড় করে নিয়ে গেছে এবং আমার স্ত্রী সন্তান ও শ্যালককে আটকে রেখে দুই লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ওদের কে মেরে ফেলবে লুৎফর রহমান। আমি সাধারন পরিবারে সন্তান আমার পক্ষে দুই লক্ষ টাকা দেওয়া সম্ভব না তাই বাংলাদেশের প্রশাসনের কাছে আমার দাবি যাতে আমার স্ত্রী সন্তান ও শ্যালককে ঐ লুৎফর রহমান এর কাছ থেকে উদ্ধার করে আমার কাছে ফিরেয়ে দেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গাজীপুর

মহান শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ ইয়ুথ ইউনিটির পুষ্পস্তবক অর্পণ

Avatar photo

Published

on

নুরে আলম, গাজীপুর :
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ইয়ুথ ইউনিটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। একুশের প্রথম প্রহরে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মাসুদ রানা এরশাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান উল্লাহ বিপ্লব, সহ-সভাপতি মো. সাব্বির হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ মিয়া, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয় সম্পাদক মেহরাব হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম, তানভির সিকদার, সহ-যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মৃদুল চন্দ্র সরকার, সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক হিমেল মোল্লা, সহ-সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক সোহরাব হোসেন সেতু, সহ-ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক, সদস্য নাঈম হোসেন, হাসান, মিশকাত, রাব্বি প্রমুখ।

Continue Reading

গাজীপুর

গাজীপুর বিআরটিএ অফিসে রিফ্রেসার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

Avatar photo

Published

on

নুরে আলম, গাজীপুর :
“আইন মেনে সড়কে চলি নিরাপদে ঘরে ফিরি ” – স্লোগানকে লক্ষ্য রেখে পেশাজীবী গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নকালে দক্ষতা ও সচেতন বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেসার প্রশিক্ষণ ২৪ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পেশাজীবী গাড়ি চালকরা উপস্থিত ছিলেন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। রাস্তায় গাড়ি চালানোর নিয়ম-নীতি সম্পর্কে চালকদের অবগতি করা হয়।

পেশাজীবী গাড়ি চালকরা বলেন, এ প্রশিক্ষণে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি রাস্তায় গাড়ি চালানো বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় গাজীপুর বিআরটিএ সেবা নিয়ে গ্রাহকরা জানালেন এখন স্বস্তির বাণী ।

বিআরটিএ গাজীপুর সার্কেল এর সহকারি পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবু নাঈম সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ড্রাইভাররা রাস্তায় ট্রাফিক সিগনাল এবং দুর্ঘটনা না হয় ও গাড়ি চালানোর বিভিন্ন নিয়ম শিখিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বি আর টি এ গাজীপুর সার্কেলের মোটরযানপরিদর্শক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান সুমন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বি আর টি এ গাজীপুর সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান, মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্টে শেখ মোহাম্মদ আদিয়াত ও ইন্সপেক্টর ফজলুল হক।

Continue Reading

Highlights

ময়মনসিংহে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩

Avatar photo

Published

on

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় আলুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে চিনিবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কের তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ঘোষবেড় গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে পিকআপচালক কামরুল ইসলাম (২৫), সন্ধ্যাপুড়া গ্রামের ওসন আলীর ছেলের কাদির মিয়া (৪৫) ও আকদপাড়া গ্রামের মৃত রঞ্জন আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৪৫)। নিহতরা সবাই হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চিনিবোঝাই পিকআপটি হালুয়াঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে ঢাকা-শেরপুর সড়কের তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা আলুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপ চালক কামরুল ইসলাম মারা যান। আহত হন পিকআপের আরও দুই আরোহী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুর রহমান ও কাদিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তারাকান্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুইজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাদের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তারাকান্দা থানার ওসি মো. ওয়াজেদ আলী বলেন, ট্রাক-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাক জব্দ করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে গেছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Continue Reading