Connect with us

Highlights

চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলছে ‘চিপ-যুদ্ধ’ – কে এগিয়ে?

Avatar photo

Published

on

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে অনেক যুদ্ধ, কূটনৈতিক বিবাদ আর নানা দেশের জোট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে একটি কারণে-তেল। কিন্তু এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুটো অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে লড়াই জমে উঠেছে আরেকটি বহুমূল্য সম্পদের জন্য – সেটি হচ্ছে সেমিকণ্ডাকটর বা চিপস, যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ব্যবহার্য নানা জিনিসে শক্তি যোগায়।

একটুখানি সিলিকনের টুকরো দিয়ে তৈরি এই চিপসের বাজার কিন্তু মোটেও ক্ষুদ্র নয়। সারা দুনিয়াব্যাপী ৫০,০০০ কোটি ডলারের বাজার এই সেমিকণ্ডাকটরের – যা আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ফুলে-ফেঁপে দ্বিগুণ আকার নেবে। এই চিপস তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কোম্পানি, নানান দেশ।

এদের জটিল নেটওয়ার্ক এমনভাবে একটির সাথে আরেকটি যুক্ত যে সোজা কথায় – এই সরবরাহ ব্যবস্থা বা ‘সাপ্লাই চেইনের’ নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে, তার হাতেই উঠবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি হয়ে ওঠার চাবিকাঠি। এই প্রযুক্তির বেশির ভাগই আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তবে সমস্যা হলো, এখন এই চিপ তৈরির প্রযুক্তি হাতে পেতে চাইছে চীন। ফলে আমেরিকানরা চাইছে যেন কিছুতেই তা না হতে পারে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এ দুটি দেশ যে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত – তা অনেকেই জানেন। কিন্তু এই চীন-মার্কিন লড়াইয়ের আরো একটি দিক আছে – বলছেন ক্রিস মিলার, টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যিনি সম্প্রতি একটি বই লিখেছেন “চিপ ওয়ারস” নামে।

তার কথায়, এতকাল ধরে এই চীন-মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন “জাহাজ বা ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার মত ক্ষেত্রে চলেছে, কিন্তু এখন এ লড়াইটা কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার (এআই) এলগরিদমগুলো কারটা কত ভালো – সেই ক্ষেত্রেও চলছে, যা মিলিটারি সিস্টেমগুলোতে ব্যবহার করা যাবে।”

এখনকার মত অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে আছে। কিন্তু চীনের বিরুদ্ধে তারা এর মধ্যেই যে ‘চিপ যুদ্ধ’ ঘোষণা করে দিয়েছে তা এখন বিশ্ব অর্থনীতিকেই নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে।

কত জটিল এই ‘চিপ-মেকিং’-

সেমিকন্ডাকটর তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ ধরনের জ্ঞান এবং এর উৎপাদনের সাথে অন্য অনেকগুলো বিষয় গভীরভাবে জড়িত। একটা আইফোনের ভেতরে যে চিপগুলো থাকে তা ডিজাইন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, এগুলো তৈরি হয় তাইওয়ান, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ায়, এর পর সেগুলো এ্যাসেম্বলিং বা একসাথে সন্নিবেশ করার কাজটা হয় চীনে।

তবে ভারত এখন এই শিল্পে আরো বেশি বিনিয়োগ করছে এবং তারা হয়তো আগামী দিনগুলোতে আরো বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। সেমিকন্ডাকটর আবিষ্কৃত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু ধীরে ধীরে এর উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং-এর কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। এর একটা কারণ ছিল সরকারি ভর্তুকিসহ নানারকম প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ।

এর ফলে ওয়াশিংটন এমন একটি অঞ্চলের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং কৌশলগত জোট গড়ে তুলতে পেরেছে – যে জায়গাটি স্নায়ুযুদ্ধের সময় রুশ প্রভাবের চাপের মুখে ছিল। এখন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়ছে – কিন্তু ওয়াশিংটনের জন্য সেই পুরোনো সম্পর্ক এখনও কাজ দিচ্ছে।

যত ছোট, তত ভালো-

চিপ তৈরির ক্ষেত্রে মূল প্রতিযোগিতাটা হচ্ছে এর আকার এবং কর্মক্ষমতার ক্ষেত্রে । সবাই চাইছে সবচেয়ে দক্ষ এবং সেরা চিপ বানাতে। অন্যদিকে এগুলো আকারে যত ছোট হবে, ততই ভালো। চিপগুলোর ভেতরে থাকে ট্রানজিস্টর – যাকে বলা যায় অতিক্ষুদ ইলেকট্রিক সুইচ – যা বিদ্যুতের প্রবাহকে চালু করতে বা বন্ধ করতে পারে।

চ্যালেঞ্জটা হলো – একটা অতি ক্ষুদ্র সিলিকনের টুকরোর মধ্যে আপনি কতগুলো ট্রানজিস্টর বসাতে পারেন, সেইখানে।সেমিকণ্ডাকটর শিল্পে এটাকে বলে “মূর’স ল” – যার মুল কথা একটা সময়ে চিপে ট্রানজিস্টরের ঘনত্ব দ্বিগুণ করা। এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ – বলছেন জু ওয়াং, সিলিকন ভ্যালির বেইন এ্যান্ড কোম্পানির একজন অংশীদার।

“এটা করতে পারলেই আমাদের ফোনগুলোকে আমরা আরো দ্রুতগতিতে কাজ করাতে পারি, আমাদের ডিজিটাল ফটোর সংগ্রহকে আরো বড় করতে পারি, আমাদের স্মার্ট ডিভাইসগুলোকে করে তুলতে পারি আরো বুদ্ধিমান এবং আমাদের সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্টগুলোকে করতে পারি আরো সমৃদ্ধ । “

এ কাজটা কিন্তু – এমনকি পৃথিবীর শীর্ষ চিপ প্রস্তুতকারকের জন্যও – মোটেও সহজ নয়। গত ২০২২ সালের মাঝামাঝি স্যামসাং বিশ্বের প্রথম কোম্পানি হিসেবে তিন ন্যানোমিটারের মাপে চিপস ব্যাপকহারে উৎপাদন শুরু করে।

এর পরেই এ স্তরে পৌঁছায় তাইওয়ানের টিএসএমসি নামের সেমিকন্ডাকটর উৎপাদনকারী কোম্পানি। তারা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চিপ প্রস্তুতকারক এবং এ্যাপল কোম্পানির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। এখন, আমরা বলছি তিন ন্যানোমিটার মাপের চিপ। এর মানে জিনিসটা কত সরু?

একটা তুলনা দেয়া যাক- মানুষের এক গাছা চুল হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০,০০০ ন্যানোমিটার। বুঝতেই পারছেন – এর চাইতে অনেক অনেক সরু স্যামসাং-এর নতুন এই চিপ। এগুলোকে বলা হচ্ছে ‘লিডিং এজ’ চিপ যা অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অনেক মূল্যবান জিনিসের ভেতরে এগুলো বসানো হয়, যেমন সুপারকম্পিউটার এবং কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ডিভাইসে।

বর্তমানে সাধারণ মাইক্রোওয়েভ, ওয়াশিং মেশিন, বা রেফ্রিজারেটরের ভেতরে যে চিপ থাকে তাকে বলা হয় ‘ল্যাগিং এজ’। এর বাজারও অনেক বড় এবং লোভনীয় কিন্তু মনে করা হচ্ছে যে ভবিষ্যতে এই চিপের চাহিদা আর তেমন থাকবে না।

‘চিপ মেকার’দের শীর্ষে তাইওয়ান-

তাইওয়ান দ্বীপটিকে চীন তার নিজের অংশ বলে মনে করে। তবে এ হুমকির মুখে স্বশাসিত এই দ্বীপটিকে সুরক্ষা দিচ্ছে চিপ তৈরির ক্ষেত্রে তার এই অবস্থান – যাকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট অভিহিত করেছেন “সিলিকন শিল্ড” বলে।

বেজিংও এখন চিপ তৈরিকে তাদের একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা সুপারকম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে।

ক্রিস মিলার বলছেন, চিপ তৈরিতে চীন এখনো বিশ্বের এক নম্বর হবার ধারেকাছেও নেই, কিন্তু গত দশকে তারা এব্যাপারে অনেকটা এগিয়ে এসেছে – বিশেষ করে চিপের ডিজাইনিং-এর সক্ষমতার ক্ষেত্রে।

তিনি বলছেন, “ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে যখনই কোন শক্তিশালী দেশের হাতে সর্বাধুনিক কম্পিউটিং প্রযুক্তি এসেছে তখনই তারা বুদ্ধিমত্তা এবং অস্ত্র পরিচালনা পদ্ধতিতে তা ব্যবহার করেছে।“

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এ দুটিই উদ্বেগের কারণ। একটি হলো, চিপ তৈরিতে চীনের এগিয়ে যাওয়া , আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সরবরাহের জন্য তাইওয়ানের মত এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা।

চীনের অগ্রগতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কী করছে?

চিপ তৈরির প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশ ঠেকানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন। গত অক্টোবর মাসে ওয়াশিংটন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কিছু বড় বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। এর ফলে কোম্পানিগুলোর জন্য চীনের কাছে চিপস, চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি এবং মার্কিন সফটওয়্যার বসানো প্রযুক্তি বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে – তা সেই কোম্পানি পৃথিবীর যে দেশেরই হোক না কেন।

এ ছাড়াও ওই আইনে মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য চীনের বিশেষ বিশেষ কিছু ফ্যাক্টরিতে “চিপ উন্নয়ন বা উৎপাদনে” সহায়তা দেয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এটি চীনের ওপর এক বড় আঘাত – কারণ তারা তাদের সদ্য শুরু হওয়া চিপ-উৎপাদন শিল্পের জন্য হার্ডওয়্যার এবং প্রযুক্তিবিদ – দুটিই নিয়ে যাচ্ছে।

এর ফলে নেদারল্যান্ডসের একটি কোম্পানি এএসএমএল – চীন থেকে যে রাজস্ব আয় করতো তার প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারাতে যাচ্ছে। এটিই হচ্ছে একমাত্র কোম্পানি যারা সর্বাধুনিক লিথোগ্রাফিক মেশিন তৈরি করে – যেসব যন্ত্র ‘লিডিং এজ’ চিপ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রিভিয়াম চায়নার একজন বিশ্লেষক লিংহাও বাও বলছেন, “এ ক্ষেত্রে প্রতিভাবান লোকের গুরুত্ব অপরিসীম। আপনি যদি চীনের সেমিকন্ডাকটর কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের দিকে তাকান, দেখবেন তাদের অনেকেই আমেরিকান পাসপোর্টধারী। তাদের অনেকে আমেরিকায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তাদের গ্রিনকার্ড আছে। কাজেই চীনের জন্য এখন এক বিরাট সমস্যা তৈরি হয়েছে।“

তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এখন আরো বেশি চিপ তৈরি করতে চায়। “চিপস এ্যান্ড সায়েন্স” আইনে যুক্তরাষ্ট্রে যেসব কোম্পানি সেমিকন্ডাকটর তৈরি করছে তাদেরকে ৫,৩০০ কোটি ডলার ঋণ ও ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। অনেক বড় বড় কোম্পানি এর সুবিধা নিচ্ছে।

তাইওয়ানের টিএসএমসি যুক্তরাষ্ট্রে দুটি প্ল্যান্ট তৈরির জন্য ৪০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে – যা তাদের নিজ দেশের বাইরে একমাত্র কারখানা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সবচেয়ে বড় মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মাইক্রন। তাদের তৈরি চিপ সুপারকম্পিউটার, সামরিক হার্ডওয়্যার এবং প্রসেসর আছে এমন যে কোন যন্ত্রের জন্য অতি জরুরী।

তারা সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে নিউইয়র্ক রাজ্যে তারা আগামী ২০ বছরে চিপ তৈরির কারখানা নির্মাণের জন্য প্রায় ১০,০০০ কোটি ডলার খরচ করবে।

মাইক্রন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন সঞ্জয় মেহরোত্রা। তিনি বলছেন, চিপ তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় খরচের ক্ষেত্রে যে ব্যবধান তা কমিয়ে আনতে এই আইনটি ভূমিকা রাখছে।

এ ক্ষেত্রে চীন কী করতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধগুলো চীনের স্বার্থে বড় আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে যে এ্যাপল কোম্পানি এসব বিধিনিষেধের কারণে চীনের অন্যতম সফল চিপ উৎপাদনকারী কোম্পানি ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিস কর্পোরেশন (ওয়াইএমটিসি)-র কাছ থেকে চিপ কেনার এক চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে।

মি. বাও বলছেন, হুয়াওয়ের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় এক্ষেত্রে কী ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। হুয়াওয়ে কোম্পানিটি একসময় স্যমসাং-এর পর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা হয়ে উঠছিল কিন্তু এখন তারা ‘কার্যত মৃত’ – বলছেন মি. বাও।

“এতে বোঝা যায়, ওয়াশিংটনের জন্য একটি চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিকে পঙ্গু করে দেয়া কত সহজ। চীনের হাতে এর জবাব দেবার খুব ভালো কোন উপায় আসলে নেই। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিকে টার্গেট করছিল কিন্তু এখন পুরো দেশটিকেই এর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। “

প্রশ্ন হচ্ছে যে এর জবাবে চীন কী করতে পারে-

চীনের অর্থনীতি এখন গুরুতর মন্দার সম্মুখীন। এ অবস্থায় পণ্য বা সেবা প্রত্যাহার করা বা নিজেদের রপ্তানিতে কোন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে তা ভালোর পরিবর্তে খারাপ ফল নিয়ে আসতে পারে।

এ ব্যাপারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে অভিযোগও করেছে চীন। কিন্তু এর নিষ্পত্তি হতে অনেক বছর লাগতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্যে চীন তার অভ্যন্তরীণ চিপ-উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ ও সহায়তা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেবে।

অক্টোবর মাসে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২০ তম কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ আভাসই দিয়েছেন।

তিনি এসময় ‘জাতীয় কৌশলগত প্রয়োজনগুলোর দিকে মনোনিবেশ করা’, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নিজস্ব গবেষণা জোরদার করা’ এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রযুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে লড়াইয়ে জয়লাভ করার’ কথা উল্লেখ করেছেন।

এর পর কী হতে যাচ্ছে?

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝিমিয়ে পড়া, মুদ্রাস্ফীতি এবং কোভিড-বিধিনিষেধ থেকে চীনের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে উন্মুক্ত হওয়া – এগুলোই হচ্ছে চিপ শিল্পের সামনে স্বল্পমেয়াদী চ্যালেঞ্জ। চীন এ জন্য সাবধানে সামনের দিকে এগুতে চাইবে।

মি. মিলার বলছেন, চিপের ক্ষেত্রে শুধু উচ্চতম প্রযুক্তির স্তরেই দেখা যাবে যে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে উদ্ভাবনের নেটওয়ার্কগুলোর বাইরে রাখার চেষ্টা করছে। তা ছাড়া চীন চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবমুক্ত একটি নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।

মি. মিলার বলছেন, এর ফলে একদিকে চীন, অন্যদিকে বাকি বিশ্ব – এরকম একটা বিভক্তি দেখা দিতে পারে।

সেক্ষেত্রে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে ব্যাপক। অনেক কোম্পানিকে হয়তো কোন একটা পক্ষ নিতে হবে, অনেকে হয়তো চীনের বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

বাউফলের সেই লাল মিয়ার পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

Avatar photo

Published

on

মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন। সংবাদ প্রকাশের পর বাউফলের সেই হতদরিদ্র লাল মিয়া হাওলাদারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

শনিবার দুপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সরজমিনে উপজেলার কালিশুরি ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা অসহায় দরিদ্র লাল মিয়া হাওলাদারের বাড়িতে যান। এসময় তিনি লাল মিয়াকে শীতবস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং তাকে সরকারি ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এরআগে গত শুক্রবার বাংলাদেশেরপত্র অনলাইনসহ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় ‘আসমানী কবিতার রহিমদ্দির ঘরকেও হার মানায় বাউফলের লাল মিয়ার ঘর’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন সরেজমিনে নিজের চোখে সবকিছু দেখে দরিদ্র লাল মিয়াকে কম্বলসহ তার নিজের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন। লাল মিয়াকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নিয়ে আসাসহ ঘর তৈরি করার জন্য আরও আর্থিক সাহায্য প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন লাল মিয়া।

এদিকে অর্থিক সহায়তা ও ঘর পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানান লাল মিয়া।

 

আসমানী কবিতার রহিমদ্দির ঘরকেও হার মানায় বাউফলের লাল মিয়ার ঘর

 

 

Continue Reading

Highlights

হেফাজত ও সরকার পরস্পরকে নিয়ে ‘স্বস্তিতে’ থাকার উপায় খুঁজছে

Avatar photo

Published

on

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকারের সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার ও আটক নেতাদের মুক্তির বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। তবে সংগঠনটির নেতা মামুনুল হকের বিষয়ে সরকারের দিক থেকে এখনো তীব্র আপত্তি আছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে রাজনীতিতে না জড়ানোর বিষয়ে সংগঠনটি সরকারকে ‘মুচলেকা’ দিয়েছে।যদিও সংগঠনটির মহাসচিব সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছেন তারা সরকারকে কোনো বিষয়ে কোনো ‘মুচলেকা’ দেননি।

তবে গত মাসে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের পর এর সংগঠনটির যেসব নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আটক আছে তাদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর আশা করছে সংগঠনটি। একে হেফাজতের প্রতি সরকারের নমনীয় মনোভাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই গণমাধ্যমের খবর এসেছে যে নেতা কর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের শর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে ‘বিব্রত না করার অঙ্গীকার’ করেছে সংগঠনটির নেতারা।

অন্যদিকে সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ ‘ঠিকঠাক’ করার অংশ হিসেবে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোকেও নিজেদের দিকে টানা বা রাখার কৌশল হিসেবেই হেফাজতের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বিবিসি বাংলাকে বলেছে তারা সরকারকে কোনো বিষয়ে মুচলেকা দেননি তবে রাজনীতিতে না জড়ানোর বিষয়ে হেফাজতের আগের সিদ্ধান্তই বহাল আছে যে সংগঠনটি দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বলছেন আগে ভুল করে হেফাজত ‘বিএনপির ফাঁদে পা’ দিয়েছিলো এবং পরে সেই ভুল তারা বুঝতে পেরেছে।

আর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলছেন যে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সবার কথা শুনেন এবং হেফাজতে ইসলামের নেতাদের কথাও শুনেছেন।

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে এক সমাবেশের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলো হেফাজতে ইসলাম। এরপর সংগঠনটি কোনো কোনো ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের বিপক্ষে গেলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের সাথে আলোচনায় এসে বিভিন্ন দাবি আদায় করেছে।

তবে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে সংগঠনটির একজন নেতা মামুনুল হকের ভূমিকা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো। পরে তিনি ভিন্ন অভিযোগে আটক হয়ে এখন জেলে। অন্যদিকে আরও কিছু ঘটনায় মামলার আসামি হয়ে আটক হয়েছেন এর কমপক্ষে পনের জন নেতা।

আড়াইশর বেশি মামলাও আছে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হেফাজত ইসলামের নেতারা বহুবার এসব মামলা তুলে নিয়ে আটক নেতাদের মুক্তির আর্জি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

এমনকি সরকারকে বিব্রত না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু তারপরেও সুনির্দিষ্ট কয়েকজন নেতা ও তাদের মামলার বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাবে পরিবর্তন আসছিলো না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে যে ধারনা পাওয়া গেছে সেটি হলো নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের বিভিন্ন দাবিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

সে কারণেই বিএনপি ও জামাতসহ তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলো ব্যতিরেকে বাকীদের হয় আওয়ামী লীগের দিকে নিয়ে আসা নয়তো নিরপেক্ষ ভূমিকায় দেখতে চাইছে সরকার।

যেহেতু হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতা আছেন এবং তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে অনেকে মনে করেন সেই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে আগেই নিশ্চয়তা চায় সরকার যে সংগঠনটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহৃত হবে না।

ইতোমধ্যে সংগঠনটির দাবি মেনে সরকার এবারো বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সা’দ কান্দালভীকে আসার অনুমতি দেয়নি। আবার তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী মুক্তিও পেয়েছেন, যারা বিভিন্ন অভিযোগে আটক হয়ে জেলে ছিলেন।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বলছেন তারা গত সতেরই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে নেতাদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার সহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন।

“আমরা দাবিগুলো তুলেছি। মামলাগুলো নিয়ে কাজ চলছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আবারো কথা হবে। কিন্তু আমরা কোথাও কোনো মুচলেকা দেইনি। মুচলেকা দেয়ার তো কিছু নেই কারণ হেফাজতে ইসলাম তো রাজনৈতিক দল না। এখানে যারা রাজনৈতিক নেতা তাদের নিজস্ব আলাদা দল আছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মূলত ওই বৈঠকের পর থেকেই সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সমঝোতা ও রাজনৈতিক কোনো ইস্যুতে না জড়ানোর বিষয়ে মুচলেকা দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও সংগঠনটির একটি সূত্র জানিয়েছে হেফাজত নেতাদের মধ্যে মামুনুল হকের বিষয়ে সরকারের তীব্র আপত্তি আছে কারণ তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ করার নামে সরকার বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছে বলে সরকার মনে করছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হেফাজত নেতাদের বৈঠকগুলোতেও মিস্টার হকের বিষয়ে কোনো ছাড় না দেয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিলো।

এ কারণেই এখন সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে এর কোনো নেতা সরকার বিরোধী প্রচারণা বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হেফাজতকে ব্যবহার করবে না।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বিবিসি বাংলাকে বলছেন অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলাম তাদের পরিমণ্ডলে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক এবং তারা তাদের যৌক্তিক দাবী দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলে সরকার সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নিতেই পারে।

তাছাড়া সামনে নির্বাচন আসছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনি নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলছে। সে কারণে নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো যেন বিরোধীদের দিকে হেলে না পড়ে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও মনে করেন অনেকে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলছেন সামনে নির্বাচনে সব দল নির্বাচনে আসবে এবং সরকার সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

পাশাপাশি অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোও প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলছেন এবং হেফাজতসহ যে কারও আইনসিদ্ধ প্রস্তাবগুলোর প্রতি সরকার সবসময়ই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে।

তবে হেফাজতে ইসলামিতে বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় ছিলেন এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে গত প্রায় দু বছর ধরেই সংগঠনটি সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে। বিশেষ করে এর সাবেক আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর সংগঠনটির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ শক্ত হয় বলে এর নেতাদের অনেকে বলেছেন।

এখন নির্বাচনের বছরে এসে সরকার ও হেফাজতে ইসলাম- উভয়েই নিজেদের মধ্যকার বিরোধের জায়গাগুলো নিষ্পত্তি করে আরও স্বস্তিতে থাকতে চাইছে বলে মনে করছেন তাদের কেউ কেউ।

হেফাজত নেতা মীর ইদ্রিস বলছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর চলতি মাসের মাঝামাঝি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আবারো বৈঠক করেছেন তারা।

“মামলাগুলোর বিষয়ে তথ্য আমরা সংগ্রহ করছি। এরপর আবার আলোচনা হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

-বিবিসি বাংলা

Continue Reading

Highlights

২০২২ সালে ৫৩২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

Avatar photo

Published

on

সারাদেশে ২০২২ সালে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৫৩২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের এই সমীক্ষার তথ্য বলছে, আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৪০ জন বা ৬৪ শতাংশই স্কুল পর্যায়ের।

এছাড়া কলেজ পর্যায়ে ১০৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। সমমান প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী রয়েছেন ৫৪ জন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৮৬ জন শিক্ষার্থী এই এক বছর আত্মাহুতি দিয়েছেন বলে উঠে এসেছে আঁচলের সমীক্ষায়।

শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা: সমাধান কোন পথে?’ শীর্ষক এই সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

আঁচল ফাউন্ডেশনের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইউনিটের টিম লিডার ফারজানা আক্তার লাবনী জানান, দেশের দেড় শতাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল থেকে শিক্ষার্থীদের আত্মহননের তথ্য নেওয়া হয়েছে তাদের এই সমীক্ষায়।

আত্মহত্যায় শীর্ষে ঢাকা-

দেশের আট বিভাগে আত্মহত্যা করা স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, যা মোট আত্মহত্যার প্রায় ২৩.৭৭ শতাংশ।

আত্মহত্যায় এগিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা –

আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন বলছে, আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

আত্মহত্যা করা স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৩.৯০ শতাংশ, অর্থাৎ ২৮৫ জনই মেয়ে; বাকি ১৬১ জন, অর্থাৎ ৩৬.১ শতাংশ ছেলে।

বয়ঃসন্ধিকালে ঝুঁকি বেশি-

সমীক্ষায় পাওয়া তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

২০২২ সালে যে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছে, তাদের মধ্যে ৪০৫ জন বা ৭৬.১২ শতাংশই টিন এজার। তাদের মধ্যে ৬৫.৯৩ শতাংশ মেয়ে; ৩৪.০৭ শতাংশ ছেলে।

আবার আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের ৪৩ জন বা ৮.০৮ শতাংশের বয়স ছিল ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৪৬.৫২ শতাংশ মেয়ে। আর ছেলেদের সংখ্যা তার চেয়েও বেশি, ৫৩.৪৮ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সাথে শিক্ষার্থীদের মানিয়ে নিতে প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়, সে কারণে ওই বয়সে আত্মহত্যার হার বেশি।

আত্মহত্যার কারণ-

আঁচলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মহত্যাকারী স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের তথ্যে জীবদ্দশায় তাদের নানা ধরের জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার বিষয় এসেছে। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী এ পথ বেছে নিয়েছে ‘মান-অভিমান’ থেকে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি।

তবে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে আরো বেশ কিছু বিষয় এসেছে প্রতিবেদনে।

আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় ৪ জন, শিক্ষকের হাতে ‘অপমানিত’ হয়ে ৬ জন, গেইম খেলতে বাধা দেয়ায় ৭ জন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ২৭ জন, মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় ১০ জন, মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় ৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে তথ্য এসেছে সমীক্ষায়।

আশা জাগাচ্ছে সরকারি পদক্ষেপ-

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটনার আশা জাগছে। এর মধ্যে একটি হল মানসিক স্বাস্থ্য আইন প্রণয়ন। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ‘মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ফার্স্ট এইড (পার্ট-১)’ নামের একটি অনলাইন প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি-২০২২ এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। প্রত্যেক জেলায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জন্য একজন করে মনোবিদ নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। ২০২৩ সালে ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ বইটিতে মনের যত্ন নেওয়ার একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মকে মানসিকভাবে তৈরি হতে সহায়তা করতে পারে।

আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, শিশু কিশোরদের মন হয় ‘ভঙ্গুর প্রকৃতির’। এ বয়সে ছোট ছোট বিষয়গুলোও তাদের আন্দোলিত করে। বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক বিকাশের সাথে অনেকেই খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে প্রত্যাশার ক্ষেত্রে ছোটখাটো ঘাটতিও তাদের আত্মহত্যার মত বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

“আত্মহত্যা প্রতিরোধে আমাদের শিক্ষক এবং বাবা মায়েদের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুকালে বাচ্চাদের উপর বাবা মায়ের প্রভাব যেমন বেশি থাকে, কৈশোরে সেই দায়িত্ব বর্তায় শিক্ষকদের উপর। তাই শিক্ষার্থীদের মানসিক গঠনে তাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যও বেশি।

তিনি বলেন, স্কুল ও কলেজ শিক্ষকরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো শুনে মেন্টরের ভূমিকা পালন করতে পারেন।

“আমাদের মনে রাখতে হবে, এই বয়সে একজন শিক্ষার্থীর সঠিক পরামর্শ পাওয়ার জায়গা অপ্রতুল।”

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শাহরিনা ফেরদৌস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০২২ সালের এই জরিপে দেখা যাচ্ছে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা অনেক বেশি।

“এ সময়ে কিশোর কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং সচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। রোগী দেখার সময় আমি দেখেছি, কোভিড-১৯ এর একটি বড় প্রভাব পড়েছে আমাদের কিশোর বয়সীদের ওপর, যা কাটিয়ে উঠতে এখনো আরো সময়ের প্রয়োজন।

“সর্বোপরি বয়সন্ধিকালীন মনের যত্ন বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ ভীষণ প্রয়োজন। স্ক্রিন বা মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারিবারিক বন্ধন, পরিবারের সাথে ভালো সময় কাটানোর চর্চা বাড়াতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই আত্মবিশ্বাসী এবং সুস্থ মনন গড়ে তুলতে এই পদক্ষেপগুলো অনস্বীকার্য।”

আঁচলের প্রস্তাব-

১. হতাশা, একাকিত্ব ও নেতিবাচক ভাবনা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বৃদ্ধি করা।

২. সন্তানদের মানসিক বিকাশ এবং তাদেরকে সহানুভূতির সাথে শুনতে ও বুঝতে অভিভাবকদের জন্য প্যারেন্টিং কার্যক্রম চালু করা।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষক-কর্মচারীদের আচরণ ও পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ণে কৌশলী ও সহানুভূতিশীল হতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৪. স্কুল, কলেজ পর্যায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধী পোস্টার প্রদর্শন করা।

৫. প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবারের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে ও দায় বৃদ্ধিতে তাদের আইনি বাধ্যবাধকতার অন্তর্ভুক্ত করা।

৬. স্কুল-কলেজের ছাত্রকল্যাণ ফান্ডের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে তা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যা সমাধান অনেকাংশে সম্ভব। এতে আর্থিক সংকটজনিত আত্মহত্যার হার কমে আসবে।

৭. প্রেম-প্রণয় ঘটিত সম্পর্কে বা অজ্ঞাতসারে ধারণ করা গোপন ছবি, ভিডিও ইত্যাদি প্রচার তথা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ ও সাইবার ক্রাইমের বিষয়ে শাস্তি উল্লেখপূর্বক বিশেষ প্রচারণাভিযান পরিচালনা করা।

৮. স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যা সতর্কতা চিহ্ন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। এর মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য আত্মহত্যাকারীকে বাঁচানো যাবে।

৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেন্টাল হেলথ কর্নার খোলা। শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তির আওতায় এনে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ট্রেনিং দেওয়া।

১০. কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য ক্লিনিক্যাল সুবিধার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

১১. শিক্ষার্থীদের আবেগ-অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল ও ধৈর্য্যশীলতার পাঠ শেখানো ।
সংবাদ সম্মেলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, আঁচল ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামিরা আক্তার সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদসূত্র :  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Continue Reading