ট্রাইব্যুনালে আরো দুই মামলা রায় ঘোষণার অপেক্ষায়
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে আরো দুই মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখা হয়েছে। এছাড়াও দু’টি মামলায় চার আসামির বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত পৃথক দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ১৭ মামলায় ১৮ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার পলাতক সৈয়দ মোঃ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর বিরুদ্ধে মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল গত ২০ এপ্রিল এ আদেশ দেয়। এটি হলো ট্রাইব্যুনালে ১৮ তম মামলা যা রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই রাজাকার মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শেষে গত ২২ এপ্রিল রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখা হয়েছে। এটি ট্রাইব্যুনালে ১৯ তম মামলা যা রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছল।
এর আগে পৃথক দুটি ট্রাইব্যুনালে আরো ১৭ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ এ ৮টি ও ট্রাইব্যুনাল-২ এ ৯টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। পৃথক দুই ট্রাইব্যুনালে এখন আরো দুই মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হলো।
আরো দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একটি মামলায় রয়েছেন তিনজন আসামি। আসামিরা হলেন- বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ ও খান আকরাম হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে। অপর একটি মামলায় আসামি পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিকের বিষয়ে আইও’র জেরা চলছে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক বাসস’কে জানান, আরো ২১ মামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, একটি মামলায় জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেন, একটি মামলায় হবিগঞ্জ জেলার খাগাউড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহিবুর রহমান ওরফে বড়মিয়া ও তার ছোটভাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। অপর একটি মামলায় জামালপুরের এডভোকেট শামসুল আলম, জামালপুর জেলা জামায়াত নেতা এম ইউসুফ আলীসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল শেষে আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। এ চার্জ আমলে নেয়া বিষয়ে ২৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়ার দিন ধার্য রয়েছে।
এদিকে ট্রাইব্যুনালে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ৩টি আপিল মামলা নিস্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে আপিলের রায় ও এ রায়ের বিষয়ে রিভিউতে আসামির মৃত্যুদন্ড বহাল থাকায় দুই আসামি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। দলটির অপর নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদন্ড দিলেও আপিলে তাকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আনা পৃথক আপিলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২৮ এপ্রিল দিন ধার্য রয়েছে।