Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

নবাবগঞ্জে সিধু কানু হুল দিবস পালিত

Nobabgonj 30-06-2016
সিধু কানু দিবস উপলক্ষ্যে তিনজন বীরমুক্তি যোদ্ধাকে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দীকি ও ব্রাক সমন্বিত প্রকল্পের ম্যানেজার মি. নির্মল কেরকেটা।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ১৬১ তম সিধু কানু হুল দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা ব্রাক সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি- ইনডেজিনাস প্রকল্পের আয়োজনে দিবসটি পালনে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। সকাল ৯টায় র‌্যালী ও মানববন্ধন, ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও উপজেলার ৩ জন আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবি উরাও, শ্রী অর্জুন উরাও, শ্রীমতি বিন্দু রানী কে সম্মাননা প্রদান, পুরস্কার বিতরণী শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য শেষে সম্মাননা তুলে দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই প্রকল্পের দিনাজপুর জেলা ম্যানেজার নির্মল কেরকেটা। এদিকে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালনে দাউদপুর সিসিডিবি সিবিপিপি আয়োজনে উপজেলার ৩নং গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের জাহানপুর স্কুল মাঠে প্রথমে ৩ শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ সিধু কানু স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন শ্রেণির আদিবাসী সমাবেত হয়ে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।
পরে এক আলোচনা সভা গোপিনাথ মূর্মূর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিসিডিবি সিবিপিপি এরিয়া ম্যানেজার মি. ইভান পরাগ সরকার, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম রুহুল আমিন প্রধান, দৈনিক প্রথম আলোর বিরামপুর প্রতিনিধি এস এম আলমগীর, জাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আদিবাসী নেতা মোহন হাঁসদা, সিসিডিবি কর্মসূচি কর্মকর্তা পাত্রাশ মূর্মু, আদিবাসী যুবনেতা সুনীল সরেন, উদযাপন কমিটির সভাপতি সাগর টুডু, মি. নিকোলাস বার্ড়ে প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ৩০শে জুন সাঁওতাল বিদ্রোহ ও হুল দিবস। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে একটি বিশেষ ও উজ্জল দিন। সুদখোর ও দাদন ব্যবসায়ীদের শোষণ, অত্যাচার এবং পুলিশ-দারোগার নির্যাতনে অতিষ্ঠ সাঁওতাল জনগণের মুক্তির পথ খুজতে ১৮৫৫ সালের এই দিনে সিধু মূর্মূ, কানহু মূর্মূ তাদের নিজ গ্রাম ভগনাডিহিতে এক সমাবেশের ডাক দিয়েছিলো। সে সময় সুদখোর ও দাদন ব্যবসায়ীদের শোষণ ও ঠকবাজিতে সাঁওতাল জনগণ নি:স্ব হয়ে পড়েছিল। ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রতিকার চাইলেও উল্টো অত্যাচার খড়গ নেমে আসে।
সে সময় সিধু কানহুর আপন দুই ভাই চান্দো ও ভারয়ো মূর্মূ এবং বিদ্রোহী লড়াকু প্রতিবাদি দুই বোন ফুলো মূর্মূ, ঝানো মুরমু, সিধু কানহু, চান্দ ভারয়ো চার ভাই সাঁওতাল সমাজের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি আমগাছের ডাল কাধে নিয়ে দামিন-ই-কোহ এলাকার ৪ শতাধিক সাঁওতাল গ্রাম গণ সমাবেশের প্রচার করার প্রেক্ষিতে ৩০শে জুন ৫০ হাজার সাঁওতাল জমায়েত হয়ে শোষণ, নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। আজকের এই দিনে সকল আদিবাসী নারী-পুরুষ সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণে ডাক দেওয়া হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.