Connect with us

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে আবার সামরিক শাসন আসার আশঙ্কা

Avatar photo

Published

on

urlপাকিস্তানের সেনাশাসনের পদধ্বনি আবারো সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দেশটিতে সেনাশাসন স্রেফ সময়ের ব্যাপার।  বিশেষ করে শুক্রবার পাকিস্তানের পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করলেন ইমরান খানের রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সাংসদরা।  শুক্রবার স্পিকারের কার্যালয়ে ইমরানসহ ৩৪ জন আইন প্রণেতার পক্ষ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন দলটির নেতা শাহ মাহমুদ কোরেশি, আরিফ আলভি ও শিরিন মাজারি। আর এ রাজনৈতিক অচলাবস্থার সুযোগে দেশটিতে সামরিক শাসন আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর দলটির নেতা মুরাদ সাঈদ বলেন, ‘আমরা আগেই আমাদের চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছি। এবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যত্ কর্মসূচি খুব পরিষ্কার। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনে কারচুপির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।’

পার্লামেন্ট বা জাতীয় আইন পরিষদ ছাড়াও পাখতুনখাওয়া বাদে অন্য সব প্রাদেশিক পরিষদ থেকেও পিটিআইর সদস্যরা পদত্যাগ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। পাখতুনখাওয়া প্রদেশে তেহরিক-ই-ইনসাফ সরকার গঠন করেছে।

এদিকে পিটিআইয়ের সংসদ সদস্যদের পদত্যাগপত্র পার্লামেন্টে গৃহীত হবে কি না, এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব কানওয়ার দিলশাদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরই তাদের সংসদ সদস্যপদ রহিত হয়ে যাওয়ার কথা।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সামনেই যেহেতু তারা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, তাই তা গৃহীত না হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে পাকিস্তানের রাজধানীর ইসলামাবাদে তেহরিকে ইনসাফ বা পিটিআই’র সরকার-বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।  একই অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক বা পিএটি। তবে, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে দু দলের প্রধান ইমরান খান ও ড. তাহিরুল কাদরি।

সরকারের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করার একদিন পর আবার তারা আলোচনার টেবিলে ফিরতে রাজি হলেন। বৈঠকের বিষয়ে পিটিআই দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইমরান খান।

বৈঠক শেষে দলের সিনিয়র নেতা শাহ মেহমুদ কোরেশি জানান, তার দল নওয়াজ শরিফের নেৃতত্বাধীন মুসলিম লিগ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে। এ কারণে আজ শনিবার থেকে আলোচনা প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে।

তিনি জানান, শুক্রবার পিটিআই প্রতিনিধিদল তাদের ছয়দফা দাবি তুলে ধরেছে সরকারের কাছে এবং শনিবার আবার বৈঠকে বসবে।

তাদের দাবির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগই এখন প্রথম দাবিতে পরিণত হয়েছে। একই দাবি করেছে তাহিরুল কাদরির নেতৃত্বাধীন পিএটি। দল দু টি দাবি করছে, নওয়াজের পদত্যাগের পর নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।

এর আগে,  ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পিটিআই’র সংসদ সদস্যরা জাতীয় পরিষদে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।  তবে, তা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা কিংবা পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর এর ফলাফল কি হবে তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধান বিরোধীদল পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপি নেতা আসিফ আলি জারদারিকে নওয়াজ শরিফের বাসায় দাওয়াত দেয়া হয়েছে। আজ দুপুরে সাবেক এ প্রেসিডেন্ট নওয়াজ শরিফের রাইউন্ডের বাসভবনে যাবেন এবং সন্ধ্যায় আবার করাচি ফিরবেন। তার সঙ্গে থাকবেন খুরশিদ আহমেদ শাহ, আইতাজ আহমেদ এবং রাজা রব্বানি।

জারদারির মুখপাত্র ফরহাতউল্লাহ বাবর জানান, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নিজেই টেলিফোন করে পিপিপি নেতাকে দাওয়াত দেন এবং আসিফ আলি জারদারি তা গ্রহণ করেন।

সামরিক শাসনের পদধ্বনি
পাকিস্তানের ৬৭ বছরের ইতিহাসে ৩২ বছরই সরাসরি শাসন করেছে সেনাবাহিনী। আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, জিয়াউল হক ছাড়াও এই তালিকার সর্বশেষ শাসক হচ্ছেন পারভেজ মোশাররফ।  ক্ষমতা দখল করলে কিছুই হয় না— বিশ্বের কাছে যেন এ উদাহরণ তৈরি করছিল পাকিস্তান। তবে চলতি মেয়াদে ক্ষমতায় এসে নওয়াজ শরিফ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের দায়ে কাঠগড়ায় তুলেছেন পারভেজ মোশাররফকে।

ধারণা করা হয়েছিল, এবার বুঝি ছেদ পড়ল সেই সেনাশাসনের ধারাবাহিকতায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশাও যেন নিভু নিভু।

১৯৯৯ সালে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে নওয়াজকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন পারভেজ মোশাররফ। ২০০১ সালে ক্ষমতায় থেকে দল করে নির্বাচন দেন পারভেজ মোশাররফ।

কারচুপির সেই নির্বাচনে জিতেও আসেন তিনি। মোশারফের আধা সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত।
২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর চিফ অব আর্মি স্টাফের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তারই উত্তরসূরি জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

পরে নির্বাচনে ক্ষমতায় ফেরে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। পিপিপি তার নির্ধারিত সময় কোনো মতে পার করলেও বারবার সংবাদের শিরোনাম হয় সেনাবাহিনী। ২০১৩ সালের নির্বাচনে পিপিপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ।

প্রায় দেড় বছর মোটামুটি শান্তই ছিল পাকিস্তানের পরিস্থিতি। নির্বাচনের পর থেকেই নওয়াজ সরকারের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ আনলে, তা তেমন যুতসই ছিল না। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং ধর্মীয় নেতা তাহিরুল কাদরির পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক (পিএটি)।

পাকিস্তানে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংকট সমাধানে সব পক্ষকে আলোচনায় বসার জন্য চাপ দিচ্ছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এদিকে নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ না করলে তার বাসভবন দখলের হুমকি দিয়েছেন ইমরান খান।

২০১৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত দেশটির সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তা বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খান।

নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে ইমরান খানের ‘আজাদি মার্চ’ আর তাহির উল-কাদরির ‘ইনকিলাব মার্চের’ কারণে পাকিস্তানে গভীর রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।  বিষয়টি নিয়ে পরামর্শের জন্য সেনাপ্রধান জেনারেল রাহেল শরিফের কাছে দূত পর্যন্ত পাঠান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ। আর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজকে আশ্বস্ত করা হয়েছে; কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইলে তাকে সামরিক বাহিনীর জন্য ‘ছাড়’ দিতে হবে।

আর সামরিক বাহিনীর জন্য ‘কিছু ছাড় দেয়ার’ মানে হলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত নীতিতে জেনারেলদের কর্তৃত্ব বেড়ে যাওয়া। যার অর্থ দাঁড়ায়, আবারও চালকের আসনে আসীন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

নাক গলাবে না যুক্তরাষ্ট্র: পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশটির অভ্যন্তরীণ ইস্যু। আর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মেরি হার্ফ শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পাকিস্তানে সরকার ও বিরোধী এই দুপক্ষের মধ্যে যেকোনো আলোচনায় বা আলোচনা প্রক্রিয়ায় আমরা জড়িত নই। এমনকি দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করাও অর্থহীন।’

এমনকি চলমান সংকট শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং দেশটির নির্বাচিত সরকারের ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়বে না বলে আশা করেন মেরি হার্ফ।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামাবাদ এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মেরি হার্ফ বলেন, ‘পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি বেশ কয়েকবার দেশটির শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ওই সময়ে পাকিস্তানের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে আমি আশা করছি।’

মাত্র একদিন আগে দেয়া বক্তৃতায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘পাকিস্তানের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

‘দাবি অসাংবিধানিক’
পিটিআই ও পিএটি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের যে দাবি তুলেছে, তাকে অসাংবিধানিক অভিহিত করে বৃহস্পতিবার একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতীয় পরিষদ। মুহাম্মদ খান আচাকজাইয়ের উত্থাপন করা ওই প্রস্তাব সর্বসম্মতিতে পাস হয়।

চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে শুক্রবার জাতীয় পরিষদে ভাষন দেয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের; কিন্তু তা স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আজাদি মার্চে পেছনের শক্তি
প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবি কেন্দ্র করে পাকিস্তানে কয়েক দিন ধরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে হটাতে গত ১৪ আগস্ট লাহোর থেকে শুরু করেন আজাদি মার্চ।

সেই দাবি আদায়ে রাজধানী ইসলামাবাদে ঘাঁটি গেড়ে বসেছেন পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা। নওয়াজ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

ইসলামাবাদের সুরক্ষিত রেড জোনেও তারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। একই দাবিতে পৃথকভাবে ‘ইনকিলাব মার্চ’ চালিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তান আওয়ামি তেহরিকের (পিএটি) নেতা তাহির উল-কাদরি।

নওয়াজকে হটাতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ইমরান। ডাক দিয়েছেন অসহযোগ আন্দোলনের। জাতীয় পরিষদ ও তিনটি প্রাদেশিক পরিষদ থেকেও তার দলের নেতারা পদত্যাগ করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানে রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে রাজনীতিকরা ছাড়া আরও কিছু নিয়ামক আছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগ।

নওয়াজের ভাগ্য নির্ধারণে ইমরানের আজাদি মার্চের চেয়েও এই দুই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকে।

অন্য রাজনীতিকদের অবস্থান
সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয়া ইমরান সহযোগী হিসেবে পাকিস্তানের তাহির উল-কাদরির দল পাকিস্তান আওয়ামি তেহরিক (পিএটি) ছাড়া উল্লেখ করার মতো আর কাউকে পাননি। এ কারণে সমমনা বলে পরিচিত পিএমএল-কিউ (চৌধুরী সুজাত), আওয়ামী মুসলিম লিগ (শেখ রশিদ), মজলিশ ওয়াহদাতুল মুসলিমিন (রাজা নাসির আব্বাস) ও সুন্নি ইত্তেহাদের (সাহেবজাদা হামিদ রাজা) মতো দলগুলোও ইমরানের সাফল্য নিয়ে সন্দিহান।

এদিকে প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) নওয়াজের পদত্যাগের দাবির সঙ্গে একমত নয়। বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় পরিষদে পিপিপির সংসদীয় দলের নেতা সৈয়দ খুরশিদ আহমেদ শাহ। আর পিপিপির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্রে অসহযোগ আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। এর ফলে গণতন্ত্র ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।  জারদারি আলোচনার মাধ্যমে দাবিদাওয়ার মীমাংসা করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, পিপিপির এই অবস্থানের কারণ হলো জারদারির বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা দুর্নীতির মামলা। পিপিপি আন্দোলনে গেলেই সরকার মামলা সচল করবে। সেই ঝুঁকি নিতে চায় না দলটি।

সামরিক বাহিনীর ভূমিকা
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী যে কত বড় খেলোয়াড়, তা বোঝার জন্য দুটি তথ্যই যথেষ্ট। ১৯৪৭ সালে দেশটির জন্মের পর সেখানে এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ সময়ই ক্ষমতায় ছিলেন সরাসরি কোনো সামরিক শাসক কিংবা উর্দি ছেড়ে দিয়ে গণতন্ত্রকে ঢাল বানানো কোনো সামরিক নেতা।  আর দেশটির ৬৭ বছরের ইতিহাসে গত বছরই কেবল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে— ইমরান কি সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি করছেন? সামরিক বাহিনী কি পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে?  যদিও সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে সমঝোতার জন্য সরকার ও বিরোধী উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সামরিক বাহিনী যে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের ওপর আদৌ সন্তুষ্ট নয়, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফকে বিচারের মুখোমুখি করেছেন তিনি। এটা পছন্দ হয়নি উর্দিধারীদের।

পাকিস্তানি একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, হয় সামরিক বাহিনী নওয়াজকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ইমরানকে সাহস দিয়েছে, নয়তো নওয়াজের প্রতি সামরিক নেতাদের নাখোশ হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে ইমরান নিজেই সেই সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছেন। সূত্র: ডন, পিটিআই, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

সাবেক ইউরেনিয়ামের খনিতে বনায়নের উদ্যোগ

Avatar photo

Published

on

সাবেক ইউরেনিয়াম খনিতে পরিমাপের কাজ চলছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে এরিকা কোটে কিছু স্বেচ্ছাসেবী মানুষের সঙ্গে মিলে সেখানে প্রায় ২০০ অ্যাল্ডার, বার্চ এবং উইলো গাছ পোঁতেন।

মাটিতে হেভি মেটাল থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সেই কাজ করেন। গাছগুলি স্বাভাবিকভাবে বড় হলে কয়েক বছর পর সেগুলির কাঠ কেটে আগুন জ্বালানো যাবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে এমন মাটিতে সেটা আদৌ সম্ভব কিনা, সে বিষয়ে সংশয় ছিল। এরিকা কোটে জায়গাটিকে ঠিক মাটি বলতেই প্রস্তুত নন। তার মতে, বেড়ে ওঠা জমি একেবারে অন্যরকম দেখতে।

শাকসবজি বা ফল চাষের প্রশ্নই ওঠে না, যদিও ইউরেনিয়াম খনি বন্ধ হবার পর এই জমির সংস্কার করে সেখানে দূষণহীন মাটি ঢালা হয়েছে। ইয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক টর্স্টেন শেফারব বলেন, ‘‘যেমনটা দেখছেন, এই হ্রদকে ঘিরে উদ্ভিদ জগত শিকড় ছড়িয়েছে। অর্থাৎ গাছপালা এই অংশকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। আরও নীচের দিকে দেখলে বালুময় উপাদান পাওয়া যাবে। সর্বশেষ তুষার যুগে এই স্তর গড়ে উঠেছিল। এখানে প্রায় কোনো শিকড়ের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। এখানকার পিএইচ ভ্যালুও অত্যন্ত কম। মোটকথা গাছপালা এই এলাকা পছন্দ করে না।”

পিএইচ ভ্যালু কম হবার অর্থ জমিতে অম্ল রয়েছে। যে সব ধাতু সাধারণ অবস্থায় শক্ত থাকে, সেগুলি এখানে গলে গিয়ে জমির মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে যায়। এভাবে সেগুলি গাছপালার মধ্যেও প্রবেশ করে। টর্স্টেন শেফার বলেন, ‘‘সে কারণে আমরা আমাদের পরীক্ষার আওতায় এমন মাটির মিশ্রণ সৃষ্টি করি, যার মধ্যে সামান্য চুনও থাকে। চুন পিএইচ বাফার হিসেবে কাজ করে, যাতে গাছপালা বেড়ে ওঠার পরিবেশ শুধু আদর্শ নয়, বরং আরও উন্নত হতে পারে।”

অর্থাৎ জমি অম্লমুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু ইয়েনার গবেষকরা শুধু তাতেই সন্তুষ্ট নন। মাটি থেকে ধাতু আলাদা করতে তাঁরা সেই ধাতুকে আবার শক্ত করতে চান। ছত্রাক নাকি সেই কাজ করতে পারে। ইয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট এরিকা কোটে বলেন, ‘‘ছত্রাক প্রকৃতির মধ্যে এমনিতেই সিম্বায়োসিসের মাধ্যমে পানি ও ধাতব উপাদান গাছের মধ্যে টানে বলে সেটি কিছুটা ফিল্টার হিসেবেও কাজ করে। ছত্রাক যে উপাদান গাছে চালান করে না, গাছ তা গ্রহণও করে না। অর্থাৎ ছত্রাক না থাকলে গাছে আরও বেশি হেভি মেটাল প্রবেশ করতো।”

সেখানকার মাটিতে জীবাণুর কার্যকলাপ তরান্বিত করতে বিজ্ঞানীরা প্রতি বছর বিশেষ ধরনের মাইক্রোঅরগ্যানিজম যোগ করেন। এরিকা কোটে বলেন, ‘‘জঙ্গলে বিশেষ গাছের নীচে বিশেষ ছত্রাক থাকে। লার্চ বোলেটাস বা বার্চ মাশরুমের নাম শুনলেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়। লার্চ বা বার্চ গাছের কোলে সেগুলি পাওয়া যায়। অর্থাৎ আমাদের এমন ছত্রাকের সন্ধান করতে হবে, যেগুলি নির্দিষ্ট গাছের সঙ্গে সংলাপ চালাতে পারে।”

এখনো পর্যন্ত সাবেক ইউরেনিয়াম খনির জমিতে আল্ডার গাছ পুঁতে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে। বার্চ গাছ কিছুটা এবং তৃণভূমি সামান্য সাফল্য এনেছে। আগামী বছরগুলিতে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। সে কারণে গবেষকরা পরীক্ষার কাজ চালিয়ে যেতে চান। তবে জমিতে ব্যাকটিরিয়া ও ছত্রাক যোগ করে যে লাভ হয়, সে বিষয়ে তাঁদের মনে কোনো সংশয় নেই। এরিকা কোটে বলেন, ‘‘জমি ফেলে রাখলে সেখানে আবার ঘাস গজায়। প্রাকৃতিক ঘাসজমির মতো জীবাণু জগত সৃষ্টি হতে প্রায় ৪০ বছর সময় লাগে। অর্থাৎ আমরা এখানে জীবাণু যোগ করে কার্যত ৪০ বছর সময় বাঁচিয়ে দিচ্ছি। তাই নতুন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সেই জীবাণুর মানিয়ে নিতে সময় লাগছে না।”

তবে সেই এলাকার বিষমুক্ত ছত্রাকও খাবার যোগ্য নয়। কারণ মাটির হেভি মেটাল সেগুলিতে জমা হচ্ছে। একমাত্র পচে যাবার পরই সেই ধাতু আবার বেরিয়ে আসে। তবে সেই ধাতুর পরিমাণ এতই কম, যে গাছের কোনো ক্ষতি হয় না।

Continue Reading

Highlights

বুরকিনা ফাসোতে দুই হামলায় নিহত ২৮

Avatar photo

Published

on

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে দুটি হামলার ঘটনায় সেনা ও বেসামরিকসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। সশস্ত্র হামলাকারীরা রোববার ও সোমবার এসব হামলা চালিয়েছে বলে সোমবার পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী ও একজন আঞ্চলিক গভর্নর।

নিজেদের বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে নাইজার সীমান্তের কাছে ফালানগৌতৌতে সামরিক বাহিনীর একটি কমব্যাট ইউনিট ইউনিট হামলার মুখে পড়ে, এতে ১০ সেনা, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর দুই যোদ্ধা ও এক বেসামরিক নিহত হয়।

হামলার ঘটনা শেষ হওয়ার পর ঘটনাস্থলে ১৫ হামলাকারীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তারা। সোমবার পৃথক আরেক বিবৃতিতে বুরকিনা ফাসোর দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্যাসকেডস অঞ্চলের গভর্নর কর্নেল জ্য চার্লস দিত ইয়েনাপোনো সোম জানিয়েছেন, রোববার এক হামলার পর ১৫ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, নিহতরা সবাই বেসামরিক।

গভর্নর জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা দুটি যাত্রীবাহী গাড়ি থামায়, সেগুলোতে আটজন নারী ১৬ জন পুরুষ ছিলেন। নারীদের এবং শুধু একজন পুরুষকে মুক্তি দেওয়া হয়, বাকি সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। বিবৃতিতে গভর্নর সোম বলেছেন, “এই ৩০ জানুয়ারি নিহতদের মৃতদেহ লিঙ্গুয়েকোরো গ্রামের কাছে পাওয়া গেছে, তাদের শরীরে গুলির ক্ষত ছিল।”

পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের দেশ বুরকিনা ফাসো এবং এর প্রতিবেশী মালি ও নাইজার আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পর্কিত জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই করছে। জঙ্গিরা দেশটির অনুর্বর ও প্রধানত গ্রামীণ উত্তরাঞ্চলের বহু অঞ্চল দখল করে নিয়ে শত শত গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে। তাদের তাণ্ডবের কারণে ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জঙ্গিরা বহু গ্রাম ও শহর অবরুদ্ধ করে রেখেছে, এতে খাদ্য সংকট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।

Continue Reading

Highlights

পেশোয়ায় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৮৩

Avatar photo

Published

on

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের পুলিশ লাইনস এলাকার ভেতর একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে এক হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছেন।

সোমবারের ওই হামলায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, এদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

পাকিস্তান তালেবান নামে পরিচিত জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে ইসলামাবাদ সরকারের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নভেম্বরে শেষ হওয়ার পর থেকে দেশটিজুড়ে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো গোষ্ঠী পেশোয়ারের হামলার দায় স্বীকার না করলেও এর জন্য টিটিপিকেই সন্দেহ করা হচ্ছে।

টিটিপির এক কমান্ডার প্রাথমিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করলেও গোষ্ঠীটি পরে দাবি করেছে, এর সঙ্গে তারা জড়িত নয়।

সোমবার পেশোয়ারের অত্যন্ত সুরক্ষিত পুলিশ লাইনস এলাকার ভেতরে মসজিদটিতে জোহরের নামাজ চলার সময় এক আত্মঘাতী হামলাকারী বোমা বিস্ফোরণে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। মসজিদটিতে তখন প্রায় তিন থেকে চারশ লোক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের অনেকেই পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তা।

হামলাকারী কীভাবে এই এলাকায় প্রবেশ করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়েছে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান মুহাম্মদ ইজাজ খান বলেন, বোমা নিয়ে হামলাকারী কম্পাউন্ডের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানে পৌঁছে গেছেন।

“সেখানে নিরাপত্তায় গাফিলতি হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। আমরা বিস্ফোরকের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছি,”বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবারও মসজিদটির ধ্বংসাবশেষের নিজে চাপা পড়া লোকজনের খোঁজে অনুসন্ধান অব্যাহত ছিল। উদ্ধারকর্মীদের এক মুখপাত্র মোহাম্মদ বিলাল ফাইজি বিবিসি উর্দুকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ আরও তিন ঘণ্টা ধরে চলবে।

ফাইজি বলেন, “১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধারকাজ চলছে। আরও ২০ জনের মৃতদেহ ধ্বংসাবশেষ থেকে বের করা হয়েছে, এখনও কিছু মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

মসজিদটি পেশোয়ারের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকাগুলোর (রেড জোন) একটিতে অবস্থিত। এই এলাকায় প্রাদেশিক পুলিশের সদরদপ্তর, গোয়েন্দা সংস্থা ও সন্ত্রাস দমন বিভাগের কার্যালয় আছে।

এ হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘‘যারা পাকিস্তানের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সন্ত্রাসীরা দেশ জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে।”

‘হামলাকারীদের সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এক প্রত্যক্ষদর্শী পাকিস্তানের সংবাদ চ্যানেল জিও টিভিকে বলেছেন, “জোহরের নামাজ চলাকালে বিস্ফোরণটি ঘটে, এতে দোতলা মসজিদটি ভেঙে পড়েছে।”

বিস্ফোরণের সময় তিনি মসজিদের ঠিক সামনে ছিলেন বলে জানিয়েছেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম পিটিভির দেখানো ফুটেজে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ছোটাছুটি করে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আহতদের কাঁধে করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থল থেকে ডনের সংবাদাতা জানিয়েছেন, মসজিদ ভবনের এটি অংশ ধসে পড়েছে এবং সামনের সারিতে যারা নামাজ পড়ছিলেন তারা ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বছর পেশোয়ারের কোচা রিসালদার এলাকার একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৬৩ জন নিহত হয়েছিল।

Continue Reading