Connect with us

Highlights

প্রতিশ্রুতি দিয়ে একযুগেও কথা রাখেনি কেউ, ভাঙা রাস্তায় চরম দুর্ভোগ

Published

on

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর এলাকায় ১৬শ’ মিটার রাস্তার বেহালদশা। এলাকাবাসীসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। জালশুকা-বাড়ইপাড়া আলিক সড়ক হইতে পশ্চিম বড়ইছুটি-কাকাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ভেন্নারটেকি আব্দুল্লাহরচর ব্রিজ অভিমুখের রাস্তায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থী, কারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও ১২ বছরে ওই রাস্তায় কোন কাজ করা হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের জালশুকা-বাড়ইপাড়া সড়ক হইতে বড়ইছুটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ভেন্নারটেকি আব্দুল্লাহর চরের ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার দশা। প্রায় ১৬শ মিটার দুরত্বের ওই রাস্তায় বড়ইছুটি, কাঞ্চন , সাড়াবাড়ি, সোনাদিয়া, বরিয়াবহ ও রসুলপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ও এলাকার কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। সংস্কারের অভাবে ভাঙ্গাচুড়া ও খানাখন্দে ভরা ওই রাস্তায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার বিভিন্ন পেশার মানুষসহ শিক্ষার্থীরা।

পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে পানি আসার সাথে সাথে ১৬শ মিটার ওই রাস্তার প্রায় এক হাজার মিটার পানিতে ডুবে যায়। এর ফলে উপজেলা সদরে যেতে, স্থানীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে যাওয়া, বাজার ঘাট, চিকিৎসার জন্য রোগীদের হাসপাতালে নিতে ও প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী বহন করতে নৌকা ছাড়া ওই এলাকাবাসির চলাচলের আর কোন উপায় থাকে না। প্রতি বছর বর্ষাকালের প্রায় ৪/৫ মাস চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মুমুর্ষ রোগী, শিক্ষার্থী, কারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। রাস্তার কারনে সরকারের প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা ব্যায়ে দেড়কিলোমিটার রাস্তার শেষে নির্মিত ব্রিজটি যেন কোন কাজেই আসছে না।

এছাড়া ওই রাস্তা সংলগ্ন পশ্চিম বড়ইছুটি গ্রামের অংশে অবস্থিত রয়েছে একটি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক। ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে বিভিন্ন সময় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিসহ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পেতে ক্লিনিকে যেতে গর্ববতী মহিলাসহ বিভিন্ন রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। একই রাস্তায় ৬শ মিটারের মাথায় রয়েছে ৭০নং কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে একটি ভোট কেন্দ্র। জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে ভোট দিতে এসেও ভোগান্তিতে পড়েন ভোটাররা। বর্ষা মৌসুমে ওই রাস্তার এক হাজার মিটার পানির নীচে ডুবে থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে কখনো নৌকায় আবার কখনো পানির মধ্য দিয়ে পায়ে হেটে স্কুলে যেতে হয়।

অপরদিকে দীর্ঘদিনের পুরোনো ওই রাস্তার ইট এখন আর চোখে পড়ে না। রাস্তার মাঝে মাঝে ইট না থাকায় বড় বড় গর্তের ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে গর্ভবতী মহিলাসহ মুমুর্ষ রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে হলে লাশবাহী খাট বা বিকল্প উপায়ে জালশুকা-বাড়ইপাড়া সড়ক পর্যন্ত নিতে হয়। ঘরবাড়ী নির্মানের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী, কৃষিপণ্য ও গো-খাদ্যসহ বিভিন্ন মালামাল বেশী খরচ দিয়ে লেবারের মাধ্যমে মাথায় বহন করে নিতে হয়। এছাড়া রাস্তাটির ১৬শ মিটারের মাথায় রয়েছে ওই এলাকার সবচেয়ে বড় একটি সামাজিক কবরস্থান। রাস্তায় খানাখন্দের কারনে লাশ দাফনের জন্য কবরস্থানে লাশ নিতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর বর্ষা মৌসুম হলেতো ভোগান্তির কোন শেষ নেই, নৌকা ছাড়া কবরস্থানে লাশ নেয়ার আর কোন উপায় থাকে না।

এলাকাবাসির দাবি, ওই রাস্তাটি ৩/৪ ফুট উচু করে মাটি ভরাটের মাধ্যমে মেরামত করার জন্য মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের বরাবর লিখিত আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিগত দিনে বিভিন্ন সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি।

এ ব্যাপারে কাঞ্চনপুর গ্রামের ভেন্নারটেকি এলাকার আব্দুল সাত্তার মিয়া জানান, এই রাস্তায় আমাদের অনেক কষ্ট আর ভোগান্তির মাধ্যমে চলাচল করতে হয়। প্রায় ২০ বছর যাবত নির্বাচন আসলে জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের প্রতিশ্রুতির কথা শুনে আসছি। আজ পর্যন্ত কেউ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। প্রায় ১০/১২ বছর আগে এই রাস্তায় মাটি ফেলে ইটের সলিং করা হয়েছিল। তারপর আর কোন চেয়ারম্যান বা মেম্বার এই রাস্তাটির কোন খোজখবর রাখেনি।

পশ্চিম বড়ইছুটি এলাকার মাইদুল হোসেন জানান, মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয়ের মাধ্যমে কালিয়াকৈর উপজেলার সব এলাকায় রাস্তাঘাটের অনেক উন্নতি হয়েছে। উপজেলার মধ্যে আমাদের এই এলাকাটি এখনো সবচেয়ে বেশী অবহেলিত রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত এই রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পরিনত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে এই এলাকার অনেকেই জালশুকা, বাড়ইপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বাড়ী ছেড়ে চলে যায়। আবার বর্ষা মৌসুম শেষে বাড়ী ফিরে আসে। কবে যে এ ভোগান্তির শেষ হবে একমাত্র আল্লাহ জানে। তবে এ এলাকার মানুষের ভোগান্তি ও দুঃখ দেখার যেন কেউ নেই।

আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাঁওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা জানান, জালশুকা-বাড়ইপাড়া আঞ্চলিক সড়ক হইতে পশ্চিম বড়ইছুটি-কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ভেন্নারটেকি আব্দুল্লাহরচর ব্রিজ অভিমুখে রাস্তাটি মাটি ভরাটের জন্য প্রজেক্ট দেয়া হয়েছে। বর্ষার পানি শুকিয়ে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে এই রাস্তাটির মাটি ভরাটের কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, ওই রাস্তাটি উচু এবং প্রশস্থ করে মেরামত করার জন্য আমরা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে রাস্তাটি আইডি ভুক্ত করেছি। উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে ওই রাস্তার সকল প্রকার উন্নয়ন কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

কানাডার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় বেলজিয়ামের

Published

on

বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাতে মাঠে নামে কানাডার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ইউরোপের পরাশক্তি বেলজিয়াম। তবে ম্যাচের ১১ মিনিটে কানাডার হয়ে আলফোনসো ডেভিসের করা পেনাল্টি যদি বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কার্তোয়া আটকে না দিতেন তাহলে হয়তো ফলাফল হতো ভিন্ন। অন্যদিকে প্রথমার্ধের শেষদিকে পাওয়া একমাত্র গোলে পাওয়া জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে গত বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা।

পুরো ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিল শুধু বেলজিয়ামরা। তবে সব জায়গাতেই সমান তালে লড়াই করেছে কানাডা। ম্যাচের ১১ মিনিটে কানাডার এক খেলোয়াড়ের করা শট গিয়ে লাগে ডি-বক্সের ভিতরে বেলজিয়ামের উইঙ্গার কারেসকোর হাতে। সেখান থেকে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি পায় কানাডা। তবে ডেভিসের নেয়া পেনাল্টি ডানদিকে ঝাপ দিয়ে রুখে দেন কোর্তোয়া। এরপর অনেকবার আক্রমণ করেছেন কানাডা। তবে প্রতিবারই দেয়াল হয়ে দাঁড়ান বেলজিয়ামের গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধের শেষ সময়ে (৪৪ মিনিট) অল্ডারউয়েরেল্ডের বাড়ানো বলে বাতসুয়াইর অন টাচ শট পায় জালের ঠিকানা। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বেলজিয়াম।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে গেলেও গোলের দেখা পায়নি কেউই।

এদিকে ইনজুরির কারণে আগেই জানা হয়ে গিয়েছিল বেলজিয়ামের একাদশে দেখা যাবেনা লুকাকুকে। তাই আজ তাকে দেখা গেল বেঞ্চেই। এছাড়াও গত বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অধিকার করা বেলজিয়াম সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছে।

Continue Reading

Highlights

জেলা প্রশাসক পদে বড় রদবদল, ২৩ জেলায় নতুন ডিসি!

Published

on

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ২৩ জেলায় একযোগে ২৩ জন নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (২৩ নভেস্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সই করেন উপসচিব ভাষ্কর দেবনাথ বাপ্পি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে ঢাকা, কিশোরগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ শামীম আলমকে কুমিল্লা, জয়পুরহাটের ডিসি মো. শরিফুল ইসলামকে পটুয়াখালী, বরিশালের ডিসি জসীম উদ্দীন হায়দারকে টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জের ডিসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে বরিশাল এবং নীলফামারীর ডিসি খন্দকার ইয়াসির আরেফীনকে খুলনার ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীকে সুনামগঞ্জ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব কাজী মাহবুবুল আলমকে গোপালগঞ্জ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম, অর্থ বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ সাইদুল আরিফকে কুড়িগ্রাম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ড. চিত্রলেখা নাজনীনকে রংপুরের ডিসি করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে সিরাজগঞ্জ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত উপ-সচিব ফারাহ্ গুল নিঝুমকে ঝালকাঠি, পানি সম্পদ উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মো: কামরুল আহসান তালুকদারকে ফরিদপুর, খাদ্য মন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মো: সহিদুজ্জামানকে খাগড়াছড়ি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো: মোস্তাফিজার রহমানকে ময়মনসিংহ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মো: সাইফুল ইসলামকে বগুড়ার ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদকে কিশোরগঞ্জ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব পঙ্কজ ঘোষকে নীলফামারী, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিবকে মোহাম্মদ উল্যাহকে লালমনিরহাট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক কক্সবাজার, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক সালেহীন তানভীর গাজীকে জয়পুরহাট এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ আবু নাসের বেগকে মাগুরার ডিসি করা হয়েছে।

এরআগে গত ২৭ অক্টোবর এক সিনিয়র সচিব এবং দুজন সচিবকে বদলি করেছে সরকার। এছাড়া একজন সচিবকে সিনিয়র সচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৩ জন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খানকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানাকে তথ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলেও পরে তা প্রতাহার করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারসচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে শিল্পসচিব হিসেবে বদলির আদেশ হওয়া হুমায়ুন কবীর খন্দকারকে। এর আগে তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ছিলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফরিদ আহাম্মদকে (অতিরিক্ত সচিব) পদোন্নতি দিয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা (অতিরিক্ত সচিব) সচিব পদোন্নতি পেয়ে একই জায়গায় পদায়িত হয়েছেন।

জননিরাপত্তা বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব জাহাঙ্গীর আলম নিয়োগ পেয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব পদে।

Continue Reading

Highlights

কেরুর বিষাক্ত বর্জ্যের পানিতে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ, মশার উপদ্রব

Published

on

কেরুর বিষাক্ত বর্জ্যের পানিতে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ, মশার উপদ্রব

কেরুর বিষাক্ত বর্জ্যের পানিতে ৪ মাস ধরে বন্দি হয়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়। এতে করে একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন করা হচ্ছে অবমাননা অপরদিকে বিঘ্ন হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধােদের কার্যক্রম। চোখের সামনে ৪ মাস ধরে পানি বন্দী থাকলেও দিবা ঘুমে আছন্ন কেরুর কর্মকর্ত কর্মচারীরা। মুক্তিযোদ্ধা কোটার দাবিতে আন্দোলন করার খেশারত কিনা সে রহস্য খুজে পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধা সন্তানসহ সচেতন মহল।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ চিনিকল ও ডিস্টিলারি। কেরু এন্ড কোম্পানির বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকাজুড়ে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ ঘটছে। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে চিনিকলের আশপাশ এলাকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা- কর্মচারিদের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে এমন পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, কেরু এন্ড কোম্পানির জৈবসার তৈরির কাঁচামাল চিনিকল ও ডিস্টিলারির বর্জ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাব মিলের বর্জ্যপানি নিষ্কাশন লাইনের পাইপ ফেটে নোংড়া পানি বের হয়ে বিভিন্ন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মকভাবে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শহরে বসবাসকারী লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের সময় মিলের মানুষ তরল বর্জ্য ও মিলের যন্ত্রপাতি ধোয়ামোছাসহ আবাসিক এলাকার নোংরা পানি নিষ্কাশনের জন্য চিনিকল থেকে মাথাভাঙ্গা নদী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাইপ লাইন বসানো হয়েছিলো। এ পাইপ লাইনটি দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় পাইপের বিভিন্ন অংশ ফেটে ও ভেঙ্গে মিলের তরল বর্জ্যসহ নোংড়া পানি বের হয়ে গোটা এলাকায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। কয়েক বছর আগে চিনিকল কর্তৃপক্ষ টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে পাইপ লাইনটি মেরামত করে। মেরামতকালে চিনিকলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্নীতির করণে নিয়োজিত ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার ফলে সংস্কারের কিছুদিনের মাথায় পাইপটি ফাটল দেখা দেয়। আবারোও পাইপ লাইনের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল ধরে আগের অবস্থায় ফিরে গিয়ে অসহনীয় দুর্গন্ধে অতিষ্ট করে তুলেছে দর্শনা শহরবাসীকে। এর ফলে পথচারিরাও পড়ছে বিপাকে। দুর্গন্ধের কারনে কেরু এলাকা ছাড়াও শহরের আনোয়ারপুর, শান্তিপাড়া, পাঠানপাড়া, মোবারকপাড়া, ইসলামবাজার, পুনাতনবাজার, মহম্মদপুর, আজমপুরসহ গোটা শহর জুড়ে মারাত্মকভাবে বায়ুদূষন ঘটছে। ফলে বায়ুদুষনজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকায় বসবাসকারী মানুষ।

সরেজমিনে কেরুজ বাজারমাঠ সংলগ্ন এলাকা ও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নোংড়া পানি উপচে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই পানি থেকে বের হচ্ছে পচা দূর্গন্ধ। ছড়িয়ে পড়া এই পানিতে জন্ম নেয়া মশা-মাছি দেখে মনে হয়েছে কেরু কোম্পানি চিনি ও স্পিরিট উৎপাদনের পাশাপাশি মশা-মাছিরও উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর ফলে বাড়তে পারে ডেঙ্গু মশার উৎপাত। এমন পরিস্থিতিতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে চিনিকলের আশপাশ এলাকার হাজার হাজার মানুষ। একটি রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানের কারণে এলাকায়
এভাবে পরিবেশ দূষণের ঘটনায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা চলতে থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। পরিবেশদূষণ রোধে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী বলেন আমরা দির্ঘদীন ধরে অফিসের ভিতর বর্জ্য পানি থাকার কারণে আমাদের কার্যক্রম করতে পারছি না। আমাদেরকে রিতিমত অবমাননা করছে কেরু চিনিকল কতৃপক্ষ। তবে আমি কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনকে বিষয়টি জানানোর পর তিনি অতিসত্বর ঠিক করে দেবে বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শেখ মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বাজারমাঠ সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার পানি বের হচ্ছে এমন খবর কেও আমাকে জানায়নি, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমাকে জানালে ব্যবস্থা নিতাম। ওই এলাকার পানিনিষ্কাশনের লাইন পৌরসভার ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। আমি যতদুর জানি ড্রেনের কাজ শুরু হয়নি ফলে পানি ওভারফ্লু হয়ে রাস্তায় চলে এসেছে। আর মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে আমরা মাটি ভরাটের কাজ শুরু করবো, বাজেট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ব্যাবস্হাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

Continue Reading