বাঘায় ভূমি অফিসের পর এবার টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আগুন
রাজশাহী প্রতিনিধি:
বাঘা উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ১২ ভোল্টের ৪৮টি ব্যাটারি ও পরিত্যক্ত এনালগ সিবি বোর্ডসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে দাবি করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় আ.লীগ নেতা সহকারী অধ্যাপক নূরুউদ্দীন সরকার। শনিবার ভোর রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে টেলিফোন সংযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে।
এ ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে অগ্নিকাণ্ডে ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমের মূল্যবান কাগজপত্রসহ পাশের রুমের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দুইটি মোটরসাইকেলসহ সংরক্ষিত বইপত্র ভস্মীভূত হয়েছে ও উপজেলার গঙ্গারামপুর মোড়ে শনিবার রাত আনুমানিক ৯টায় ট্রাকে আগুনসহ মোট ৩টি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এক্সচেঞ্জের লাইনম্যান সেন্টু জানান, তিনি অফিসের দোতলায় ছিলেন। ভোর রাত ৪টার সময় সাইরেনের শব্দে জেগে উঠে ভেতরে ধোঁয়া ও গন্ধ পান। এসময় উপরের মেইন সুইচ বন্ধ করে গেট খুলে নীচে এসে স্থানীয়দের ডাকাডাকি করলে স্থানীয় লোকজন আগুন নিভাতে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। মনি নামের স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, নীচ তলার ভেতরে গিয়ে আগুন দেখে সেখানে মেইন সুইচ বন্ধ করার সময় তার ভেতরে আগুন জ্বলে উঠে। দ্রুত থানায় ও ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাইরের কাঁচ ভেঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও পুড়ে যায় ব্যাটারিসহ মূল্যবান জিনিসপত্র।
চারঘাট ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মতিউর রহমান জানান, স্থানীয়দের সাথে বিভিন্নভাবে কথা বলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছেন।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় অফিসের বাইরের গেটে তালা লাগানো ছিলো। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা দুর্বৃত্তের দেওয়া অগ্নিকাণ্ডের ধারণা নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক্সচেঞ্জের নাইটগার্ড সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনার রাতে সে অফিসে ছিল না। রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল ইসলাম ও সহকারি পুলিশ সুপার (পুঠিয়া সার্কেল) আসলাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে সঠিক তথ্য উদঘাটনসহ দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।