Connect with us

রাজনীতি

বাধা উপেক্ষা করে কুমিল্লায় জনস্রোত আসছে: খন্দকার মোশাররফ

Avatar photo

Published

on

ডেস্ক রিপোর্ট:
কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের এক দিন আগে শুক্রবার সকাল থেকে মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জমায়েত হন। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দাবি সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে পথে পথে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। এ বাধা উপেক্ষা করে গণসমাবেশে জনস্রোত আসছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় টাউনহল মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি করেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কোনো অপশক্তি আমাদের নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। সকাল থেকে সারা শহরে মিছিল হচ্ছে। নেতাকর্মী ভরে গেছে শহর। সুতরাং কুমিল্লা মহানগরী জনগণের মহানগরীতে পরিণত হয়েছে। তারাই শনিবারের সমাবেশ সফল করবেন। সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ ছাড়া সব বিষয়ে সঠিকভাবে তদারকি চলছে।

কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা উপজেলার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিবরণ তুলে ধরে খন্দকার মোশাররফ বলেন, কুমিল্লায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারি দল ও পুলিশ নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে। তবে তারা যতই নির্যাতন-নিপীড়ন করুক, দমিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, এই সরকার ভোটচোর সরকার। প্রধানমন্ত্রী যশোরের একটি সমাবেশে বলেছেন, আপনারা ভোট দিয়ে পলাতক নেতাকে ক্ষমতায় আনতে চান? এর মানে সরকারের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এই কথা প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আপনার দেখেছেন, সমাবেশকে উপলক্ষ করে গোটা কুমিল্লা নগর উৎসবের নগরে পরিণত হয়েছে। এত বাধাবিপত্তির পরও আগের সাতটি সমাবেশ ব্যাপক শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কথা দিলাম, কুমিল্লার সমাবেশও শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন লোকজন বলছেন, খেলা হবে। এটা খেলা নয়, রাজনীতি। এই রাজনীতির মাধ্যমেই আমরা দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে মেরামত করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক হাজি আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন প্রমুখ। শনিবারের গণসমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা আছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজনীতি

ওবায়দুল কাদেরকে এক হাত নিলেন হিরো আলম

Avatar photo

Published

on

“কয়েকদিন আগে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন হিরো আলম নাকি জিরো হয়েছে, এটা ভুল বলেছেন, হিরোকে কেউ কখনো জিরো করতে পারে না, হিরো হিরোই থাকে” বলে মন্তব্য করেছেন উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হেরে যাওয়া মো. আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম।

শনিবার রাত ৯টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

ফেসবুক লাইভে হিরো আলম আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি আগে থেকেই বলেছিলাম, বগুড়া-৪ আসনে ভোট সুষ্ঠ (সুষ্ঠু) হয়েছে। কোনো কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্ট বের করেও দেওয়া হয়নি। কাহালুতে ৬৩টি কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার ৫০০ ভোটে এগিয়ে ছিলাম। নন্দীগ্রামে ৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১ থেকে ৩৯টি কেন্দ্রের ফল একে একে ঘোষণা করা হয়। তারপর আর ফল ঘোষণা না করে সরাসরি মশাল প্রতীককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কাহালু উপজেলায় ৬৩টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণার দুই ঘণ্টা পর নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪৯টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ৮৩৪ ভোটে যে আমাকে ফেল দেখানো হয়েছে, আমাকে কীভাবে ফেল দেখানো যায়, সেই চিন্তা করতে করতেই দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। আবার ভোট গণনা চেয়ে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

স্বতন্ত্র এই প্রার্থী বলেন, ‘দু-তিন ধরে কিছু দল আমাকে নিয়ে নানা কথা বলছে। আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্যার হিরো আলমকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন। হিরো আলমকে নাকি বিএনপি দাঁড়িয়ে (দাঁড় করিয়ে) দিয়েছে। বিএনপির কোনো সাইনবোর্ড নিয়ে কি আমি ভোট করেছি? বিএনপির কেউ কি মাঠে ছিল? আমার পাশে ছিল? আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করেছি, আমাকে কিন্তু বিএনপি দাঁড় করে (করিয়ে) দেয়নি।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই প্রসঙ্গে তুলে হিরো আলম বলেন, ‘মির্জা আলমগীর বলেছেন, এই সরকার এখন অসহায় হয়ে গেছে। এই সরকার অসহায় হয়েছে কি না, আমি জানি না। তবে আমি হিরো আলম যে অসহায় হয়েছি, এই প্রশ্নের জবাব কে দেবে? আমার ভোটের ফলাফল যে কেড়ে নেওয়া হলো, এই প্রশ্নের জবাব কে দেবে? আমি কার কাছে বিচার দেব। আমি যাদের কাছে বিচার দিতেছি, তারা কেউ বিচার করছে না।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে হিরো আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের সবার বিচার তো আপনি করেন। আমি আপনার কাছে বিচার দিলাম। আমার ভোট সুষ্ঠমতো (সুষ্ঠুমতো) হলো, কিন্তু ভোটের ফলাফল সুষ্ঠমতো রায় দেওয়া হলো না কেন? এর বিচার চাই।’

হিরো আলম এখন বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে চলছে-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হিরো আলম কারও কান্দের ওপর ভর দিয়ে চলে না। আজকে এত দূর এসেছি, কেউ সহযোগিতা করেনি। নিজের পরিশ্রম, সংগ্রাম করেই আমি হিরো আলম হয়েছি। কারও ওপর ভর করিনি।’

লাইভে হিরো আলম আরও বলেন, ‘পুরো পরিকল্পনা ও চক্রান্ত করে হিরো আলমকে হারানো হয়েছে। ভোটে যে গণজোয়ার দেখেছি, হিরো আলম হারতে পারে না, হারার প্রশ্নই আসে না।’

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে লাইভে হিরো আলম বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের স্যার বলেছেন, হিরো আলম পার্লামেন্টে গেলে নাকি পার্লামেন্ট ছোট হবে। আমি যদি পার্লামেন্টে গেলে পার্লামেন্ট ছোট করা হয় তবে যখন মনোনয়ন কিনছি, তখন কিন্তু আপনাদের বলা উচিত ছিল, হিরো আলমের কাছে যেন মনোনয়ন বিক্রি করা না হয়। আপনারাই বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশ, সবাই নির্বাচন করতে পারবে। সবার যদি নির্বাচন করার কথা আইনে থাকে, তাহলে আমি ভোটে দাঁড়ালে সংসদ ছোট হবে কেন? তাহলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে আইন করতে হবে?’

Continue Reading

Highlights

একযোগে ১০ বিভাগীয় শহরে নামবে বিএনপি, পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে শঙ্কা

Avatar photo

Published

on

সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের পঞ্চম ধাপের কর্মসূচি নিয়ে একযোগে দলের ১০ সাংগঠনিক বিভাগীয় শহরে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। রাজধানীতে বিএনপির পাশাপাশি আন্দোলনে থাকা অন্য দলগুলোও কর্মসূচি পালন করবে।

শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিভাগীয় সমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতির চেষ্টা করছে বিএনপি। একইদিনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে খুলনা, রংপুর, সিলেট, ঢাকা দক্ষিণসহ একাধিক জায়গায় পাল্টা কর্মসূচির ডাক দেয়ায় শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের ‘উসকানিমূলক পাল্টা’ কর্মসূচির প্রতিবাদে এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো, সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে এই সমাবেশ করবে বিএনপি এবং তাদের সমমনা দল ও জোট। ঢাকার কর্মসূচি থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানা গেছে।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে বিএনপি সব সাংগঠনিক বিভাগ এবং জেলায় প্রচারপত্র বিলি ও গণসংযোগ করেছে। কিছুদিন আগে থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণমিছিল, গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ সমাবেশের পর সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের পঞ্চম কর্মসূচি বিভাগীয় সমাবেশ। মাঝে ঢাকায় পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করলে সামনে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চায় দলটি।

এদিকে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ইতোমধ্যে নেতারা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় পৌঁছে গেছেন।

এছাড়া দলের নির্বাহী কমিটির নেতাদেরও নিজ নিজ বিভাগীয় সমাবেশে অংশ নিতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মতো অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশও দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে।

কোন এলাকায় থাকবেন কোন নেতা-

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ১০টি বিভাগীয় সমাবেশের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি। তাদের মধ্যে ঢাকার সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি থাকবেন।

এছাড়া কুমিল্লায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রাজশাহীতে মির্জা আব্বাস, খুলনায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরিশালে আবদুল মঈন খান, চট্টগ্রামে নজরুল ইসলাম খান, ময়মনসিংহে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিলেটে সেলিমা রহমান, ফরিদপুরে ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা ও রংপুরে মো. শাহজাহান প্রধান অতিথি থাকবেন।

বিএনপির পাশাপাশি অন্য দল ও জোটগুলো রাজধানীর পাঁচটি স্থানে সমাবেশ করবে।

এদিকে বিরোধী জোটগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সাতদলীয় জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করবে। পরে তারা মিছিলও বের করবে।

এছাড়া ‘১২-দলীয় জোট’ বেলা ১১টায় বিজয়নগর পানি ট্যাংকের পাশে, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে, একই সময়ে ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’ পুরানা পল্টনে সমাবেশ করবে।

বেলা আড়াইটায় এফডিসি-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে এলডিপি এবং বিকেল ৪টায় মতিঝিলের নটরডেম কলেজের বিপরীত পাশে গণফোরাম ও পিপলস পার্টি সমাবেশ করবে।

Continue Reading

Highlights

হেফাজত ও সরকার পরস্পরকে নিয়ে ‘স্বস্তিতে’ থাকার উপায় খুঁজছে

Avatar photo

Published

on

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকারের সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার ও আটক নেতাদের মুক্তির বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। তবে সংগঠনটির নেতা মামুনুল হকের বিষয়ে সরকারের দিক থেকে এখনো তীব্র আপত্তি আছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে রাজনীতিতে না জড়ানোর বিষয়ে সংগঠনটি সরকারকে ‘মুচলেকা’ দিয়েছে।যদিও সংগঠনটির মহাসচিব সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছেন তারা সরকারকে কোনো বিষয়ে কোনো ‘মুচলেকা’ দেননি।

তবে গত মাসে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের পর এর সংগঠনটির যেসব নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আটক আছে তাদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর আশা করছে সংগঠনটি। একে হেফাজতের প্রতি সরকারের নমনীয় মনোভাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই গণমাধ্যমের খবর এসেছে যে নেতা কর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের শর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে ‘বিব্রত না করার অঙ্গীকার’ করেছে সংগঠনটির নেতারা।

অন্যদিকে সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ ‘ঠিকঠাক’ করার অংশ হিসেবে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোকেও নিজেদের দিকে টানা বা রাখার কৌশল হিসেবেই হেফাজতের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বিবিসি বাংলাকে বলেছে তারা সরকারকে কোনো বিষয়ে মুচলেকা দেননি তবে রাজনীতিতে না জড়ানোর বিষয়ে হেফাজতের আগের সিদ্ধান্তই বহাল আছে যে সংগঠনটি দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বলছেন আগে ভুল করে হেফাজত ‘বিএনপির ফাঁদে পা’ দিয়েছিলো এবং পরে সেই ভুল তারা বুঝতে পেরেছে।

আর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলছেন যে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সবার কথা শুনেন এবং হেফাজতে ইসলামের নেতাদের কথাও শুনেছেন।

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে এক সমাবেশের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলো হেফাজতে ইসলাম। এরপর সংগঠনটি কোনো কোনো ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের বিপক্ষে গেলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের সাথে আলোচনায় এসে বিভিন্ন দাবি আদায় করেছে।

তবে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে সংগঠনটির একজন নেতা মামুনুল হকের ভূমিকা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো। পরে তিনি ভিন্ন অভিযোগে আটক হয়ে এখন জেলে। অন্যদিকে আরও কিছু ঘটনায় মামলার আসামি হয়ে আটক হয়েছেন এর কমপক্ষে পনের জন নেতা।

আড়াইশর বেশি মামলাও আছে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হেফাজত ইসলামের নেতারা বহুবার এসব মামলা তুলে নিয়ে আটক নেতাদের মুক্তির আর্জি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

এমনকি সরকারকে বিব্রত না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু তারপরেও সুনির্দিষ্ট কয়েকজন নেতা ও তাদের মামলার বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাবে পরিবর্তন আসছিলো না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে যে ধারনা পাওয়া গেছে সেটি হলো নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের বিভিন্ন দাবিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

সে কারণেই বিএনপি ও জামাতসহ তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলো ব্যতিরেকে বাকীদের হয় আওয়ামী লীগের দিকে নিয়ে আসা নয়তো নিরপেক্ষ ভূমিকায় দেখতে চাইছে সরকার।

যেহেতু হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতা আছেন এবং তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে অনেকে মনে করেন সেই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে আগেই নিশ্চয়তা চায় সরকার যে সংগঠনটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহৃত হবে না।

ইতোমধ্যে সংগঠনটির দাবি মেনে সরকার এবারো বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সা’দ কান্দালভীকে আসার অনুমতি দেয়নি। আবার তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী মুক্তিও পেয়েছেন, যারা বিভিন্ন অভিযোগে আটক হয়ে জেলে ছিলেন।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বলছেন তারা গত সতেরই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে নেতাদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার সহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন।

“আমরা দাবিগুলো তুলেছি। মামলাগুলো নিয়ে কাজ চলছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আবারো কথা হবে। কিন্তু আমরা কোথাও কোনো মুচলেকা দেইনি। মুচলেকা দেয়ার তো কিছু নেই কারণ হেফাজতে ইসলাম তো রাজনৈতিক দল না। এখানে যারা রাজনৈতিক নেতা তাদের নিজস্ব আলাদা দল আছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মূলত ওই বৈঠকের পর থেকেই সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সমঝোতা ও রাজনৈতিক কোনো ইস্যুতে না জড়ানোর বিষয়ে মুচলেকা দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও সংগঠনটির একটি সূত্র জানিয়েছে হেফাজত নেতাদের মধ্যে মামুনুল হকের বিষয়ে সরকারের তীব্র আপত্তি আছে কারণ তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ করার নামে সরকার বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছে বলে সরকার মনে করছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হেফাজত নেতাদের বৈঠকগুলোতেও মিস্টার হকের বিষয়ে কোনো ছাড় না দেয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিলো।

এ কারণেই এখন সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে এর কোনো নেতা সরকার বিরোধী প্রচারণা বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হেফাজতকে ব্যবহার করবে না।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বিবিসি বাংলাকে বলছেন অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলাম তাদের পরিমণ্ডলে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক এবং তারা তাদের যৌক্তিক দাবী দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলে সরকার সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নিতেই পারে।

তাছাড়া সামনে নির্বাচন আসছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনি নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলছে। সে কারণে নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো যেন বিরোধীদের দিকে হেলে না পড়ে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও মনে করেন অনেকে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলছেন সামনে নির্বাচনে সব দল নির্বাচনে আসবে এবং সরকার সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

পাশাপাশি অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোও প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলছেন এবং হেফাজতসহ যে কারও আইনসিদ্ধ প্রস্তাবগুলোর প্রতি সরকার সবসময়ই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে।

তবে হেফাজতে ইসলামিতে বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় ছিলেন এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে গত প্রায় দু বছর ধরেই সংগঠনটি সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে। বিশেষ করে এর সাবেক আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর সংগঠনটির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ শক্ত হয় বলে এর নেতাদের অনেকে বলেছেন।

এখন নির্বাচনের বছরে এসে সরকার ও হেফাজতে ইসলাম- উভয়েই নিজেদের মধ্যকার বিরোধের জায়গাগুলো নিষ্পত্তি করে আরও স্বস্তিতে থাকতে চাইছে বলে মনে করছেন তাদের কেউ কেউ।

হেফাজত নেতা মীর ইদ্রিস বলছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর চলতি মাসের মাঝামাঝি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আবারো বৈঠক করেছেন তারা।

“মামলাগুলোর বিষয়ে তথ্য আমরা সংগ্রহ করছি। এরপর আবার আলোচনা হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

-বিবিসি বাংলা

Continue Reading