Connect with us

Highlights

বিটিআরসির নির্দেশ: বিজয় কিবোর্ড বাধ্যতামূলক করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

Avatar photo

Published

on

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কিবোর্ড স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহারের নির্দেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কি–বোর্ড বা অ্যাপ বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) বাধ্যতামূলক তালিকার কোনো পণ্য নয়। তাই এটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সুযোগ নেই। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার নাম উল্লেখ করে কোনো সরকারি সংস্থা বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দিতে পারে না।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ১৩ জানুয়ারি মুঠোফোন উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে বলেছে, আমদানি করা ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সব অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে বিজয় কি–বোর্ড ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ জন্য সংস্থাটির কাছ থেকে বিনা মূল্যে বিজয় কিবোর্ডের অ্যান্ড্রয়েড প্যাকেজ কিট (এপিকে) ফাইল নিয়ে মুঠোফোনে স্থাপন করতে হবে। নইলে মুঠোফোন বিক্রির অনাপত্তি দেওয়া হবে না।

বিজয় কিবোর্ডের আবিষ্কারক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আনন্দ কম্পিউটার্স বিজয় কিবোর্ড সরবরাহ করে। আনন্দ কম্পিউটার্সের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, এটির মেধাস্বত্ব মোস্তাফা জব্বারের নামে। উল্লেখ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি।

বিটিআরসির দেওয়া চিঠিতে বিজয় কিবোর্ড বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে ‘সরকারের নির্দেশনা’র কথা বলা হয়েছে। তবে সরকারের কোন নির্দেশনা, কোন আইনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন বিটিআরসির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে সম্ভব হয়নি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে গতকাল বুধবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দেন। তা হলো, বিজয় কিবোর্ডকে ভিত্তি ধরে মুঠোফোনের জন্য কিবোর্ডের মানকাঠামো (স্ট্যান্ডার্ড) তৈরি করেছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। ২০১৮ সালে সেটা গ্রহণ করেছে বিএসটিআই। বিটিআরসি আইসিটি বিভাগের সেই মানটিই মুঠোফোনে বিনা মূল্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। বিটিআরসি আইসিটি বিভাগের মান মেনে চলতে বাধ্য।

টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সরকার একটা মান ঠিক করে দিয়েছে। তাই সরকারি কাজ করতে গেলে সরকারের দেওয়া মান মেনে চলতে হবে।

কোনো একজন মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা তাঁর অধীন সংস্থা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হয় কি না, জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই। মন্ত্রী হিসেবে সরকারের ঠিক করে দেওয়া মান প্রয়োগ করা তাঁর দায়িত্ব।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তথ্যপ্রযুক্তি–সংক্রান্ত পণ্য ও সেবার মান নির্ধারণে কারিগরি কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। সংস্থাটি যে মানকাঠামো তৈরি করে সেটি পর্যালোচনা শেষে ‘বাংলাদেশ মান’ হিসেবে ঘোষণার ক্ষমতা রয়েছে কেবল বিএসটিআইয়ের। সংস্থাটির সাড়ে চার হাজারের বেশি মান রয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক পণ্য তালিকায় রয়েছে ২২৯টি পণ্য ও সেবা। অর্থাৎ এসব পণ্য ও সেবা বিক্রি করতে হলে বিএসটিআইয়ের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হয় ও জাতীয় মান মেনে চলতে হয়। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা নেই।

বিএসটিআইয়ের সিএম (সার্টিফিকেশন মার্কস) শাখার উপপরিচালক মো. রিয়াজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের বাধ্যতামূলক পণ্য তালিকায় স্মার্টফোনের কিবোর্ড নেই।

বিটিআরসির চিঠিতে সরাসরি বিজয় কিবোর্ডের কথা উল্লেখ করে তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এমনকি মুঠোফোন উৎপাদন ও আমদানিকারকদের চিঠি দেওয়ার তিন দিনের মধ্যে বিটিআরসির কাছ থেকে বিজয় কিবোর্ডের এপিকে ফাইল সংগ্রহ করে মুঠোফোনে স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, কোন আইনের ভিত্তিতে নির্দেশ দেওয়া হয়, তা নির্দেশনায় থাকতে হয়। আর সরকারি কোনো সংস্থা কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার নাম উল্লেখ করে নির্দেশনা জারি করতে পারে না। প্রয়োজনে তারা শুধু নির্দিষ্ট মানের কথা বলতে পারে। সেই মান মেনে চললে যেকোনো প্রতিষ্ঠান পণ্য ও সেবা সরবরাহের যোগ্য হতে পারে।

অ্যাপ স্টোরে যত কিবোর্ড-

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল (অ্যালফাবেট) মুঠোফোনের অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) অ্যান্ড্রয়েড তৈরি করে। মুঠোফোন উৎপাদনকারীরা গুগলের এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে মুঠোফোন তৈরি করে বাজারে ছাড়ে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল ইনকরপোরেশনের তৈরি আইফোন পরিচালিত হয় তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম আইওএস দিয়ে।

গুগলের প্লে স্টোরে বাংলা কিবোর্ডের বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত হিসাবে, রিদমিক নামের একটি কিবোর্ড ডাউনলোড হয় পাঁচ কোটির বেশি বার। রিদমিক ক্ল্যাসিক কিবোর্ড ডাউনলোড হয়েছে এক কোটির বেশি। ‘বাংলা কিবোর্ড: বাংলা টাইপিংয়ের’ ডাউনলোড সংখ্যা এক কোটি। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার প্রতিষ্ঠিত আনন্দ কম্পিউটার্সের বিজয় অ্যান্ড্রয়েড কিবোর্ড ডাউনলোড হয়েছে এক লাখের বেশি। তার মানে হলো, জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বিজয় কিবোর্ড অনেক পিছিয়ে। এদিকে অ্যাপলের আই-স্টোর ঘেঁটে দেখা যায়, বিজয় কিবোর্ড নেই। রিদমিক আছে।

বিজয় কিবোর্ড ডাউনলোড করে মুঠোফোনে স্থাপন করতে গিয়ে দেখা যায়, গুগল একটি সতর্কতামূলক বার্তা দিচ্ছে। তাতে বলা হচ্ছে, এই অ্যাপটি স্থাপন করলে এই আশঙ্কা আছে যে অ্যাপটি সব লেখা (টেক্সট) সংগ্রহ করার সক্ষমতা রাখে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত উপাত্ত (পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নম্বরও হতে পারে) থাকতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মুহাম্মদ এরশাদুল করিম প্লে স্টোরে পাওয়া বিজয় কিবোর্ডের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নীতি বিশ্লেষণ করে প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো মুঠোফোন অ্যাপ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার নীতিমালা খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে একজন ব্যবহারকারীর অধিকার এবং সেবাদাতার দায়দায়িত্ব বর্ণনা করা থাকে। বিজয়ের গোপনীয়তার নীতিতে মৌলিক অনেক বিষয় নেই। কিবোর্ডটির নিরাপত্তাব্যবস্থা পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র নয়, সেটা তারা নিজেদের গোপনীয়তার নীতিতেই উল্লেখ করেছে। নীতিটি মূলত বিনা মূল্যের একটি ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া, সেটাও বলা আছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটি কিবোর্ড গ্রাহক বা ভোক্তা হিসেবে আমি কেন নিতে চাইব, আমাকে কেন বাধ্য করা হবে। আমার তথ্যের নিরাপত্তার দায় কে নেবে?’

প্রযুক্তিবিদেরা জানান, মুঠোফোনের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনে গুগলের নিজস্ব কিবোর্ড স্থাপিত থাকে, যেটির নাম জি-বোর্ড। সেটি দিয়ে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় লেখা যায়। আলাদা করে অন্য কোনো অ্যাপ ডাউনলোড না করলেও চলে। তবে ব্যবহারের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অনেকে বিভিন্ন কিবোর্ড ব্যবহার করেন। কোনো কিবোর্ড চাইলে মুছে দেওয়া (ডিলিট) যায়।

মোস্তাফা জব্বার বলছেন, বিটিআরসি বিজয় কিবোর্ড বিনা মূল্যে দিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অন্য কিবোর্ডও বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। আর সব মুঠোফোনে কোনো কিবোর্ড বাধ্যতামূলক করার সঙ্গে প্রচার ও প্রসারের বিষয় থাকে।

ঝক্কি ও ব্যয় ‘বাড়বে’-

দেশে ১৪টির মতো প্রতিষ্ঠান স্মার্টফোন উৎপাদন করে। আবার কেউ কেউ মুঠোফোন আমদানিও করে। বছরে স্মার্টফোন বিক্রি হয় এক কোটির মতো। এ খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বলেছে, মুঠোফোনে বিজয় কিবোর্ড স্থাপন করে বাজারে ছাড়তে গেলে তাদের ঝক্কি বাড়বে।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও ট্রানশান বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিজওয়ানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা বিশ্বে অ্যান্ড্রয়েডের জন্য একই এপিকে প্যাকেজ থাকে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য আলাদা করা হয় না।’ তিনি বলেন, প্রতিটি অ্যাপকে প্যাকেজের আওতায় আনতে গেলে গুগলের অনুমতি নিতে হয় এবং নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। এখন বিজয়কে এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করতে গেলে ফির পরিমাণও বাড়বে।

সংবাদসূত্র : প্রথম আলো

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

পুলিশের গুলিতে মারা গেলেন ভারতের মন্ত্রী

Avatar photo

Published

on

পুলিশের গুলিতে মারা গেলেন ভারতের মন্ত্রী

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নব কিশোর দাস পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। রোববার রাজ্যটির ঝাড়সুগুদা জেলার ব্রজরাজনগরের গান্ধী চকে গুলি করেন গোপাল দাস নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা।

গুলিতে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নব কিশোরকে চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভুবনেশ্বরের অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মারা যান মন্ত্রী।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্ত্রীকে আইসিওতে রেখে হৃদযন্ত্র সচল করতে চিকিৎসা দেওয়া হয়; কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও তার জ্ঞান ফেরেনি এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তা সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ছিলেন। ওড়িশার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নব কিশোর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাকে গুলি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। গুলিটি তার বুকে লাগে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী নব কিশোর দাস তার গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাকে গুলি করা হয়। হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে ওড়িশার শাসক দল বিজিডির একটি নতুন দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনে গিয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নব দাস। গাড়ি থেকে নেমে দলীয় কার্যালয়ের দিকে এগোতেই হঠাৎ তার ওপরে গুলিবর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।

মন্ত্রীকে গুলি করা ওই পুলিশ কর্মকর্তা গান্ধী চক পোস্টে ডিউটিতে ছিলেন। মন্ত্রী আসার খবর পেতেই তিনি ওই দলীয় কার্যালয়ের কাছে যান। মন্ত্রী গাড়ি থেকে নামতেই তিনি নিজের সার্ভিস রিভলভার দিয়ে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালান।

এদিকে অভিযুক্ত গোপাল দাস মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া তার উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা আছে। মন্ত্রীকে গুলি করার ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার অসুস্থতার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Continue Reading

Highlights

বাউফলের সেই লাল মিয়ার পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

Avatar photo

Published

on

মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন। সংবাদ প্রকাশের পর বাউফলের সেই হতদরিদ্র লাল মিয়া হাওলাদারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

শনিবার দুপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সরজমিনে উপজেলার কালিশুরি ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা অসহায় দরিদ্র লাল মিয়া হাওলাদারের বাড়িতে যান। এসময় তিনি লাল মিয়াকে শীতবস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং তাকে সরকারি ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এরআগে গত শুক্রবার বাংলাদেশেরপত্র অনলাইনসহ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় ‘আসমানী কবিতার রহিমদ্দির ঘরকেও হার মানায় বাউফলের লাল মিয়ার ঘর’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন সরেজমিনে নিজের চোখে সবকিছু দেখে দরিদ্র লাল মিয়াকে কম্বলসহ তার নিজের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন। লাল মিয়াকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নিয়ে আসাসহ ঘর তৈরি করার জন্য আরও আর্থিক সাহায্য প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন লাল মিয়া।

এদিকে অর্থিক সহায়তা ও ঘর পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানান লাল মিয়া।

 

আসমানী কবিতার রহিমদ্দির ঘরকেও হার মানায় বাউফলের লাল মিয়ার ঘর

 

 

Continue Reading

Highlights

হেফাজত ও সরকার পরস্পরকে নিয়ে ‘স্বস্তিতে’ থাকার উপায় খুঁজছে

Avatar photo

Published

on

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকারের সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার ও আটক নেতাদের মুক্তির বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। তবে সংগঠনটির নেতা মামুনুল হকের বিষয়ে সরকারের দিক থেকে এখনো তীব্র আপত্তি আছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে রাজনীতিতে না জড়ানোর বিষয়ে সংগঠনটি সরকারকে ‘মুচলেকা’ দিয়েছে।যদিও সংগঠনটির মহাসচিব সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছেন তারা সরকারকে কোনো বিষয়ে কোনো ‘মুচলেকা’ দেননি।

তবে গত মাসে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের পর এর সংগঠনটির যেসব নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আটক আছে তাদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর আশা করছে সংগঠনটি। একে হেফাজতের প্রতি সরকারের নমনীয় মনোভাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই গণমাধ্যমের খবর এসেছে যে নেতা কর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের শর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে ‘বিব্রত না করার অঙ্গীকার’ করেছে সংগঠনটির নেতারা।

অন্যদিকে সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ ‘ঠিকঠাক’ করার অংশ হিসেবে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোকেও নিজেদের দিকে টানা বা রাখার কৌশল হিসেবেই হেফাজতের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বিবিসি বাংলাকে বলেছে তারা সরকারকে কোনো বিষয়ে মুচলেকা দেননি তবে রাজনীতিতে না জড়ানোর বিষয়ে হেফাজতের আগের সিদ্ধান্তই বহাল আছে যে সংগঠনটি দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বলছেন আগে ভুল করে হেফাজত ‘বিএনপির ফাঁদে পা’ দিয়েছিলো এবং পরে সেই ভুল তারা বুঝতে পেরেছে।

আর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলছেন যে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সবার কথা শুনেন এবং হেফাজতে ইসলামের নেতাদের কথাও শুনেছেন।

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে এক সমাবেশের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলো হেফাজতে ইসলাম। এরপর সংগঠনটি কোনো কোনো ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের বিপক্ষে গেলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের সাথে আলোচনায় এসে বিভিন্ন দাবি আদায় করেছে।

তবে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে সংগঠনটির একজন নেতা মামুনুল হকের ভূমিকা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো। পরে তিনি ভিন্ন অভিযোগে আটক হয়ে এখন জেলে। অন্যদিকে আরও কিছু ঘটনায় মামলার আসামি হয়ে আটক হয়েছেন এর কমপক্ষে পনের জন নেতা।

আড়াইশর বেশি মামলাও আছে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হেফাজত ইসলামের নেতারা বহুবার এসব মামলা তুলে নিয়ে আটক নেতাদের মুক্তির আর্জি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

এমনকি সরকারকে বিব্রত না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু তারপরেও সুনির্দিষ্ট কয়েকজন নেতা ও তাদের মামলার বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাবে পরিবর্তন আসছিলো না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে যে ধারনা পাওয়া গেছে সেটি হলো নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের বিভিন্ন দাবিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

সে কারণেই বিএনপি ও জামাতসহ তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলো ব্যতিরেকে বাকীদের হয় আওয়ামী লীগের দিকে নিয়ে আসা নয়তো নিরপেক্ষ ভূমিকায় দেখতে চাইছে সরকার।

যেহেতু হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কিছু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতা আছেন এবং তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে অনেকে মনে করেন সেই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে আগেই নিশ্চয়তা চায় সরকার যে সংগঠনটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহৃত হবে না।

ইতোমধ্যে সংগঠনটির দাবি মেনে সরকার এবারো বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সা’দ কান্দালভীকে আসার অনুমতি দেয়নি। আবার তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী মুক্তিও পেয়েছেন, যারা বিভিন্ন অভিযোগে আটক হয়ে জেলে ছিলেন।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বলছেন তারা গত সতেরই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে নেতাদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার সহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন।

“আমরা দাবিগুলো তুলেছি। মামলাগুলো নিয়ে কাজ চলছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আবারো কথা হবে। কিন্তু আমরা কোথাও কোনো মুচলেকা দেইনি। মুচলেকা দেয়ার তো কিছু নেই কারণ হেফাজতে ইসলাম তো রাজনৈতিক দল না। এখানে যারা রাজনৈতিক নেতা তাদের নিজস্ব আলাদা দল আছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মূলত ওই বৈঠকের পর থেকেই সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সমঝোতা ও রাজনৈতিক কোনো ইস্যুতে না জড়ানোর বিষয়ে মুচলেকা দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও সংগঠনটির একটি সূত্র জানিয়েছে হেফাজত নেতাদের মধ্যে মামুনুল হকের বিষয়ে সরকারের তীব্র আপত্তি আছে কারণ তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ করার নামে সরকার বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছে বলে সরকার মনে করছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হেফাজত নেতাদের বৈঠকগুলোতেও মিস্টার হকের বিষয়ে কোনো ছাড় না দেয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিলো।

এ কারণেই এখন সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে এর কোনো নেতা সরকার বিরোধী প্রচারণা বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হেফাজতকে ব্যবহার করবে না।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বিবিসি বাংলাকে বলছেন অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলাম তাদের পরিমণ্ডলে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক এবং তারা তাদের যৌক্তিক দাবী দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলে সরকার সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নিতেই পারে।

তাছাড়া সামনে নির্বাচন আসছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনি নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলছে। সে কারণে নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো যেন বিরোধীদের দিকে হেলে না পড়ে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও মনে করেন অনেকে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলছেন সামনে নির্বাচনে সব দল নির্বাচনে আসবে এবং সরকার সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

পাশাপাশি অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোও প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলছেন এবং হেফাজতসহ যে কারও আইনসিদ্ধ প্রস্তাবগুলোর প্রতি সরকার সবসময়ই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে।

তবে হেফাজতে ইসলামিতে বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় ছিলেন এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে গত প্রায় দু বছর ধরেই সংগঠনটি সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে। বিশেষ করে এর সাবেক আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর সংগঠনটির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ শক্ত হয় বলে এর নেতাদের অনেকে বলেছেন।

এখন নির্বাচনের বছরে এসে সরকার ও হেফাজতে ইসলাম- উভয়েই নিজেদের মধ্যকার বিরোধের জায়গাগুলো নিষ্পত্তি করে আরও স্বস্তিতে থাকতে চাইছে বলে মনে করছেন তাদের কেউ কেউ।

হেফাজত নেতা মীর ইদ্রিস বলছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর চলতি মাসের মাঝামাঝি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আবারো বৈঠক করেছেন তারা।

“মামলাগুলোর বিষয়ে তথ্য আমরা সংগ্রহ করছি। এরপর আবার আলোচনা হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

-বিবিসি বাংলা

Continue Reading