Connect with us

জাতীয়

বৃক্ষ এবং প্রকৃতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

Avatar photo

Published

on

প্রধানমন্ত্রীস্টাফ রিপোর্টার:
সুন্দরবন রক্ষায় অংশ নিয়ে বাঘ ও প্রকৃতি বাঁচাতে এগিয়ে আসার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল দ্বিতীয় বিশ্ব বাঘ স্টকটেকিং সম্মেলন এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাঘ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্ব একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত নেয়া কর্মসূচির মূল্যায়ন ও ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। বাঘ হত্যা ও বাঘের আবাসস্থল সঙ্কোচনের ফলে এই প্রাণীটি এখন বিলুপ্তির পথে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, গত একশ বছরে বাঘের সংখ্যা এক লাখ থেকে কমে তিন হাজার সাতশতে দাঁড়িয়েছে।
বাঘ আছে এমন সব দেশের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন সকলে মিলে আমরা বাঘ বাঁচাই, প্রকৃতি বাঁচাই।” বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষার পাশাপাশি এর আবাসস্থল সুন্দরবন রক্ষার জন্যও সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। “শুধু বাঘ রক্ষাই নয়, প্রাণী বৈচিত্রের বিপুল আধার হিসেবে সুন্দরবনকে রক্ষা করা জরুরি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীব-পরিবেশের এক অনন্য নিদর্শন এই সুন্দরবন। আমি বিশ্ব সম্প্রদায়কে সুন্দরবন রক্ষায় অংশ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।” বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সমুদ্র উপকূলবর্তী প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রউচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, সাইক্লোন, লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশের কারণে সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। “এই বনভূমির উপর প্রায় ১২ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। এসব কর্মকাণ্ড বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।” বাঘ না থাকলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব অনেক আগেই বিলীন হয়ে যেত মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বাঘ রক্ষা করে সুন্দরবনকে। আর, সুন্দরবন রক্ষা করে বাংলাদেশকে। “আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বিগত দুই বছরে বাংলাদেশে কোনো বাঘ হত্যা হয়নি। পূর্বে বছরে মানুষের হাতে গড়ে ৩-৪টি বাঘের মৃত্যু হতো। বাঘের আক্রমণে মানুষ মৃত্যুর সংখ্যাও ২৫-৩০ জন থেকে কমে মাত্র চার জনে এসে দাঁড়িয়েছে।” বন বিভাগের আয়োজনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বাঘ সংরক্ষণে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ২০০০ সালে গ্লোবাল টাইগার ফোরামের প্রথম সাধারণ সম্মেলনও ঢাকাতেই হয়েছিল। হোটেল সোনারগাঁওয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি আপনাদের সকলকে আশ্বস্ত করতে চাই, বাঘ রক্ষায় আমাদের সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।” জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, বনভূমি ধ্বংস এবং সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাপে বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল দিন দিন কমে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাঘের বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় বিশ্ব বাঘ স্টকটেকিং সম্মেলন তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে। এশিয়ার প্রকৃতি ও সংস্কৃতিতে বাঘ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বাঘ-অধ্যুষিত অনেক দেশেই এটি জাতীয় প্রাণী হিসাবে ঘোষিত এবং শৌর্য ও বীর্যের প্রতীক। বাঘ সংরক্ষণে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ২০১০ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার ঘোষণা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বনেতারা ঐকমত্যে পৌছান। এরপর ২০১২ সালের অক্টোবরে ভুটানের থি¤পুতে বাঘ-অধ্যুষিত দেশগুলোর মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলনে বাঘ সংরক্ষণে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নয় দফা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। থি¤পু সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে চীনের কুনমিংয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে বাঘের আন্তঃসীমান্ত আবাসস্থল রক্ষা ও বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা বন্ধে একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
থি¤পুতে নেয়া নয় দফা কর্মপরিকল্পনার আলোকে ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করে ঢাকায় একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রণয়নসহ বাঘ রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে সুন্দরবনসহ সারাদেশে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। অসুস্থ বাঘের সেবা দিতে খুলনায় একটি ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনসাধারণের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বন্যপ্রাণীর আক্রমণে নিহত বা আহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে নীতিমালা প্রণয়ন করেছি।” পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সচিব মো. নজিবুর রহমান, বিশ্ব ব্যাংকের স্থায়ী প্রতিনিধি জোহানের জুট, গ্লোবাল টাইগার ফোরামের মহাসচিব রাজেশ গোপাল, গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভের গ্রোগ্রাম ম্যানেজার আন্দ্রে ভি কুশলিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুস আলী।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

বই মেলায় আইয়ুব রানার ‘রকমারী ছড়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

Avatar photo

Published

on

অর্ধ সাপ্তাহিক সুবাণী সম্পাদক আইয়ুব রানা রচিত ‘রকমারী ছড়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গত সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলমান অমর একুশে বইমেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন দৈনিক দেশেরপত্রের সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী। আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বজ্রশক্তির সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা, দানবীর সেখ সইদুল ইসলাম (কলকাতা), বইয়ের রচয়িতা আইয়ুব রানা প্রমুখ।

বইয়ের রচয়িতা আইয়ুব রানা জানান, বইটি একুশে বইমেলার ৩৮৪নং উচ্ছ্বাস প্রকাশনীর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। এ সময় তিনি ছড়া প্রেমিদের বইটি সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান।

Continue Reading

জাতীয়

ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএসসিসির অভিযান

Avatar photo

Published

on

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দক্ষিণ বনশ্রী ও পশ্চিম নন্দীপাড়া সংযোগ সড়ক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডিএসসিসি। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে দক্ষিণ বনশ্রী কে ব্লক ও পশ্চিম নন্দি পাড়া সংযোগ সড়কে অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত একটি বাড়ির দেয়াল ও গেট ভেঙে দেয়া হয়। ইফতেখার মাহমুদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি রাস্তা দখল করে এই দেয়াল ও গেট নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, দফায় দফায় এই বাড়ির মালিক রাস্তাটি দখল করে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করেন। ফলে স্থানীয়দের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই সড়কটি দখলমুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের।

অভিযান প্রসঙ্গে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ইতিপূর্বে এখানে অভিযান চালিয়ে দুই বার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেন তা পুনরায় দখল করে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করা হয়। তাই স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেয়ালটি জায়গাটি সম্পূর্ণরূপে দখলমুক্ত করতে আজকের এই অভিযান চালানো হয় বলে জানান তিনি।

Continue Reading

Highlights

দেশকে এগিয়ে নেব, এটিই প্রতিজ্ঞা: প্রধানমন্ত্রী

Avatar photo

Published

on

সারা বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি থাকলেই প্রগতি ও উন্নতি আসে। বাঙালি শান্তিতে বিশ্বাস করে। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।

তিনি বলেন, শান্তি থাকলেই কিন্তু প্রগতি আসে, উন্নতি হয়, এগিয়ে চলা যায়। সেটিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, এভাবেই আমরা এগিয়ে যেতে চাচ্ছি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব, এটিই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৪ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সারাবিশ্বের যুদ্ধ বন্ধ হোক। বন্ধ হোক অস্ত্র প্রতিযোগিতা। এ অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যে অর্থ (খরচ করা হচ্ছে), তা মানুষের জ্ঞানবিজ্ঞান, গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন, নারী ও শিশুর বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশের উন্নয়নসহ বিশ্বের উন্নয়নের নানান কাজে ব্যয় হোক।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালি জাতি নিজের মাতৃভাষাকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য মহান আত্মত্যাগ করেছে। মাতৃভাষা রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বাঙালি জাতি রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা দিয়ে গেছে।

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. হাকিম আরিফ।

Continue Reading