Connect with us

জাতীয়

যুদ্ধাপরাধের বিচারের কী মূল্যায়ন করছেন ভুক্তভোগীরা?

Avatar photo

Published

on

%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-1যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সন্তুষ্ট ভুক্তভোগী পরিবার গুলো

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন
যুদ্ধাপরাধের বিচারে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বাংলাদেশে। মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়া আরো ২২ জনের মামলা উচ্চ আদালতে চুড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
৭১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্তরা বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিল। বিচারের এ পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করছেন। কিন্তু সব যুদ্ধাপরাধীর বিচারের শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান রাখার জোরালো দাবি রয়েছে।
ফাঁসি কার্যকর হওয়া মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের অন্যতম অপরাধ ১৯৭১ সালে জুলাই মাসে শেরপুর জেলার সোহাগপুরে ১৪৪ জন হত্যা ও নারী নির্যাতনের পরামর্শদাতা হিসেবে। শেরপুর জেলার ভারত সীমান্তবর্তী জায়গাটি পরিচিত বিধবা পল্লী নামে । ওইদিন যে ৬৪ জন নারী বিধবা হন তাদের মধ্যে এখনো ২৯ জন জীবিত আছেন।
এদের একজন সমলা বেওয়া হারিয়েছেন তার স্বামী এবং সন্তান। তিনি বলছিলেন, “কামারুজ্জামানের বিচার হইছে হেইডাতো আমরা হুনছি, এহন কাদির ডাকতর যে রইছে, আরো যে বদররা রইছে এডির বিচার হইলে আমগো আত্মাডাতো আগুনডা কিছুডা নিববো।”
বিধবা পল্লীর একটি গণকবরে ৬৯ জনের নামের তালিকা রয়েছে। এ জায়গায় জালাল উদ্দীন তার পরিবারের সাত জনকে মাটিচাপা দিয়েছিলেন। জালাল উদ্দীন বলেন, “আমাদের সোহাগপুরে বিধবারা, শহীদ পরিবারের সন্তানরা খুশী হইছেন। কিন্তু আরো যারা স্থানীয় রাজাকার, আলবদররা আছে তাদের বিচারডা সম্পন্ন হইলে সবাই শান্তি পাবে।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের ঠিক আগে প্রায় দুই হাজার শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে হত্যা করা হয়। পাকিস্তানিদের বাঙালী সহযোগী আলবদর বাহিনী এ হত্যায় যুক্ত ছিল।
অন্য আরো অভিযোগের সাথে বুদ্ধিজীবী হত্যায় নেতৃত্বের দায়ে শাস্তি হয়েছে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও

nizamiমৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর

৭১-এ ডিসেম্বর মাসে আলবদর সদস্যদের হাতে অপহৃত সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেনের পূত্র জাহিদ রেজা নূর বলেন, “একটা সময়তো মনে হয়েছিল যে যুদ্ধাপরাধীদের আর বিচারই হবে না। একাত্তরে যারা সবচাইতে বেশি অপরাধ করেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের একে একে ফাঁসি হলো, এবং তাদেরও ফাঁসি হলো একসময় আমরা যাদেরকে মন্ত্রীও হতে দেখেছি এই বাংলাদেশে।”
মিস্টার নূর মনে করেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলমান থাকতে হবে। কেননা, “যাদের ব্যাপারে মানুষ এখনো একটা যন্ত্রণা বোধ করে, যারা ভীষণ রকম নৃশংস হয়েছে, তখনকার সাড়ে সাত কোটি মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং খুন করেছে, ধর্ষণ করেছে বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে তাদেরকেও এ বিচারের আওতায় আনা উচিৎ বলে মনে করি। পরবর্তী প্রজন্ম যেন বলতে পারে যে ১৯৭১ সালে যারা অন্যায় করেছে, যারা অপরাধ করেছে তাদের কোনো ক্ষমা নেই” ।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধের দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং গবেষণা করছেন ডা. এম এ হাসান। ৭১-এ স্বজন হারানো এই মুক্তিযোদ্ধা ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক।
১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই সংগঠন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ১,৭৭৫ জনের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে প্রধান অপরাধী পাকিস্তানী সৈন্য ৩৬৯ জন, যার ১৪৫ জন শীর্ষ অপরাধী। এছাড়া বাঙালী সহযোগী রাজাকার-আলবদর, শান্তি কমিটির আছে ১,৩২৮ জন ও বিহারী হিসেবে পরিচিত দালাল ৭৮ জন।

%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a6আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে

মিস্টার হাসান বলেন, “অন গ্রাউন্ড যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যার প্রমাণ রয়েছে তাদের ইন অ্যাবসেনশিয়া হলেও বিচার হওয়া উচিৎ। আমি আমার ভাইকেসহ হাজার হাজার ভুক্তভোগীদের জানি যাদেরকে হত্যা করেছিল বিহারী মুজাহিদ, মিলিশিয়া এবং ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মস ফোর্সের সদস্যরা। সেই বিহারী অবাঙালি সদস্যদের কিন্তু একজনকেও আমরা বিচার করতে পারিনি।”
তিনি বলেন, এদের একটা বড় তালিকা আমরা দিয়েছিলাম যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দাঁড় করানো হয়নি বা সেটি তদন্ত বা বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল থেকেই সম্ভব বলে উল্লেখ করেন এম এ হাসান।

s-u-kaderমৃত্যুদণ্ড হয়েছে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর

তিনি বলেন, “এদের বিচার না হলে আমরা এই সুযোগ করে দিচ্ছি পাকিস্তানিদের বলার জন্য যে একাত্তরে তারা কোনো অপরাধ করেনি। যেটা অপরাধ করেছে, যা কিছু হয়েছে বাঙালিদের দুটি পলিটিক্যাল গ্রুপের মধ্যে। আমরা কিন্তু সেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিচার করছি না, তাদের যারা সহায়ক। যারা আমাদের বুদ্ধিজীবীদের সাথে মিলে মিশে গেছে, তাদেরকেও আমরা বিচার করছিনা।”
মিস্টার হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। কাউকে কোনো রাষ্ট্র বা ব্যক্তি এ অপরাধ থেকে ছাড় দিতে পারেনা।
তিনি বলেন, “আমাদের আইনগুলো যথেষ্ট সমৃদ্ধ অ্যান্ড ভেরি মাচ কনসিসটেন্ট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের যে সমস্ত আইন রয়েছে। এরকম একটা বিচারের জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন এবং রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন।”
কিন্তু বিচারটি সকল প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং সেইসাথে আকাঙ্ক্ষাটি হতে হবে সম্পূর্ণ মানবিক এবং সভ্যতার যে মূল্যবোধ আছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ – বলেন মিস্টার হাসান।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

বই মেলায় আইয়ুব রানার ‘রকমারী ছড়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

Avatar photo

Published

on

অর্ধ সাপ্তাহিক সুবাণী সম্পাদক আইয়ুব রানা রচিত ‘রকমারী ছড়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গত সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলমান অমর একুশে বইমেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন দৈনিক দেশেরপত্রের সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী। আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বজ্রশক্তির সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা, দানবীর সেখ সইদুল ইসলাম (কলকাতা), বইয়ের রচয়িতা আইয়ুব রানা প্রমুখ।

বইয়ের রচয়িতা আইয়ুব রানা জানান, বইটি একুশে বইমেলার ৩৮৪নং উচ্ছ্বাস প্রকাশনীর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। এ সময় তিনি ছড়া প্রেমিদের বইটি সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান।

Continue Reading

জাতীয়

ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএসসিসির অভিযান

Avatar photo

Published

on

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দক্ষিণ বনশ্রী ও পশ্চিম নন্দীপাড়া সংযোগ সড়ক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডিএসসিসি। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে দক্ষিণ বনশ্রী কে ব্লক ও পশ্চিম নন্দি পাড়া সংযোগ সড়কে অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত একটি বাড়ির দেয়াল ও গেট ভেঙে দেয়া হয়। ইফতেখার মাহমুদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি রাস্তা দখল করে এই দেয়াল ও গেট নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, দফায় দফায় এই বাড়ির মালিক রাস্তাটি দখল করে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করেন। ফলে স্থানীয়দের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই সড়কটি দখলমুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের।

অভিযান প্রসঙ্গে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ইতিপূর্বে এখানে অভিযান চালিয়ে দুই বার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেন তা পুনরায় দখল করে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করা হয়। তাই স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেয়ালটি জায়গাটি সম্পূর্ণরূপে দখলমুক্ত করতে আজকের এই অভিযান চালানো হয় বলে জানান তিনি।

Continue Reading

Highlights

দেশকে এগিয়ে নেব, এটিই প্রতিজ্ঞা: প্রধানমন্ত্রী

Avatar photo

Published

on

সারা বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি থাকলেই প্রগতি ও উন্নতি আসে। বাঙালি শান্তিতে বিশ্বাস করে। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।

তিনি বলেন, শান্তি থাকলেই কিন্তু প্রগতি আসে, উন্নতি হয়, এগিয়ে চলা যায়। সেটিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, এভাবেই আমরা এগিয়ে যেতে চাচ্ছি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব, এটিই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৪ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সারাবিশ্বের যুদ্ধ বন্ধ হোক। বন্ধ হোক অস্ত্র প্রতিযোগিতা। এ অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যে অর্থ (খরচ করা হচ্ছে), তা মানুষের জ্ঞানবিজ্ঞান, গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন, নারী ও শিশুর বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশের উন্নয়নসহ বিশ্বের উন্নয়নের নানান কাজে ব্যয় হোক।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালি জাতি নিজের মাতৃভাষাকে মর্যাদা দেওয়ার জন্য মহান আত্মত্যাগ করেছে। মাতৃভাষা রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বাঙালি জাতি রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা দিয়ে গেছে।

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. হাকিম আরিফ।

Continue Reading