রংপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে নিহতের পরিবারসহ ২, ক্ষতিগ্রস্থরা কোন সাহায্য পাননি
রংপুর প্রতিনিধি:
গত মঙ্গলবার রাতে রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো এখনও কোন সরকারি সাহায্য পাননি। ঝড়ে অসংখ্য ফসলীজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর লন্ডভন্ড হয়েছে। আহত অবস্থায় ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উপজেলায় জড়ের কারনে বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টায় ওই দুই উপজেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। জড়ে পীরগঞ্জ উপজেলার প্রজাপাড়া, ওসমানপুর, চককরিম, খালাশপীর, গুর্জিপাড়া, ভেন্ডাবাড়ী, পতিœচড়া, কাশিমপুর, করিম লক্ষীপুর, কুমেদপুর, চতরা, লালদীঘি মেলা, মাদারগঞ্জ, খেজমতপুরসহ শতাধিক গ্রামের ছোট-বড় ১০ সহস্্রাধিক গাছপালা উপড়ে ও ভেঙ্গে পড়ে। এছাড়াও ২শতাধিক কাঁচা ও আধা-পাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলার খেজমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মহদিপুর দাখিল মাদ্্রাসা, রামনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়, লালদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়, বটেরহাট আরডিআরএস দাখিল মাদ্রাসা, নখারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনিকৃকৃষ্ণ সেন ডিগ্রী কলেজসহ ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনসেড ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে বড়আলমপুর ইউনিয়নের বাঁশফুকুরিয়ার মন্ডলপাড়ার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে বৃদ্ধ আব্দুল লতিফ দেয়াল চাপা পড়ে নিহত হয়। শত শত বিঘার ভুট্টাক্ষেত, কলা, আম বাগানসহ উঠতি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের এই ক্ষতিতে কৃষকের মারাত্মাক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস সূত্র জানায়। এ দিকে মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে কালবৈশাখী ঝড়ে সহস্রাধিক কাঁচাবাড়ি লন্ডভন্ড হয়েছে। ঝড়ে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। তারা টিনের আঘাতে ও গাছ চাপা পড়ে আহত হন। আহতদের মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুর এলাকায় গাছ ওপড়ে পড়ায় মঙ্গলবার রাত তেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত বেলা পর্যন্ত ৯ ঘন্টা ওই সড়ক পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সকাল ৯টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হাসান বিষটি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া এক তথ্যে জানা গেছে জড়ের কারনে দুই উপজেলায় ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৫ শতাধিক বাড়িঘরের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উঠতি ফসলসহ আমা বাগানের প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার বেগে রংপুর, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়।